জিয়া পরিবারের জাতিসংঘ জয়

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের একাদশ বিশেষ অধিবেশনে ভাষণ দেন ১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯৩, ২০০২ ও ২০০৫ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ অধিবেশনে ভাষণ দেন। তাদের সন্তান, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবার ৮১তম অধিবেশনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশের। জিয়া পরিবারের জাতিসংঘ জয় নিয়ে মানবজমিনে একটি মতামত লিখেছেন ডা: ওয়াজেদ খান। তিনি সাপ্তাহিক বাংলাদেশ সম্পাদক এবং নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব সভাপতি। তার এই লেখাটি আমার সিলেট পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো:

জিয়া পরিবারের জাতিসংঘ জয়

তারেক রহমান জিয়া পরিবারের দ্বিতীয় পুুরুষ। চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী। জাতিসংঘ জয় করতে নিউইয়র্ক আসছেন তিনি। সাধারণ পরিষদের বিশ্বমঞ্চে তার অভিষেক ২৪ সেপ্টেম্বর। এই মঞ্চেই তিনি তুলে ধরবেন নিজ পরিকল্পনার ‘নতৃন বাংলাদেশ’র রূপরেখা। ঘোষণা দেবেন অভ্যন্তরীণ, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার। বাংলাদেশ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য নির্বাচিত হয় ১৯৭৮ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়ার হাত ধরে। দীর্ঘ চার যুগ পর তারই পুত্র তারেক রহমানের নেতৃত্বে ৮১তম সাধারণ পরিষদের নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশ। তার কেবিনেটের পররাষ্ট্র মন্ত্রীর সভাপতিত্বেই বিশ্বসভায় ভাষণ দেবেন তারেক রহমান। বাবা-মা’র পর জাতিসংঘে তারেক রহমানের নেৃতত্ব বাংলাদেশকে পৌঁছে দেবে এক অনন্য উচ্চতায় এমন প্রত্যাশা দেশবাসীর।

সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমান বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী। শহীদ জিয়া ১৯৮০ সালে এবং খালেদা জিয়া ১৯৯৩, ২০০২ ও ২০০৫ সালে প্রতিনিধিত্ব করেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ অধিবেশনে। তারেক রহমান এবার ৮১তম অধিবেশনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশের। একই পরিবারের একাধিক সদস্য রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রাষ্ট্র পরিচালনা করেছেন, এমন অনেক দেশের নাম রয়েছে বিশ্ব ইতিহাসে। কিন্তু একই পরিবারের পিতা, মাতা ও তাদের সন্তান রাষ্ট্র শাসনকালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগদান করেছেন এমন কোনো নজির নেই। পৃথিবীর ইতিহাসে এটি একটি বিরল ঘটনা। দক্ষিণ আমেরিকার দেশ গায়ানার প্রেসিডেন্ট ডঃ চেদ্দি জাগান এবং তার স্ত্রী জ্যানেট জাগান দেশটির প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট ১৯৯৮ সালে যোগ দেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৫৩তম অধিবেশনে। এ সময় তাদের পুত্র চেদ্দি জাগান জুনিয়র এবং কন্যা নাদিরা জাগান সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিলেও তারা দেশটির সরকার বা রাষ্ট্রপ্রধান ছিলেন না। সেদিক থেকে জাতিসংঘের ইতিহাসে বাংলাদেশের জিয়া পরিবার এক ও অদ্বিতীয় অবস্থানে। এবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘে যোগদানের মধ্যদিয়ে সৃষ্টি হবে বিশ্ব ইতিহাসে নতুন রেকর্ড। এক দেশের একই পরিবারের তিনজনেরই জাতিসংঘে যোগদানের নজির রয়েছে বিশ্বের অন্যতম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ভারতের। তবে দেশটির প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুর কন্যা ইন্দিরা গান্ধী ও ইন্দিরা পুত্র রাজীব গান্ধী তিনজনই যোগ দেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে। কিন্তু তাতে ভিন্নতা রয়েছে সম্পর্কের। আবার বাংলাদেশসহ অনেক রাষ্ট্র শাসনকালে পিতা-পুত্র কিংবা পিতা-কন্যা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে যোগদান করেন, যেমন শেখ মুজিব ও তার কন্যা শেখ হাসিনা।ইতিহাসের বই পড়ুন

