রাস্তাঘাটে বের হলে এখন অনেকেরই একটি বড় শঙ্কা থাকে— ফোনটি যদি হারিয়ে যায় বা চুরি হয়ে যায়! একটি মুঠোফোন হারানো মানে শুধু একটি মূল্যবান যন্ত্র হারানো নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকতে পারে ব্যক্তিগত ছবি, গুরুত্বপূর্ণ নথি, কাজের ফাইল, ব্যাংকিং তথ্য, ই-মেইল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের হিসাবসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।
সবচেয়ে বড় আশঙ্কার বিষয় হলো, ফোনটি অন্যের হাতে গেলে সেখানে থাকা তথ্য ব্যবহার করে প্রতারণা বা আর্থিক ক্ষতি করা হতে পারে। তাই ফোন হারানো বা চুরি হওয়ার বিষয়টি বুঝতে পারার পর প্রথম কয়েক মিনিট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত কিছু পদক্ষেপ নিলে ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহারের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
দূর থেকে ফোনটি নিরাপদ করুন
দূর থেকে ফোনটি নিরাপদ রাখতে হলে প্রথমেই ফোনটির অবস্থান শনাক্ত করতে হবে এবং সম্ভব হলে দূর থেকেই সেটি তালাবদ্ধ করার চেষ্টা করতে হবে। আইফোনের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীরা অ্যাপলের ফোন খোঁজার সেবা ব্যবহার করে হারানো ফোনটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করতে পারবেন।
অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীরা গুগলের ফোন খোঁজার সেবা ব্যবহার করে ফোনটি তালাবদ্ধ করতে পারবেন। প্রয়োজনে ফোনের ওয়ালপেপারে একটি বার্তা বা যোগাযোগের নম্বরও দেখাতে পারবেন। এ ছাড়াও ফোনে আগে থেকেই গোপন নম্বর, মুখমণ্ডল শনাক্তকরণ বা আঙুলের ছাপের মাধ্যমে তালা খোলার ব্যবস্থা থাকলেও এই পদক্ষেপ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। এতে ফোনের অননুমোদিত ব্যবহারের বিরুদ্ধে বাড়তি সুরক্ষা তৈরি হয়।
মুঠোফোনের সংযোগ বন্ধ করুন
যে ফোনটি হারিয়েছে, সেটি তালাবদ্ধ রাখার পাশাপাশি দ্রুত মুঠোফোন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। তাদের বলে ফোনের সঙ্গে যুক্ত সিম কার্ড বা ই-সিম বন্ধ করে দিন। এ ছাড়াও একই নম্বরের নতুন সিম নেওয়ার জন্য আবেদন করতে পারেন। পাশাপাশি ফোনের যন্ত্র শনাক্তকরণ নম্বর (IMEI) ব্যবহার করে চুরি হওয়া ফোনটি বন্ধ বা অকার্যকর করার সুযোগ রয়েছে কি না, সেটিও সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের কাছে জেনে নিন।
গুরুত্বপূর্ণ হিসাবগুলো সুরক্ষিত করুন
ফোনের সঙ্গে যুক্ত গুরুত্বপূর্ণ সব হিসাব দ্রুত পর্যালোচনা করুন। বিশেষ করে অ্যাপলের হিসাব, গুগলের হিসাব, ই-মেইল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন কেনাকাটার হিসাব, অনলাইন তথ্য সংরক্ষণের হিসাব, ব্যাংক ও অর্থ লেনদেনের হিসাবগুলো পরীক্ষা করুন।
হিসাবগুলোর সঙ্গে যুক্ত যন্ত্রের তালিকা যাচাই করে চুরি বা হারিয়ে যাওয়া ফোনটির প্রবেশাধিকার বাতিল করুন। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ হিসাবগুলোর গোপন সংকেত পরিবর্তন করুন এবং দুই ধাপের পরিচয় যাচাই চালু আছে কি না, তা নিশ্চিত করুন।
এসবের পাশাপাশি ফোনে যদি ব্যাংকের কোনো সেবা, মোবাইলের মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের ব্যবস্থা বা ডিজিটাল অর্থের হিসাব থাকে, তাহলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট হিসাবগুলো যাচাই করুন। কোনো অস্বাভাবিক লেনদেন দেখতে পেলে বা হিসাবের নিরাপত্তা নিয়ে সন্দেহ হলে অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
কারণ ফোনে থাকা ই-মেইল বা অন্যান্য তথ্য ব্যবহার করে কেউ অন্য হিসাবের গোপন সংকেত পরিবর্তন কিংবা অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে।
ছবি ও নথি যাচাই করুন
ফোনে থাকা ছবি, ভিডিও ও গুরুত্বপূর্ণ নথির সংরক্ষিত অনুলিপি কোথায় রয়েছে, তা যাচাই করুন। যেমন—অ্যাপলের অনলাইন তথ্যভান্ডার, গুগলের ছবি সংরক্ষণ ব্যবস্থা, গুগলের অনলাইন নথি সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং অন্যান্য নির্ভরযোগ্য অনলাইন সংরক্ষণ ব্যবস্থা। এসব হিসাবও শক্তিশালী গোপন সংকেত এবং দুই ধাপের পরিচয় যাচাইয়ের মাধ্যমে সুরক্ষিত রাখুন।
ফোনের ভেতরে অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্য থাকলে এবং ফোনটি ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা খুব কম হলে দূর থেকে ফোনের তথ্য মুছে ফেলার ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। তবে এই সিদ্ধান্ত তাড়াহুড়ো করে নেওয়া উচিত নয়। কারণ কিছু ক্ষেত্রে ফোনের তথ্য মুছে ফেলার পর সেটিকে শনাক্ত বা খুঁজে পাওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে যেতে পারে।
তাই ফোনটি কোথায় আছে, সেটি ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা এবং ফোনে থাকা তথ্যের গুরুত্ব—সবকিছু বিবেচনা করে তারপর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া ভালো।
নিজে উদ্ধার করতে যাবেন না
ফোন খোঁজার ব্যবস্থার মাধ্যমে ফোনটির অবস্থান জানা গেলেও নিজে সেখানে গিয়ে ফোনটি উদ্ধারের চেষ্টা করবেন না। বিশেষ করে যদি মনে হয় ফোনটি কোনো অপরিচিত ব্যক্তি বা চোরের কাছে রয়েছে, তাহলে তার মুখোমুখি হওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বরং ফোনটির অবস্থান, সময় এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করে পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নিন।
আগে থেকেই প্রস্তুত থাকুন
ফোন হারিয়ে যাওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার চেয়ে আগে থেকেই প্রস্তুত থাকা অনেক বেশি কার্যকর। তাই শক্তিশালী গোপন সংকেত ব্যবহার করুন, মুখমণ্ডল শনাক্তকরণ বা আঙুলের ছাপের মাধ্যমে ফোন খোলার ব্যবস্থা চালু রাখুন এবং দুই ধাপের পরিচয় যাচাই চালু করুন।
নিয়মিত ছবি ও গুরুত্বপূর্ণ নথির সংরক্ষিত অনুলিপি রাখুন। ফোন খোঁজার ব্যবস্থা আগে থেকেই চালু রাখুন এবং ফোনের যন্ত্র শনাক্তকরণ নম্বর (IMEI) নিরাপদ জায়গায় লিখে রাখুন। গুরুত্বপূর্ণ হিসাবগুলোতে কোন কোন যন্ত্র যুক্ত রয়েছে, তা নিয়মিত যাচাই করুন।
এ ছাড়াও ফোনের পর্দায় অতিরিক্ত ব্যক্তিগত তথ্য প্রদর্শন না করাই ভালো।



