
সিলেটের জালালাবাদ থানা এলাকায় ৪ বছরের শিশু ফাহিমা আক্তারকে ধর্ষণের চেষ্টা ও পরবর্তীতে শ্বাসরোধ করে হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত মো. জাকির হোসেনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত সোমবার (১১ মে) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জালালাবাদ থানার সোনাতলা বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত জাকির হোসেন জালালাবাদ থানার সোনাতলা পশ্চিমপাড়া (ধন রায়েরচক) গ্রামের মৃত তোতা মিয়ার ছেলে।
পুলিশ জানায়, গত ৮ মে শিশু ফাহিমা নিখোঁজ ও তার লাশ উদ্ধারের ঘটনায় জালালাবাদ থানায় একটি হত্যা মামলা (মামলা নং-০৪) দায়ের করা হয়েছিল। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. নূর উদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার মূল হোতাকে শনাক্ত করে। গ্রেফতারের পর নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদে জাকির হোসেন হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে এবং লাশের আলামত সম্পর্কে তথ্য প্রদান করে।
আসামির জবানবন্দি অনুযায়ী, গত ৬ মে সকাল ১১টার দিকে জাকির তার বাড়িতে একা ছিল। সে প্রতিবেশী শিশু ফাহিমা আক্তারকে ২০ টাকা দিয়ে দোকান থেকে দুটি সিগারেট আনতে পাঠায়। শিশুটি সিগারেট নিয়ে ঘরে ফিরলে নির্জনতার সুযোগে জাকির ঘরের দরজা বন্ধ করে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে শিশুটি অজ্ঞান হয়ে পড়লে ধরা পড়ার ভয়ে জাকির তাকে গলা টিপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।
হত্যাকাণ্ডের পর লাশটি আড়াল করতে জাকির প্রথমে একটি চাদর (শাল) দিয়ে পেঁচিয়ে কালো সুটকেসে ভরে ঘরের ক্যাবিনেটের ওপর লুকিয়ে রাখে। পরে সুযোগ বুঝে গত ৮ মে ভোরে লাশটি পার্শ্ববর্তী একটি ডোবায় ফেলার চেষ্টা করে। কিন্তু লাশ ভেসে ওঠায় সেটি পুনরায় তুলে নিয়ে নারিকেল গাছ ও বাঁশঝাড়ের নিচে আড়ালে রেখে দেয়।
পুলিশ আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বাদাঘাট-শিবেরবাজার সড়কের টেকেরবাড়ি এলাকার একটি খাল থেকে লাশ গুমের চাদর, আসামির শয়নকক্ষের আলমারি থেকে কালো সুটকেস উদ্ধার করেছে।
জালালাবাদ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, গ্রেফতারকৃত আসামিকে যথাযথ প্রক্রিয়ায় বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। আসামি ফৌজদারি কার্যবিধি ১৬৪ ধারা মোতাবেক বিজ্ঞ বিচারকের কাছে নিজের দোষ স্বীকার করে লোমহর্ষক জবানবন্দি প্রদান করেছে। বর্তমানে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।