জাতিসংঘে জিয়া পরিবার

রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের একাদশ বিশেষ অধিবেশন ভাষণ দেন ১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট। জাতিসংঘে এমন এক সময়ে ৪৬ বছর আগে তিনি ভাষণ দেন বিশ্বে যখন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ছিল বিপর্যস্ত। স্নায়ু যুদ্ধের উত্তেজনায় পৃথিবী ছিল অস্থিতিশীল। তীব্র জ্বালানি সংকট, বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক বৈষম্য এবং ঋণে জর্জরিত অসহায় ছিল উন্নয়নশীল বিশ্ব। বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার ঘোষক, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কালজয়ী সেই ভাষণে তিনি কেবল বাংলাদেশের অর্থনৈতিক দুরবস্থার বর্ণনা কিংবা উন্নয়নশীল বিশ্বের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরেননি। তার ভাষণে উচ্চারিত হয় রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ অনেকগুলো প্রশ্ন। বিশেষ করে ছোট ও উন্নয়নশীল রাষ্ট্রগুলোর মর্যাদা, নিরাপত্তা ও স্বার্থ নিশ্চিত করা নিয়ে। বিশ্বে বাংলাদেশ নতুন পরিচিতি পায় জিয়াউর রহমানের শাসনামলে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতিতে যুক্ত হয় নতুন মাত্রা। তার সময়েই বিশ্বে বাংলাদেশ হয় বন্ধু পরিবেষ্টিত। লাভ করে নতুন মর্যাদা। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান জাতিসংঘ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল এবং বহুপক্ষীয় কূটনীতি জোরদার করতে। রাষ্ট্রপতি জিয়া পরিবর্তন আনেন দেশের আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে। বাংলাদেশকে মুসলিম বিশ্ব এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো কাছাকাছি নিয়ে যান তিনি। অনেক দেশ সফর এবং বহু আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগদান করে তিনি সমৃদ্ধ করেন দেশের বহুপাক্ষিক ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ ১৯৭৮ সালে নির্বাচিত হয় নিরাপত্তা পরিষদের একটি অস্থায়ী আসনে। দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক সহযোগিতার ধারণার সূচনা করেছিলেন রাষ্ট্রপতি জিয়া।

নিরাপত্তা পরিষদে বাংলাদেশ

বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে জাতিসংঘে যোগদান করে ১৯৭৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর। মাত্র ৪ বছরের মাথায় ১৯৭৮ সালের ১০ নভেম্বর, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য নির্বাচিত হয় বাংলাদেশ। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৩০তম অধিবেশনে বাংলাদেশ জাপানের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও ধনী দেশকে ভোটে পরাজিত করে। অবাক হন জাপানের কূটনীতিকরা। বিশ্বশান্তি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় সক্রিয় ভূমিকা রাখতে শুরু করে বাংলাদেশ। বিশ্বে চমৎকার ভাবমূর্তি তৈরি হয় দেশের। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন পরিচিতি লাভ করে বাংলাদেশ।এক অসাধারণ সম্মান ছিলো এটি বাংলাদেশের জন্য। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, এটা সম্ভব হয়েছিল প্রেসিডেন্ট জিয়ার ভাবমূর্তি ও গ্রহণযোগ্যতার কারণে। জিয়ার বৈদেশিক নীতির কারণে জাতিসংঘ সহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থায় শক্ত হয় বাংলাদেশের অবস্থান। নতুন দ্বার উন্মোচিত হয় মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন ও জনশক্তি রপ্তানির।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে খালেদা জিয়া

বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের তিনটি অধিবেশনে অংশ নেন। ১৯৯১ থেকে ৯৬ সাল পর্যন্ত প্রথম মেয়াদকালে ১৯৯৩ সালে সাধারণ পরিষদের ৪৮তম অধিবেশনে যোগ দেন বেগম খালেদা জিয়া। ২০০২ সালের মে মাসে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের শিশুবিষয়ক বিশেষ অধিবেশনে যোগদান ও ভাষণ দেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ২০০১ সালের অক্টোবর মাসে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি ছিল তার অন্যতম প্রধান আন্তর্জাতিক সফরও জাতিসংঘে অংশগ্রহণ। নিউইয়র্কে অবস্থানকালে তিনি বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারের প্রধানদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং আলোচনা করেন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে। এসময় তিনি বৈঠক করেন ইউএস সিনেটের প্রভাবশালী সিনেটর হিলারি ক্লিনটন ও কংগ্রেসম্যান গ্রেগরি মিক্্সের সাথে।

বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ২০০৫ সালে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত সাধারণ পরিষদের ষাটতম অধিবেশন যোগদান করেন। তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ওই অধিবেশনে। এই উচ্চ-স্তরের বিশ্ব শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ১৪ থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর। জাতিসংঘের হাই-লেভেল প্লেনারি মিটিং এবং দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন বিভিন্ন বিশ্বনেতাদের সাথে। নিউইয়র্ক অবস্থানকালে তিনি শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ ও মোজাম্বিকের রাষ্ট্রপতি এবং থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর সাথে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। এই সফরকে কেন্দ্র করে তাঁকে বিশাল নাগরিক সংবর্ধনা জ্ঞাপন করেন নিউইয়র্কে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশীরা।

বাংলাদেশে জিয়া পরিবার

রাজনীতি রাষ্ট্রের অন্যতম অনুসঙ্গ। রাষ্ট্র যতদিন থাকবে, ততদিন থাকবে রাজনীতি, রাজনীতিক ও রাজনৈতিক দল। দিন শেষে রাজনীতিক ও রাজনৈতিক দলই রাষ্ট্র পরিচালনা করে। উত্তরাধিকার ভিত্তিক রাজনীতি, আর রাজনৈতিক পরিবার এক কথা নয়। একই পরিবারে থাকতে পারে অনেক রাজনীতিক। এসব রাজনীতিকরা হতে পারেন রক্তের অথবা বৈবাহিক সম্পর্কিত। সেক্ষেত্রে নিজ দলে গ্রহণযোগ্যতার পরীক্ষা দিতে হয় নেতাকে। অর্জন করতে হয় জনগণের আস্থা। নির্বাচনে নিজে জেতার সঙ্গে দলকে জেতাতে হয়। গ্রহণ করতে হয় সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত।

উপনিবেশোত্তর সমাজ ও রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রূপান্তর প্রসঙ্গে

জিয়াউর রহমান ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহি জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে অধিষ্ঠিত হন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে। সেনাপ্রধান ও প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক করা হয় তাঁকে। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হন ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল। রাজনৈতিক দল বিএনপি গঠন করেন ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর। দলের চেয়ারম্যান হন জিয়াউর রহমান নিজে। ১৯৭৯ সাল থেকে চারবার রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন হয় বিএনপি। জিয়াউর রহমান নিহত হন ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে, সেনাবাহিনীর কিছু বিপথগামী সদস্যের হাতে। তার মৃত্যুর পর বিএনপির হাল ধরেন বেগম খালদো জিয়া, তিনি বিএনপির সদস্য হন ১৯৮২ সালের ৩ জানুয়ারি। ১৯৮৩ সালের মার্চে সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং সালের মে মাসে দায়িত্ব পান চেয়ারপারসনের।

স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সম্পৃক্ত হন খালেদা জিয়া। রাজনীতিতে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান রাজপথের আন্দোলনে। ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে জয়ী হয় বিএনপি। বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হন খালেদা জিয়া। এরপর ১৯৯৬ এবং ২০০১ সালে সরকার প্রধানের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। নির্বাচনে একাধিক আসনে দাঁড়িয়ে কখনোই কোনোটিতে পরাজয়ের রেকর্ড নেই তার। খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করেন গত ৩০ ডিসেম্বর। মায়ের মৃত্যুর পর বিএনপির চেয়ারম্যান হন তারেক রহমান। জিয়া পরিবারের তারেক রহমান বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব পান ২০০২ সালে। পরবর্তীতে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি নিযুক্ত হন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন। তাঁর নেতৃত্বে দলটি গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। এখন বাবা-মায়ের পর তিনি এখন দেশ চালানোর দায়িত্ব নিয়েছেন। এর আগে গত ডিসেম্বরে ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন ছেড়ে যুক্তরাজ্যের লন্ডন থেকে দেশে ফেরেন তিনি। ঘোষণা দেন নতুন বাংলাদেশ গড়ার।সংসদ নির্বাচন

একই পরিবারের সদস্যরা যেসব রাষ্ট্রের নেতৃত্ব দিয়েছেন

একই পরিবারের একাধিক সদস্য রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন বিশ্বের গণতান্ত্রিক দেশ ভারতে। তিন প্রজন্মের তিনজন প্রধানমন্ত্রী হওয়ার নজির রয়েছে। ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু, কন্যা ভারতের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী তার পুত্র রাজীব গান্ধী। বাংলাদেশ শেখ পরিবারে শেখ মুজিবুর রহমান এবং তাঁর কন্যা শেখ হাসিনা রাষ্ট্র শাসন করেছেন ও জাতিসংঘে ভাষণ দিয়েছেন। তবে ফ্যাসিবাদী আমলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী টানা ১৭ বার যোগ দেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে। তবে একই পরিবারের পিতা, মাতা ও সন্তান তিনজনেরই সরাসরি রাষ্ট্র শাসন এবং জাতিসংঘে যোগ দেওয়ার অনন্য রেকর্ডটি এককভাবে গায়ানার জাগান পরিবারেরই রয়েছে। পাকিস্তানে ভুট্টো পরিবারে একাধিকবার বাবা জুলফিকার আলী ভুট্টো ও মেয়ে বেনজির ভুট্টো দায়িত্ব পালন করেছেন মুসলিম বিশ্বের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে। শ্রীলঙ্কায়ও বন্দরনায়েকে পরিবার একাধিকবার বংশপরম্পরায় রাষ্ট্র শাসন করেছেন। আর. ডি. বন্দরনায়েকে তার স্ত্রী সিরিমাভো বন্দরনায়েকে এবং তাদের কন্যা চন্দ্রিকা কুমারাতুঙ্গা প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি হন। উন্নত দেশগুলোর মধ্যে কানাডার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন ট্রুডো পরিবারের। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ ও তার পুত্র প্রেসিডেন্ট ওয়াকার জুনিয়র বুশ। গ্রিসে পাপানদ্রিউ পরিবারে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন তিন প্রজন্ম। মারিয়ানো ইগনাসিও প্রাদো ছিলেন পেরুর রাষ্ট্রপ্রধান, পরবর্তী সময়ে তাঁর পরিবারের আরও দুজন দেশ শাসন করেছেন। আর্জেন্টিনার প্যারন পরিবারে পিতা, মাতা এবং তাদের সন্তান না হলেও, পিতা এবং তার দুই স্ত্রী রাষ্ট্র শাসন করেছেন। এছাড়া ভিন্ন আরেকটি রাজনৈতিক পরিবারে পিতা, মাতা ও সন্তানের শাসনের উদাহরণ রয়েছে।
থাইল্যান্ডে সিনাওয়াত্রা পরিবারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন থাকসিন সিনাওয়াত্রা, কন্যা পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রা ও থাকসিনের বোন ইংলাক সিনাওয়াত্রা। উত্তর কোরিয়ায় কিম পরিবারে বাবা, ছেলে ও নাতি—একই পরিবারের তিন প্রজন্মের তিনজনের রাষ্ট্রক্ষমতায় রয়েছে উত্তর। একই পরিবারের তিনজনের দেশের প্রেসিডেন্ট হওয়ার নজির আছে নিকারাগুয়ায় সামোজা পরিবারে। অপরদিকে রাজার ছেলে রাজা হবে, এমনই নিয়ম রাজতন্ত্রে। রাজতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় বংশানুক্রমিক যুগ যুগ ধরে রাজপরিবারের পিতা, মাতা এবং সন্তান রাজা বা রানী হিসেবে রাষ্ট্র শাসন করে আসছেন। যেমন যুক্তরাজ্য, জর্ডান, মরক্কো, সৌদি আরব, থাইল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস।

নামাজের সময়সূচি
  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৪:২৩
  • ১১:৫২
  • ৪:১৫
  • ৬:০৩
  • ৭:১৭
  • ৫:৩৭