সিলেটে স্বাভাবিক হচ্ছে না বিদ্যুৎ সরবরাহ। ঘন্টার পর ঘন্টা বিদ্যুৎ বিভ্রাটে অতীষ্ট জনজীবন। একই সাথে ব্যাহত হচ্ছে শিল্পকারখানার উৎপাদনও। ঘনঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও ভোল্টেজ ওঠানামায় করায় উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি ছাড়াও বিকল হয়ে পড়ছে যন্ত্রপাতিও। এতে কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি লোকসানের মুখে পড়ছে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো।
শিল্প মালিকদের অভিযোগ, গত পাঁচ থেকে ছয় মাস ধরে শিল্পনগরীতে প্রতিদিন সাত থেকে আটবার বিদ্যুৎ বিভ্রাট হচ্ছে। কোনো কোনো দিন তিন থেকে পাঁচ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকে না। আবার বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকলেও ভোল্টেজ ওঠানামা করায় বিভিন্ন যন্ত্রাংশ পুড়ে যাচ্ছে।
এ অবস্থায় ঘনঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও ভোল্টেজের ওঠানামা নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের প্রধান প্রকৌশলীর কাছে চিঠি দিয়েছে বিসিক শিল্প মালিক সমিতি। চিঠিতে বলা হয়, গত পাঁচ থেকে ছয় মাস ধরে গোটাটিকর বিসিক শিল্পনগরীতে প্রতিদিন প্রায় ৭ থেকে ৮ বার বিদ্যুৎ বিভ্রাট হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতিদিন ৩ থেকে ৫ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকার অভিযোগ করা হয়েছে।
নগরীর গোটাটিকর বিসিক শিল্পনগরীতে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং কৃষি যন্ত্রপাতি তৈরিসহ বিভিন্ন খাতের প্রায় ৪০টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত প্রতিদিন আট ঘণ্টা উৎপাদন চলে। কিন্তু ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে এখন চার থেকে পাঁচ ঘণ্টার বেশি কার্যকরভাবে মেশিন চালানো যাচ্ছে না। ফলে উৎপাদন সক্ষমতার বড় একটি অংশ কাজে লাগানো সম্ভব হচ্ছে না।
শিল্প উদ্যোক্তারা জানান, বিদ্যুৎ না থাকলে উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ রাখতে হয়। আবার ভোল্টেজ কমে গেলেও মেশিন ঠিকভাবে চালানো যায় না। দীর্ঘ সময় ভোল্টেজের ওঠানামা করলে যন্ত্রাংশ পুড়ে গিয়ে মেরামত বা নতুন যন্ত্রাংশ কেনার অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হয়। জেনারেটর ব্যবহার করেও সব ধরনের মেশিন চালানো সম্ভব হয় না।
এতে শুধু উৎপাদন কমছে না, প্রতিষ্ঠানগুলোর অন্যান্য ব্যয়ও বাড়ছে। উদ্যোক্তাদের দাবি, উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় ব্যাংকঋণের কিস্তি পরিশোধ, সরকারি কর দেওয়া এবং কারখানার নিয়মিত খরচ মেটানো কঠিন হয়ে পড়ছে।
এ পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ সরবরাহের সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সিলেটের প্রধান প্রকৌশলীর কাছে লিখিতভাবে আবেদন করেছে বিসিক শিল্প মালিক সমিতি। শিল্পাঞ্চলের জন্য বিশেষ ব্যবস্থায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন তারা।
তামাম পিভিসি ইন্ডাস্ট্রির প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) মোকাদ্দেস হোসেন বলেন, ‘ছোট প্রতিষ্ঠান হিসেবে আমাদের যে হারে ক্ষতি হচ্ছে, বড় প্রতিষ্ঠানগুলোরও একই আনুপাতিক হারে ক্ষতি হচ্ছে। তাই শিল্পাঞ্চলের জন্য বিশেষ ব্যবস্থায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’
বিসিক শিল্প মালিক সমিতি সিলেটের সভাপতি আলীমুল এহছান চৌধুরী বলেন, ‘ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মধ্যে বারবার ভোল্টেজ ওঠানামা করছে। এতে একদিকে ঠিকমতো মেশিন চালানো যাচ্ছে না, অন্যদিকে ভোল্টেজের ওঠানামার কারণে মেশিন বিকল হয়ে যাচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘গত কয়েক মাসে মেশিন বিকল হওয়ায় বেশ ক্ষতির মধ্যে পড়তে হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে আগামীতে আরও ক্ষতির পরিমাণ বাড়বে।
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সিলেট মহানগর ও আশপাশের শহরাঞ্চলে পিডিবির আওতায় বিদ্যুতের চাহিদা ১৭০ থেকে ২০০ মেগাওয়াট। জেলা ও বিভিন্ন উপজেলায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতায় চাহিদা প্রায় ৩০৭ মেগাওয়াট। জাতীয় গ্রিড থেকে বর্তমানে সিলেটে ১৪০ থেকে ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে বলে সূত্র জানিয়েছে।
সিলেট পিডিবির প্রধান প্রকৌশলী ইমাম হোসেন বলেন, ‘ বিদ্যুৎ বিভ্রাটের বিষয় জাতীয় ইস্য।’ তবে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি আগের তুলনায় এখন অনেকটা উন্নতি হচ্ছে বলে জানান তিনি।



