ফুটবল খেলা নিয়ে কয়েকজন কিশোরের কথা-কাটাকাটি। পরে সেই বিরোধ ছড়িয়ে পড়ে দুই পাড়ার বাসিন্দাদের মধ্যে। সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত চলে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও সংঘর্ষ। হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে এ ঘটনায় শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে আহত ব্যক্তিদের প্রকৃত সংখ্যা ও পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
রোববার সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত বানিয়াচং সদর এলাকার তোপখানা ও চাঁনপাড়া মহল্লার বাসিন্দাদের মধ্যে কয়েক দফায় এ সংঘর্ষ হয়। আহত কয়েকজনকে হবিগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যদের বানিয়াচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
জানা যায়, তোপখানা মহল্লার কয়েকজন কিশোর স্থানীয় জুয়েল মাঠে ফুটবল খেলতে গিয়েছিল। খেলার একপর্যায়ে চাঁনপাড়া মহল্লার কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে তাদের কথা-কাটাকাটি হয়। পরে বিষয়টি দুই মহল্লায় ছড়িয়ে পড়লে উভয় পক্ষের লোকজন জড়ো হন।
এরপর শুরু হয় সংঘর্ষ। দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে দেশীয় অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের কাছ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে খবর পেয়ে বানিয়াচং থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সংঘর্ষকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কয়েকটি টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। পরে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, বিভিন্ন মহল্লার সরদার ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় রাত ১১টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
সংঘর্ষের পর আহত ব্যক্তিদের কেউ কেউ হবিগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে যান। অন্যদের বানিয়াচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে কতজন আহত হয়েছেন, সে বিষয়ে হাসপাতাল ও পুলিশের কাছ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে নির্দিষ্ট সংখ্যা পাওয়া যায়নি।
বানিয়াচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ নাজমুল হক বলেন, ‘বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। আবার সংঘর্ষ এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘সংঘর্ষে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, সে জন্যও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।’



