এআই প্রযুক্তিতে নতুন ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স ফোর্স’ গঠন করলেন ট্রাম্প

এআই প্রযুক্তিতে নতুন ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স ফোর্স’ গঠন করলেন ট্রাম্প

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব ধরে রাখতে নতুন একটি টাস্কফোর্স গঠন করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স ফোর্স’ নামের এই টাস্কফোর্সের নেতৃত্ব দেবেন জাতীয় গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালক জে ক্লেটন। বার্তাসংস্থা বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

এ বিষয়ে রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, নতুন এই বাহিনী এআই প্রযুক্তির উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রযুক্তিটি নিয়ে সরকার, সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় করবে।

ট্রাম্পের ঘোষণায় বলা হয়, ফেডারেল সরকারের সঙ্গে ভোক্তা, জনস্বার্থ সংগঠন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এবং সুপার ইন্টেলিজেন্স প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর যোগাযোগ সমন্বয় করবে টাস্কফোর্সটি। এটি সরাসরি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ সুসি ওয়াইলসের কাছে প্রতিবেদন দেবে।

টাস্কফোর্সে জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক ক্লেটনের পাশাপাশি ফেডারেল ট্রেড কমিশনের চেয়ারম্যান অ্যান্ড্রু ফার্গুসন, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের গবেষণা ও প্রকৌশলবিষয়ক আন্ডারসেক্রেটারি এমিল মাইকেল এবং অফিস অব পারসোনেল ম্যানেজমেন্টের পরিচালক স্কট কুপারও থাকবেন।

গত আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেন ক্লেটন। এর আগে ট্রাম্পের মনোনীত প্রার্থী বিল পুল্ট আইনপ্রণেতাদের অনুমোদন না পাওয়ায় ক্লেটনকে এ পদে আনা হয়। এআই সম্পর্কে ক্লেটন আগে বলেছিলেন, কোনো প্রযুক্তি একই সঙ্গে সুযোগ ও হুমকি হলে সেটিকে নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য যথাযথ প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি।

ট্রাম্পের নতুন উদ্যোগের ঘোষণা এমন সময়ে এলো, যখন এআই প্রযুক্তির নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ ব্যক্তিদের মধ্যেও বিতর্ক বাড়ছে। ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকের মতো প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা প্রযুক্তিটির ওপর আরও কার্যকর নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন।

তবে ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্যাম অল্টম্যান সম্প্রতি বলেছেন, এআইয়ের সম্ভাব্য সুবিধা পেতে হলে কিছু ঝুঁকি মেনে নেওয়া প্রয়োজন। তার মতে, মানুষের জন্য প্রযুক্তিটির ব্যবহার উন্মুক্ত রাখা উচিত এবং কিছু নেতিবাচক ঘটনা ঘটার ঝুঁকিও সমাজকে মেনে নিতে হবে।

গত মাসেও নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে ওপেনএআই তাদের সর্বশেষ একটি এআই মডেলের প্রকাশ স্থগিত করেছিল। প্রতিষ্ঠানটির প্রযুক্তি ব্যবহার করে সাইবার নিরাপত্তা-সংক্রান্ত কয়েকটি ঘটনার পরও তাদের এআই মডেলগুলো নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এর আগে গত ২৯ সেপ্টেম্বর এআইকে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ হিসেবে পুনঃনামকরণের নির্দেশ দিয়ে একটি নির্বাহী আদেশে সই করেন ট্রাম্প। আদেশ অনুযায়ী, সরকারি চিঠিপত্র, ওয়েবসাইট, প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক যোগাযোগে ‘এআই’ শব্দের পরিবর্তে ‘এসআই’ বা ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ শব্দ ব্যবহার করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

ট্রাম্প এর আগে বলেছিলেন, ‘আর্টিফিশিয়াল’ শব্দটি প্রযুক্তিটিকে কিছুটা ‘নকল’ বা কৃত্রিম বলে মনে করায়। তবে বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ নাম পরিবর্তনের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের মতে, ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ সাধারণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চেয়ে আরও উন্নত প্রযুক্তিকে বোঝায়, ফলে এই নাম ব্যবহার বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে।

তবে ট্রাম্পের এই নতুন পরিভাষা ইতিমধ্যে কিছু প্রযুক্তি উদ্যোক্তা গ্রহণ করতে শুরু করেছেন। ইলন মাস্ক রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, তার প্রতিষ্ঠানের এআই প্ল্যাটফর্ম ‘স্পেসএক্সএআই’-এর নাম পরিবর্তন করে ‘স্পেসএক্সএসআই’ রাখা হবে। তিনি লিখেছেন, ‘স্পেসএক্স একটি সুপার ইন্টেলিজেন্স কোম্পানি।’

এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন এআই খাতের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণের আহ্বান এড়িয়ে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বনিয়ন্ত্রণের ওপরই বেশি গুরুত্ব দিয়ে আসছে। গত ২৯ সেপ্টেম্বর শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাহীরা এআই নিরাপত্তা নিয়ে একটি ‘নৈতিকভাবে বাধ্যতামূলক’ অঙ্গীকারে সই করার পর ট্রাম্প এআই নিরাপত্তা তদারকিতে নতুন একটি বোর্ড গঠনের কথাও জানিয়েছিলেন।

নতুন ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স ফোর্স’ গঠনের মধ্য দিয়ে এআই প্রযুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি নীতি ও নজরদারিতে নতুন কাঠামো তৈরি হতে যাচ্ছে। তবে প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির সঙ্গে নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণের ভারসাম্য কীভাবে বজায় রাখা হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

নামাজের সময়সূচি
  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৪:৩১
  • ১১:৪৫
  • ৪:০০
  • ৫:৪৩
  • ৬:৫৬
  • ৫:৪৩