সুনামগঞ্জের ছাতকে হাসন আলী ভুতু হত্যা মামলায় দুই ভাইকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মামলার অপর এক আসামিকে খালাস এবং আরেক আসামি মারা যাওয়ায় তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
গতকাল সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত দায়রা জজ-২ আদালতের বিচারক শ্যাম কান্ত সিনহা এ রায় দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নাজির প্রভাকর সরকার।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন ছাতক উপজেলার বিনন্দপুর গ্রামের জাহির আলী ওরফে জাহির উদ্দিনের ছেলে আক্তার হোসেন ও তার ভাই আকমল হোসেন ওরফে আকল। রায় ঘোষণার সময় তারা দুজনই পলাতক ছিলেন। আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, আক্তার হোসেনকে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। মামলার অপর আসামি ছবুতেরা বেগমকে খালাস দেওয়া হয়েছে। আরেক আসামি জাহির আলী ওরফে জাহির উদ্দিন মারা যাওয়ায় তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালের ১ মে বিকেলে ছাতকের বিনন্দপুর এলাকায় একটি পতিত জমির নালায় মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে নিহত হাসন আলী ভুতুর সঙ্গে আসামি জাহির আলী ওরফে জাহির উদ্দিনের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে জাহির আলীর চিৎকারে অন্য আসামিরা দা, ডেগারসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঘটনাস্থলে আসেন।
এ সময় আক্তার হোসেন ডেগার দিয়ে হাসন আলী ভুতুর বুকের বাম পাশে আঘাত করেন। তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে নিহতের ছেলে ও মামলার বাদী মো. শহীদ আলীকেও জাহির আলী রামদা দিয়ে কোপ দেন এবং আকমল হোসেন ডেগার দিয়ে আঘাত করেন।
পরে স্থানীয় লোকজন আহত দুজনকে কৈতক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক হাসন আলী ভুতুকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মো. শহীদ আলী বাদী হয়ে ছাতক থানায় চারজনের বিরুদ্ধে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও মারধরের অভিযোগে মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ চার আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। পরে আদালত অভিযোগ গঠন করে মামলার বিচার শুরু করেন।
দীর্ঘ বিচারিক কার্যক্রমে রাষ্ট্রপক্ষের ২০ জন সাক্ষীর মধ্যে ১১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত আক্তার হোসেন ও আকমল হোসেন ওরফে আকলকে হত্যা মামলায় দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেন।



