অপপ্রচারের বলি মাওলানা আবদুর রহমান কফিল

সুনামগঞ্জের প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন, জামেয়া মারকাজুল উলূম সুনামগঞ্জের মুহতামিম মাওলানা আবদুর রহমান কফিল (আবির সাবীল)-এর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে তাঁকে মাদরাসা পরিচালনার দায়িত্ব থেকে অপসারণের পায়তারা শুরু করেছে একটি চক্র।

মাদরাসার আভ্যন্তরীণ কিছু বিষয়কে কেন্দ্র করে মুহতামিম সাহেবের সঙ্গে মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয় কয়েকজন শিক্ষকের। এতে তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষেপে গিয়ে ভিত্তিহীন কিছু অভিযোগ এলাকায় ছড়িয়ে দেন তারা। তাতে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এমন অভিযোগে দিগভ্রান্ত হয়ে পড়েন এলাকার মানুষ। সত্য-মিথ্যা যাচাই ছাড়াই ছড়িয়ে যেতে শুরু করে মুখেমুখে।

এহেন পরিস্থিতিতে এলাকার কয়েকজন আলেম ও মাদরাসার সিনিয়র শিক্ষকের সমন্বয়ে জরুরি মিটিং অনুষ্ঠিত হয়। মিটিংয়ে মুহতামিম সাহেব নির্দোষ প্রমাণিত হন এবং তিলকে তাল বানানো হয়েছে বলা হবে মর্মে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয়।

কিন্তু এর পরেই দেখা যায় বিরূপ প্রতিক্রিয়া। এলাকায় আরও জোরেশোরে প্রচার হতে থাকে অভিযোগের বিষয়টি। কারণ অনুসন্ধানে জানা যায় মিটিংয়ে উপস্থিত মাদরাসার সাবেক মুহতামিম মাওলানা মাহমুদ হুসাইন ও মাদরাসার পুরাতন শিক্ষক মাওলানা রহিমুল ইসলাম লক্ষ্মীপুরী উক্ত সিদ্ধান্তকৃত তিলকে তাল না বলে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে প্রচার করেছেন।

অথচ তথ্য অনুসন্ধানে মাদরাসার নাইবে মুহতামিম মাওলানা ইমদাদুল হকসহ বেশ কয়েকজন ছাত্র শিক্ষকের বক্তব্য থেকে উঠে ষড়যন্ত্রের মূল নায়ক মাওলানা রহিমুল ইসলাম লক্ষ্মীপুরী ও সাবেক মুহতামিম মাওলানা মাহমুদ হোসাইন। দীর্ঘ দিন থেকে পরিকল্পনা করে পরীক্ষায় ফেল করা ও মোবাইল বাজেয়াপ্ত হওয়া ৫/৭ ছাত্রকে বর্তমান মুহতামিম সাহেবের বিরুদ্ধে শিখিয়ে দেয়া কিছু কথা অন্য ছাত্র ও এলাকায় প্রচারের কাজে লাগান। এর সত্যতা পাওয়া যায় বিভিন্ন অভিযোগে বিদায় হওয়া কয়েকজন ছাত্রের কাছ থেকে, যারা পার্শ্ববর্তী শেরমস্তপুর মাদরাসায় ভর্তি হয়েছিল। তারা মুহতামিম সাহেবের বিরুদ্ধে লেখা একটি কাগজ কম্পোজ করে লিফলেট আকারে এলাকায় ছড়িয়ে দেওয়ার কাজ করছিলো, যা সে মাদরাসার শিক্ষাসচিব হাতেনাতে ধরে ফেলেন। ফলে এখান থেকেই সৃষ্টি হয় এক অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সূচনা।

পরে উক্ত মিটিংয়ে মুহতামিম সাহেবকে কিছুদিন মাদরাসার বাইরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। মতামত হিসেবে ব্যক্ত করা হয় তাবলীগে যাওয়ার অথবা উমরাহ সফরে যাওয়ার। মুহতামিম সাহেব তখন মাদরাসার ফায়দা হবে ভেবে উমরাহ সফরকেই বেছে নেন।

