একটি পরিবার, তিন প্রজন্ম, একই মঞ্চ – জাতিসংঘ। ইতিহাসের এক আবেগঘন বৃত্ত পূরণ হতে যাচ্ছে।
আগামী ২১ সেপ্টেম্বর সোমবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক যাচ্ছেন। ২৪ সেপ্টেম্বর তিনি বিশ্বনেতাদের সামনে ভাষণ দেবেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটি তাঁর প্রথম জাতিসংঘ ভাষণ। এই অধিবেশনটি বাংলাদেশের জন্য আরও বিশেষ, কারণ এবারের অধিবেশনে সভাপতিত্ব করছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। এই যাত্রা শুধু একটি রাষ্ট্রীয় সফর নয়, এটি একটি ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতার ফিরে আসা।

শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়ার রহমান। ছবি : সংগৃহীত
পিতা শহীদ জিয়াউর রহমান – ১৯৮০
৪৬ বছর আগে, ১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট, একই মঞ্চে দাঁড়িয়েছিলেন তাঁর পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের একাদশ বিশেষ অধিবেশনে তিনি ভাষণ দিয়েছিলেন।
তখন বিশ্ব ছিল স্নায়ু যুদ্ধের উত্তেজনায় অস্থির, তীব্র জ্বালানি সংকটে বিপর্যস্ত। সেই মঞ্চে দাঁড়িয়ে জিয়া প্রশ্ন তুলেছিলেন – কেন প্রতিরক্ষা খাতে ৫০০ বিলিয়ন ডলার খরচ হচ্ছে, অথচ ক্ষুধার্তের সংখ্যা বাড়ছে? তিনি দাবি তুলেছিলেন, তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোকে অনুন্নত দেশের প্রতি আরও সংবেদনশীল হতে হবে। সেই ভাষণের পরই বাংলাদেশ ১৯৭৯ সালে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য নির্বাচিত হয় এবং বিশ্বে বাংলাদেশ পরিচিতি পায় নতুন মর্যাদায়।
তিনিই ছিলেন হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রিত প্রথম বাংলাদেশি রাষ্ট্রপ্রধান, যাকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার ‘মহান নেতা’ বলে সম্বোধন করেছিলেন।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। ছবি : সংগৃহীত
মাতা বেগম খালেদা জিয়া – ১৯৯৩, ২০০২, ২০০৫
পিতার পর সেই মঞ্চে দাঁড়িয়েছিলেন মা। বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯৩, ২০০২ ও ২০০৫ সালে জাতিসংঘে ভাষণ দেন।
এর মধ্যে সবচেয়ে স্মরণীয় হয়ে আছে ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর ৪৮তম অধিবেশনে তাঁর ‘ফারাক্কা ভাষণ’। সেই ভাষণে তিনি ভারতের ফারাক্কা বাঁধকে ‘বারো কোটি মানুষের জন্য মরণ ফাঁদ’ বলে বিশ্ব বিবেকের দরজায় করাঘাত করেছিলেন। তৎকালীন পররাষ্ট্র সচিবও জানতেন না তিনি এত কঠোর ভাষায় কথা বলবেন। বিশ্ব অবাক হয়ে শুনেছিল একজন আপোষহীন নেত্রীর কণ্ঠ। ২০০৫ সালে ৬০তম অধিবেশনে তিনি সন্ত্রাসবাদ ও দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে ঐক্যের ডাক দিয়েছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি : সংগৃহীত
পুত্র তারেক রহমান – ২০২৫
আজ দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন, মিথ্যা মামলা, নির্যাতন আর ২০২৪ এর জুলাই-আগস্টের রক্তস্নাত গণঅভ্যুত্থানের পর সেই একই পরিবারের সন্তান যাচ্ছেন বিশ্বসভায়।
জিয়া পরিবারের দ্বিতীয় পুরুষ হিসেবে তিনি তুলে ধরবেন ‘নতুন বাংলাদেশে’র রূপরেখা।
পিতা বিশ্বকে শিখিয়েছিলেন কিভাবে ছোট দেশের মর্যাদা রক্ষা করতে হয়, মা শিখিয়েছিলেন কিভাবে দেশের স্বার্থে বিশ্বের সামনে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হয়। এবার পুত্রের কণ্ঠে বিশ্ব শুনবে গণতন্ত্র ফিরে পাওয়া এক বাংলাদেশের গল্প, ১৪০০ শহীদের রক্তে লেখা নতুন স্বাধীনতার গল্প।
একজন পিতা যিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, একজন মা যিনি গণতন্ত্রের জন্য আপোষ করেননি, আর একজন পুত্র যিনি সব হারিয়ে ফিরে এসেছেন দেশ গড়তে – জাতিসংঘের সবুজ মার্বেলের মঞ্চে এ যেন এক মহাকাব্যের পূর্ণতা।



