
সিলেট নগরের চাঁদনীঘাট এলাকা তখন ছিল সাধারণ দিনের মতোই ব্যস্ত। দুপুর গড়াতে না গড়াতেই কিন ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। পুলিশের ধাওয়া খেয়ে পালাচ্ছিল এক ছিনতাইকারী। ঠিক সেই মুহূর্তে সামনে পড়ে যান র্যাব-৯ এর সদস্য ইমন আচার্য। দায়িত্বে না থাকলেও অপরাধীকে পালাতে দিতে চাননি তিনি। সাহসিকতার সঙ্গে ঝাঁপিয়ে পড়ে ধরেছিলেন ছিনতাইকারীকে। কিন্তু সেই সাহসিকতার মূল্য দিতে হলো নিজের জীবন দিয়ে।
শুক্রবার দুপুরে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে র্যাব-৯ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চাঁদনীঘাট এলাকায় কয়েকজন মাদকসেবী ও ছিনতাইকারী অবস্থান করছিল। পুলিশ অভিযান চালালে তারা দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। এসময় ব্যক্তিগত কাজে সাদা পোশাকে সেখানে উপস্থিত ছিলেন র্যাব সদস্য ইমন আচার্য।
পালিয়ে যাওয়া এক ছিনতাইকারীকে শক্তভাবে জাপটে ধরেন ইমন। শুরু হয় ধস্তাধস্তি। একপর্যায়ে ছিনতাইকারী কোমর থেকে ছুরি বের করে ইমনের বাম বুকে আঘাত করে। রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি।
তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। আইসিইউতে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা তাকে বাঁচানোর চেষ্টা চালান। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দুপুর দেড়টার দিকে মৃত্যুর কাছে হার মানেন সাহসী এই র্যাব সদস্য।
নিহত ইমন আচার্যের কনস্টেবল নম্বর ৬৯১৭৯০। দীর্ঘদিন ধরে তিনি র্যাব-৯ সিলেটে কর্মরত ছিলেন। সহকর্মীদের কাছে তিনি ছিলেন দায়িত্বশীল ও সাহসী একজন সদস্য।
র্যাব-৯ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ বলেন, পুলিশের ধাওয়া দেখে ইমন মানবিক ও দায়িত্ববোধ থেকে ছিনতাইকারীকে আটকানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে তিনি গুরুতর আহত হন।
ঘটনার পরপরই অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত আসাদউল আলম বাপ্পীকে আটক করে পুলিশ। তার কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সিলেট মহানগর পুলিশ।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বলছেন, দায়িত্ব পালনের বাইরেও একজন সাহসী সদস্য হিসেবে অপরাধ ঠেকাতে এগিয়ে গিয়ে জীবন দিলেন ইমন আচার্য। তার এই আত্মত্যাগ দীর্ঘদিন মনে রাখবে সিলেটবাসী।
এদিকে পুলিশ বলেছে আটককৃত আসাদুল আলম বাপ্পী নামের এক মাদক ব্যবসায়ী। শুক্রবার দুপুরে কিনব্রিজ এলাকায় কয়েকজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী মাদক সেবন ও বিক্রি করছিলেন। তাঁরা স্থানীয়ভাবে ছিনতাইকারী হিসেবেও পরিচিত। পুলিশের একটি টহল দল তাঁদের দেখে ধাওয়া দেয়। এ সময় মাদক ব্যবসায়ী চক্রের সদস্যরা দৌড় দেন। আসাদুল আলম বাপ্পী নামের এক মাদক ব্যবসায়ী তখন তোপখানা এলাকার রাস্তার দিকে দৌড় দেন। ওই রাস্তায় সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে তখন পায়চারি করছিলেন র্যাবের কনস্টেবল ইমন আচার্য। এ সময় তিনি ওই মাদক ব্যবসায়ীকে ঝাপটে ধরেন। সঙ্গে সঙ্গে আসাদুল ওই র্যাব সদস্যের বুকের বাম পাশে চাকু দিয়ে আঘাত করেন। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় ইমনকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে বেলা দেড়টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। র্যাব সদস্যকে ছুরিকাঘাত করে আসাদুল পালিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ সদস্যরাও তাঁর পিছু নেন। এ সময় আসাদুল তোপখানা এলাকার একটি বাসায় ঢুকে পড়ে এক শিশুর গলায় চাকু ধরে ওই পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে পালানোর চেষ্টা করেন। তবে পুলিশ সদস্যরা কৌশলে তাঁকে আটক করেন। এ সময় আসাদুলের কাছে থাকা চাকুটিও জব্দ করেছে পুলিশ।