ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেশগুলোতে সামগ্রিকভাবে আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা কমে পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। তবে এ সময়েও আশ্রয় আবেদনের সংখ্যায় শীর্ষ দেশগুলোর তালিকায় তৃতীয় অবস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত ইউরোপীয় ইউনিয়ন এজেন্সি ফর অ্যাসাইলামের (ইইউএএ) এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ইইউভুক্ত দেশগুলোর পাশাপাশি সুইজারল্যান্ড ও নরওয়েতে আন্তর্জাতিক সুরক্ষার জন্য মোট ৩ লাখ ৩২ হাজার আবেদন জমা পড়েছে। এ সংখ্যা ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় ১৭ শতাংশ কম এবং ২০২১ সালের পর বছরের প্রথমার্ধে সর্বনিম্ন। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে সবচেয়ে বেশি আশ্রয় আবেদন করেছেন আফগানিস্তানের নাগরিকরা, যার সংখ্যা প্রায় ৩৯ হাজার। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভেনেজুয়েলা এবং তৃতীয় অবস্থানে বাংলাদেশ। ২০২৫ সালের প্রথমার্ধে বাংলাদেশিদের আশ্রয় আবেদনের সংখ্যা ছিল ১৭ হাজার ৩২৭। ২০২৬ সালের একই সময়ে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ৫২১ জনে, যা প্রায় ১৩ শতাংশ বৃদ্ধি নির্দেশ করে।
তবে আশ্রয় আবেদনের সংখ্যা বাড়লেও বাংলাদেশিদের আবেদন অনুমোদনের হার অত্যন্ত কম। ইইউএএ জানিয়েছে, যেসব দেশের আবেদন মঞ্জুরের হার ২০ শতাংশের নিচে, সেসব দেশের আবেদন দ্রুত যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং প্রত্যাখ্যাত হলে দ্রুত নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশও এই তালিকায় রয়েছে। চলতি বছরের প্রথমার্ধে বাংলাদেশিদের প্রথম ধাপের আবেদন অনুমোদনের হার ছিল ৫ শতাংশেরও নিচে। অপেক্ষমাণ মামলার তালিকাতেও বাংলাদেশ শীর্ষ দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে। বর্তমানে প্রথম ধাপেই প্রায় ৩৬ হাজার বাংলাদেশির আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।



