নুরুননেছা চৌধুরী :
কৈশোরবেলা থেকেই সালমা বখত চৌধুরীর লেখালেখিতে হাতেখড়ি। দীর্ঘকাল ধরে তিনি স্থানীয় ও জাতীয় পত্র-পত্রিকায় ছড়া, কবিতা, নিবন্ধ ও প্রবন্ধ লিখে চলেছেন। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘ঝরাপাতার কষ্ট’ (কবিতা-২০০২), ‘নীল বেদনায় সুখের ছোঁয়া’ (কবিতা-২০০৩), ‘হৃদয় সৈকতে পূর্ণিমা’ (গল্প-২০০৪), ‘জীবন সেতো রংধনু’ (প্রবন্ধ-২০০৮), ‘আলোয় জলে খেলা’ (কবিতা-২০১১) এবং ‘অস্ফুট সংলাপ’ (প্রবন্ধ-২০১২)।
এই ধারাবাহিকতায় সিলেটের সৃজনশীল প্রকাশনা সংস্থা ‘পাণ্ডুলিপি প্রকাশন’ থেকে সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে তাঁর সপ্তম গ্রন্থ ‘মৃত্তিকা থেকে মহাকাশ’। লেখক ও প্রকাশক বায়েজীদ মাহমুদ ফয়সলের সৌজন্যে গ্রন্থটি পড়ার সুযোগ হয়েছে। বক্ষ্যমাণ এই কাব্যগ্রন্থে কবির কাব্যপ্রতিভার এক অনন্য উন্মেষ ঘটেছে।
সালমা বখত চৌধুরী মূলত একজন স্বাধীনতাকামী কবি। তিনি সমাজ ও রাষ্ট্রের সবার অবদানকে মূল্যায়ন করেই প্রশান্তির খোঁজ করেন। তবে এই অন্বেষণের মধ্যেও তিনি সামাজিক দায়বদ্ধতা ও নৈতিকতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে ছাড়েননি। তিনি কখনো ভুলে যাননি স্বাধীনতা অর্জনে সেই সকল বীরাঙ্গনা নারীর কথা, যারা নিজেদের সম্ভ্রম হারিয়েছেন। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে তাঁদের চরম দৈন্যদশা ও অবহেলার চিত্র তিনি অত্যন্ত পারঙ্গমতার সাথে ফুটিয়ে তুলেছেন।
একই সাথে সালমা বখত চৌধুরী এক বিশ্বমানবিক কবি। পৃথিবীর যেখানেই মানবতা লাঞ্ছিত, নির্যাতিত কিংবা নিপীড়িত; তাঁর কলম ঠিক সেখানেই গর্জে উঠেছে। গভীর নৈতিক এবং মানবিক বোধ কবিকে এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর শক্তি দান করেছে। এজন্যই ইসরাঈলি বাহিনীর নির্মম আঘাতে ফিলিস্তিনের গাজা যেভাবে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে, তার জীবন্ত ও মর্মস্পর্শী চিত্র উঠে এসেছে তাঁর কবিতায়।
সালমা বখত চৌধুরীর কবিতায় সৃষ্টিকর্তার সাথে সৃষ্টির প্রেম-সম্পর্ক, দায়িত্ব-কর্তব্যবোধ, দেশপ্রেম, নৈতিকতা, মূল্যবোধ, নস্টালজিয়া, প্রেম-প্রকৃতি, স্নেহ-ভালোবাসা, মায়া-মমতা, সহানুভূতি, নিষ্ঠা, মানবিকতা, পরম আধ্যাত্মিকতা ও স্বজাত্যবোধের মতো বিষয়গুলো অত্যন্ত চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে। পরিশেষে, ‘মৃত্তিকা থেকে মহাকাশ’ কাব্যগ্রন্থটির বিপুল পাঠকপ্রিয়তা অর্জন করবে—এটাই প্রত্যাশা। আমি কবির সামগ্রিক কল্যাণ এবং এই চমৎকার গ্রন্থটির বহুল প্রচার কামনা করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *