সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনা

একসাথে দেশে ফেরার স্বপ্ন পূরণ হলো না করিম-খালিদের, ফিরবেন কফিনবন্দি হয়ে

একসাথে দেশে ফেরার স্বপ্ন পূরণ হলো না করিম-খালিদের, ফিরবেন কফিনবন্দি হয়ে

সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নের লামারতালুক গ্রামের বাসিন্দা করিম আহমদ ও খালিদ আহমদ। দীর্ঘদিন ধরে দুজনেই সৌদি আরবের আল-মাজমাহর হুরমা এলাকায় বসবাস করে আসছিলেন। দুজনের রয়েছে ভালো বন্ধুত্ব। চেয়েছিলেন দুজনেই এক সঙ্গে দেশে ফিরতে।

স্বপ্ন ছিল সন্তান-স্বজনদের সঙ্গে আনন্দে মেতে ওঠার। দেশে অপেক্ষা করছিল তাদের পরিবারও। কিন্তু সেই আনন্দই এখন রূপ নিয়েছে বিষাদে। সৌদি আরবের তায়েফ শহরের কাছে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন করিম আহমদ ও খালিদ আহমদ।

নিহত করিম আহমদ লামারতালুক গ্রামের আবু বক্করের ছেলে এবং খালিদ আহমদ একই গ্রামের কুতুব উদ্দিনের ছেলে। নিহতদের স্বজনরা বলছেন, তাদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করাই এখন একমাত্র প্রত্যাশা।

নিহতদের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন পর দেশে ফেরার উদ্দেশ্যে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় বিকেল তিনটার দিকে জেদ্দা বিমানবন্দরের উদ্দেশে বাসা থেকে রওনা হন করিম ও খালিদ। তাদের সঙ্গে গাড়িতে ছিলেন করিম আহমদের মেঝো ছেলে। বাবাকে দেশে ফেরার পথে জেদ্দা বিমানবন্দর পর্যন্ত এগিয়ে দিতে তিনি গাড়িতে উঠেছিলেন। তায়েফ শহরের কাছাকাছি পৌঁছালে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। ঘটনাস্থলেই করিম ও খালিদসহ চার বাংলাদেশি নিহত হন।

দুর্ঘটনায় করিম আহমদের মেজো ছেলেও গুরুতর আহত হয়েছেন। বাবার মৃত্যুর মর্মান্তিক দৃশ্য তাঁকে চোখের সামনে দেখতে হয়েছে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। করিম আহমদের বড় ছেলে কাতারে অবস্থান করছেন।

করিম আহমদ ছিলেন এক মেয়ে ও তিন ছেলের জনক। আর খালিদ আহমদের চার ছেলে ও চার মেয়েসহ আট সন্তান। পরিবারের উপার্জনক্ষম দুই ব্যক্তিকে হারিয়ে স্বজনেরা এখন দিশেহারা।

দুই প্রবাসীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর লামারতালুক গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে গ্রামের পরিবেশ।

স্থানীয় ও স্বজনরা জানান, খালিদ আহমদের তিন শিশুসন্তান বাবার ফেরার অপেক্ষায় ছিল। লামারতালুকের বাড়িতে গিয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাস্টার লোকমান উদ্দিন, ইউপি সদস্য ফজুর রহমানসহ প্রতিবেশীদের শিশুদের সান্ত্বনা দিতে দেখা যায়।

স্বজনেরা বলছেন, প্রিয় মানুষ দুটির লাশ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করাই এখন তাদের একমাত্র প্রত্যাশা। এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সৌদি দূতাবাসের কাছে দ্রুত মরদেহ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লোকমান আহমদ বলেন, করিম আহমদ ও খালিদ আহমদ দীর্ঘদিন থেকে সৌদিআরবে রয়েছেন। বাবাকে জেদ্দা বিমানবন্দরে বিদায় জানাতে করিম আহমদের ছেলেও গুরুতর আহত হয়েছেন। তিনি ওই গাড়িতে ছিলেন।

নামাজের সময়সূচি
  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৪:২১
  • ১১:৫৪
  • ৪:১৯
  • ৬:০৯
  • ৭:২৪
  • ৫:৩৫