ট্রাইব্যুনালে গুমের মামলা

সালাহউদ্দিন ও ইলিয়াস আলীর গুমের তদন্তে জোরালো গতি

সালাহউদ্দিন ও ইলিয়াস আলীর গুমের তদন্তে জোরালো গতি

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে বিএনপির ৩ হাজার ২৯৯ জন নেতাকর্মীকে গুম ও হত্যা করা হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে দলটির দুই শীর্ষ নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ ও এম ইলিয়াস আলীর মামলাটিকে অন্যতম প্রধান গুরুত্ব দিয়ে দেখছে প্রসিকিউশন টিম।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, ব্যাপক পরিসরে যে গুমের মামলাগুলো হাতে নেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে শীর্ষ ও আলোচিত ৮১টি মামলা বাছাই করে প্রথম দফায় তদন্ত শুরু হয়েছে। এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীর গুমের ঘটনা।

ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং সিলেট-২ আসন থেকে দুবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য এম ইলিয়াস আলীকে ২০১২ সালের এপ্রিলে ঢাকার বনানীতে তাঁর বাসার কাছ থেকে গাড়ি থামিয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর থেকে দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে তাঁর আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর, ২০২৫ সালের ৯ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে ইলিয়াস আলীসহ ১৫৩ জনকে গুম এবং ২ হাজার ২৭৬ জন নেতাকর্মীকে ক্রসফায়ারে হত্যার অভিযোগে একটি বড় আবেদন দাখিল করে বিএনপি। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিজে এই অভিযোগে স্বাক্ষর করেন।

অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, তৎকালীন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) ও প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) তৎকালীন প্রধানসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের আসামি করা হয়েছে।

২০১৫ সালের ১০ মার্চ রাতে বিএনপির তৎকালীন মুখপাত্র ও বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে রাজধানীর উত্তরার একটি বাসা থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নেওয়া হয় বলে তখন তাঁর পরিবার অভিযোগ করে। দীর্ঘ ২ মাস নিখোঁজ থাকার পর ওই বছরের ১১ মে ভারতের মেঘালয়ের শিলংয়ে স্থানীয় পুলিশ তাঁকে উদ্‌ভ্রান্তের মতো ঘোরাঘুরি করা অবস্থায় উদ্ধার করে।

বৈধ নথিপত্র ছাড়া ভারতে প্রবেশের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে ফরেনার্স অ্যাক্ট অনুযায়ী মামলা করে মেঘালয় পুলিশ। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে ২০২৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ভারতের আপিল আদালত সালাহউদ্দিন আহমদকে অনুপ্রবেশের মামলা থেকে সম্পূর্ণ খালাস দেন এবং দেশে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সরকারের পতনের পর, ১১ আগস্ট তিনি দীর্ঘ ৯ বছর পর বাংলাদেশে ফিরে আসেন।

দেশে ফেরার পর ২০২৫ সালের ৫ জুন সালাহউদ্দিন আহমদ নিজেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে তাঁর গুম ও নির্যাতনের লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এই অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করা হয়।

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামের কাছে বিএনপির পক্ষে ঘটনার প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও আবেদন পুনরায় জমা দিয়ে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ ও ইলিয়াস আলীর মামলার তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন:

“বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলীর গুমের ঘটনার তদন্ত অত্যন্ত জোরালোভাবে চলছে। তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ হলে খুব শিগগিরই ট্রাইব্যুনালে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।”

প্রসিকিউটর কার্যালয় ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী প্রসিকিউটর মোহাম্মদ মিজানুল ইসলাম জানিয়েছেন, বর্তমানে ট্রাইব্যুনালে গোপন আটককেন্দ্র বা ‘আয়নাঘর’, জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল (জেআইসি) এবং টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে গুম ও নির্যাতনের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। সালাহউদ্দিন আহমদ ও ইলিয়াস আলীর মামলার তদন্ত সম্পন্ন হলে এই দুটি ঐতিহাসিক মামলাই আনুষ্ঠানিক বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনালের মূল ট্র্যাকে চলে আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।

নামাজের সময়সূচি
  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৩:৪০
  • ১১:৫৩
  • ৪:২৯
  • ৬:৩৯
  • ৮:০৩
  • ৫:০৪