জিয়া ছিলেন ব্যতিক্রমী রাষ্ট্রনায়ক

“বাংলাদেশের ইতিহাসে বিরল ব্যক্তিত্বের একজন রাষ্ট্রনায়ক ছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তাঁর ব্যক্তিত্ব ছিল পাহাড়সম। তিনি ছিলেন দৃঢ়চেতা,সংযত, মার্জিত ও সততার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে রাষ্ট্র পরিচালনা এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতির প্রতিটি ক্ষেত্রে তিনি রেখে গেছেন স্বতন্ত্র ছাপ।”

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম)-এর ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে মৌলভীবাজার জেলা বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান।

শনিবার দুপুরে শহরের এম সাইফুর রহমান অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে জেলা বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। পুরো অডিটোরিয়ামজুড়ে ছিল আবেগঘন পরিবেশ। বক্তারা বারবার স্মরণ করেন স্বাধীনতার ঘোষক ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক হিসেবে পরিচিত জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন, নেতৃত্ব এবং রাষ্ট্রগঠনে তাঁর ভূমিকা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এম নাসের রহমান বলেন, “অনেকেই প্রশ্ন করেন, জিয়াউর রহমানকে কেন হত্যা করা হলো, কে হত্যা করলো? এসব প্রশ্নের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট। তিনি ছিলেন এমন একজন নেতা, যিনি সবসময় প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে কাজ করতেন।”

মুক্তিযুদ্ধে জিয়ার অবদানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের সময় অনেক সেক্টর কমান্ডার দূরবর্তী অবস্থান থেকে যুদ্ধ পরিচালনা করলেও জিয়াউর রহমান সরাসরি সম্মুখযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাঁর সাহসিকতা ও নেতৃত্বের কারণে তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে বিশেষ মর্যাদা লাভ করেছিলেন।”

তিনি বলেন, “স্বাধীনতার পরও তিনি থেমে থাকেননি। রাষ্ট্র পরিচালনায় তিনি যে দূরদর্শিতা দেখিয়েছেন, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে বিরল। তিনি ছিলেন অত্যন্ত দৃঢ়, সংযত ও মার্জিত ব্যক্তি। তাঁর ব্যক্তিত্ব ছিল একেবারে পাহাড়সম। সততায় ছিলেন অনন্য। সেনাবাহিনীতে তাঁর মতো ব্যক্তিত্বসম্পন্ন কর্মকর্তা খুব কমই ছিলেন।”

বক্তব্যের একপর্যায়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে জিয়াউর রহমানের অবস্থান নিয়ে আলোচনা করেন নাসের রহমান। তিনি বলেন, “১৯৮০ সালে ইরান-ইরাক যুদ্ধ শুরু হলে মুসলিম বিশ্বের নেতারা যুদ্ধ বন্ধে উদ্যোগ নেন। সে সময় ওআইসির উদ্যোগে গঠিত একটি বিশেষ কমিটির নেতৃত্ব দেওয়া হয়েছিল জিয়াউর রহমানকে। সাতজন রাষ্ট্রপ্রধান ওই কমিটির সদস্য ছিলেন। কিন্তু তাঁদের মধ্য থেকে জিয়াউর রহমানকেই প্রধান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এটি ছিল তাঁর প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আস্থার বড় প্রমাণ।”

তিনি আরও বলেন, “যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে জিয়াউর রহমান একাধিকবার তেহরান ও বাগদাদ সফর করেন। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা দ্রুত বৃদ্ধি পায়। মুসলিম বিশ্বের একজন সম্ভাবনাময় নেতা হিসেবে তিনি আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসেন।”
দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিয়েও বক্তব্য রাখেন নাসের রহমান। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ একসময় দুর্ভিক্ষের ভয়াবহতা দেখেছে। কিন্তু খুব অল্প সময়ের মধ্যেই দেশ খাদ্য উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও সে সময় বাংলাদেশের এই পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। এটি ছিল দেশের উন্নয়নের ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।”

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন মৌলভীবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য নাসির উদ্দীন আহমেদ মিঠু, জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মিজানুর রহমান মিজান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সিনিয়র সদস্য আলহাজ্ব আব্দুল মুকিত, মৌলভী মো. আব্দুল ওয়ালী সিদ্দিকী, অ্যাডভোকেট সুনীল কুমার দাশ এবং জাসাসের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সৈয়দ আশরাফুল মজিদ খোকন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. ফয়জুল করিম ময়ূন এবং সঞ্চালনা করেন সদস্য সচিব মো. আব্দুর রহিম রিপন।

বক্তারা বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শুধু একজন রাজনৈতিক নেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন একটি দর্শনের নাম। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে তাঁর অবদান জাতি দীর্ঘদিন স্মরণ করবে।

অনুষ্ঠান শেষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী সাবেক প্রধান মন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া মাহফিলে দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি এবং গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা কামনা করা হয়। জেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সরব উপস্থিতিতে পুরো আয়োজনটি পরিণত হয় জিয়াউর রহমানকে স্মরণ ও তাঁর রাজনৈতিক আদর্শ পুনর্ব্যক্ত করার এক বড় মঞ্চ।

নামাজের সময়সূচি
  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৩:৪০
  • ১১:৫৩
  • ৪:২৯
  • ৬:৩৯
  • ৮:০৩
  • ৫:০৪