সফরের বিরতিতে দীর্ঘ একমাস চলতে থাকে এইসব প্রচার প্রচারণা। একমাস পর তিনি উমরাহ সফর থেকে ফিরে এসেই মজলিসে আমেলা (পরিচালনা কমিটি) কমিটির মিটিং আহ্বান করেন এবং মাদরাসায় পড়ালেখার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে বিজ্ঞ আলেমদের পরামর্শে মাদরাসা থেকে বিদায়ের দরখাস্ত দেন। মজলিসে আমেলা কমিটি তাৎক্ষণিক দরখাস্ত রিসিভ করে, এবং তা মজলিসে শূরা ছাড়া এটি কার্যকর করার ক্ষমতা তাদের নেই বলে ৯ দিন পর মজলিসে শূরার মিটিং হবে বলে সেখানেই সিদ্ধান্ত হয়।

এই অবস্থায় এলাকার পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হতে থাকে। মুহতামিম সাহেবের বিদায় মেনে নিতে পারে না এলাকার সাধারণ মানুষ। তারা এ বিদায়কে নামঞ্জুর করার জন্য বিভিন্নভাবে কাজ করতে থাকে।

এহেন অবস্থা দেখে আবারও ষড়যন্ত্রের আশ্রয় নেয় কুচক্রী মহল। অখ্যাত এক নিউজপেপার দিয়ে খবর প্রচার করে সেই ভিত্তিহীন অভিযোগের। মানহানিকর এ সংবাদে ক্ষেপে উঠে সাধারণ মানুষ। মানুষের শেয়ারে তা পৌঁছে যেতে শুরু করে জনেজনে। জনমনে দেখা দেয় গভীর ক্ষোভ। তারা এ নিউজের তীব্র প্রতিবাদ জানান।

পরিস্থিতি বিবেচনায় ৯ দিন পরের মিটিংকে এগিয়ে আনার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। নির্ধারিত তারিখের ২ দিন আগে তথা গত ১ অক্টোবর ২০২৬ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে দশটায় শুরা মিটিং আহ্বান করা হয়। কিন্তু সাধারণ জনগণ দলবদ্ধভাবে এতে উপস্থিত হয়ে যায়।

কিন্তু উপস্থিত সাধারণ জনগণের উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিবেচনায় মিটিং মুলতবী ঘোষণা করা হয়।
তখন উত্তেজিত জনতা মাদরাসা মাঠে ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে মিছিল করতে থাকে এবং ষড়যন্ত্রের নেপথ্য নায়ক মনে করে বর্মাউত্তর ও রামনগরের বিশিষ্ট ২ জন আলেমের উপর চড়াও হয়।

উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে দেখে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং সবাই যার যার বাড়ি ফিরে যান।

এদিকে আজ ২ অক্টোবর ২০২৬ শুক্রবার সকালে দেখা যায় সম্পূর্ণ ভিন্ন এক পরিস্থিতি। রামনগর গ্রামের সাথে বাণীপুর, হরিপুর, খাড়ারপার, সুজাতপুর, শরীফপুর ইত্যাদি গ্রামের কয়েকশত মানুষ লাঠিসোঁটা নিয়ে মিছিল করতে করতে মাদরাসায় আসেন এবং বর্মাউত্তর গ্রামবাসীর প্রতি বিভিন্ন কটুবাক্য উচ্চারণ করে একটা হাঙ্গামা বাঁধানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু বর্মাউত্তরবাসী অসীম ধৈর্যের পরিচয় দিয়ে এই আক্রমণাত্মক পরিস্থিতিতে শান্ত থাকেন এবং কোন জবাব দেওয়া থেকে বিরত থাকেন।

অপরদিকে গত রাতে রামনগর ও বাণীপুর গ্রামবাসী বর্মাউত্তর গ্রামের কাউকে তাদের গ্রামে যেতে নিষেধ করে দেন ফলে বর্মাউত্তর গ্রামবাসী অন্য দুই গ্রাম থেক বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন।

উল্লেখ্য, চলমান এই উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিরসনের লক্ষে আশপাশের গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও কয়েকটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান উদ্যোগ নেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তাঁরা ইতোমধ্যেই উভয় গ্রামের সাথে সমাধানের উদ্দেশ্যে দফায় দফায় বৈঠক করে যাচ্ছেন বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।

নামাজের সময়সূচি
  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৪:৩১
  • ১১:৪৫
  • ৪:০০
  • ৫:৪৩
  • ৬:৫৬
  • ৫:৪৩