শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের উদ্যোগে পরিচালিত চাইনিজ কর্নার নতুন ঠিকানায় স্থানান্তর করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের আইআইসিটি ভবনের ১০ম তলায় এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে চাইনিজ কর্নারের স্থানান্তর ও উদ্বোধন সম্পন্ন হয়।
অনুষ্ঠানে ফিতা কেটে চাইনিজ কর্নারের উদ্বোধন করেন পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলাম।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. দিলারা রহমান, অধ্যাপক ড. জায়েদা শারমিন, অধ্যাপক ড. সৈয়দ আশরাফুর রহমান, চাইনিজ কর্নারের কো-অর্ডিনেটর ড. মো. সাহাবুল হক,অধ্যাপক ড. ফাহমিদা আক্তার, সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. এমদাদুল হক, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফাখরুস সালাম এবং সহযোগী অধ্যাপক ড. হাজেরা আক্তার।
এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এফইটি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ইফতেখার আহমদ, আর্কিটেকচার বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ইফতেখার রহমান, ইনস্টিটিউট অব মডার্ন ল্যাংগুয়েজেস (আইএমএল)-এর পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. ফয়জুল হক, ইন্সটিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেল (আইকিউএসি)-এর পরিচালক অধ্যাপক ড. সালমা আক্তার, সোশিওলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. আল আমিন, নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মনজুরুল হক হায়দার এবং ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সায়ীফ আহমদ। অনুষ্ঠানে অতিথিদের চীনা সংস্কৃতির ঐতিহ্যবাহী চা পরিবেশন করা হয়।
উল্লেখ্য যে,২০২১ সালে ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাসের সহযোগিতায় পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগে চাইনিজ কর্নারটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। এরপর থেকে চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কের উপরে এবং চীনা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য নিয়ে এই কর্নারটি বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে
*চীনা সংস্কৃতি ও জ্ঞানচর্চার এক নান্দনিক পরিসর*
পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের উদ্যোগে গড়ে ওঠা চাইনিজ কর্নারটি নতুনভাবে সাজানো হয়েছে আইআইসিটি ভবনের ১০ম তলায়। তিনটি কক্ষ নিয়ে সাজানো এই কর্নারে রয়েছে একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত লাইব্রেরি রুম এবং দুটি রিডিং রুম। পাঠ ও আলোচনার উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে রয়েছে নান্দনিক চেয়ার, সোফা এবং বিভিন্ন দৃষ্টিনন্দন সাজসজ্জা। এছাড়াও রয়েছে একটি টিভি সেট।
চাইনিজ কর্নারে রয়েছে প্রায় ৫০০টি বইয়ের সংগ্রহ, যার মধ্যে চীন ও চীনা সংস্কৃতি বিষয়ক বইয়ের পাশাপাশি শিশুদের জন্যও রয়েছে আকর্ষণীয় বই। পাশাপাশি কর্নারটিতে প্রদর্শিত হচ্ছে চীনা সংস্কৃতির বিভিন্ন নিদর্শন, বিভিন্ন শিল্পীর শিল্পকর্ম এবং ক্যামেরায় ধারণ করা নানা আকর্ষণীয় আলোকচিত্র।
এখানে বিশেষভাবে স্থান পেয়েছে চীনে ভ্রমণের সময় দেশের বিভিন্ন খ্যাতিমান শিল্পীর
তুলিতে আঁকা চা-বাগানের আকর্ষণীয় শিল্প, যা চীনের প্রকৃতি ও সৌন্দর্যের ভিন্ন এক চিত্র তুলে ধরে। এছাড়াও ২০২৩ সালে শিল্পকলা একাডেমিতে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক নিয়ে আয়োজিত প্রদর্শনী থেকে বাছাই করা শিল্পকর্ম চাইনিজ কর্নারের নান্দনিকতাকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।
বই, শিল্পকর্ম, আলোকচিত্র ও চীনা সংস্কৃতির বিভিন্ন নিদর্শনের সমন্বয়ে চাইনিজ কর্নার শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীদের জন্য চীনকে জানার, পড়াশোনা করার এবং সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার একটি উন্মুক্ত পরিসর হিসেবে গড়ে উঠেছে।
*সবার জন্য উন্মুক্ত*
চাইনিজ কর্নারটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ আগ্রহী সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। সপ্তাহের সাত দিনই প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত চাইনিজ কর্নার পরিদর্শন ও প্রদর্শনীর জন্য খোলা থাকবে।
চাইনিজ কর্নারের এই নতুন যাত্রা শাবিপ্রবিতে চীনা ভাষা, সংস্কৃতি, শিল্প ও জ্ঞানচর্চার সুযোগকে আরও বিস্তৃত করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। আইআইসিটি ভবনের ১০ম তলায় তাই এখন শুধু একটি কর্নার নয়—বই, শিল্প, আলোকচিত্র ও সংস্কৃতির মধ্য দিয়ে চীনকে জানার জন্য উন্মুক্ত একটি নতুন সাংস্কৃতিক পরিসর।



