হাবীবের বক্তব্যে সিলেট বিএনপির ক্ষোভ

সিলেটে এক বিক্ষোভ সমাবেশে বিএনপি সম্পর্কে দেওয়া একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বক্তব্যটি নিয়ে সমালোচনা ও জনমনে অসন্তোষ দেখা দিলে পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দুঃখ প্রকাশ করেছেন সিলেট জেলা জামায়াতের আমীর ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য মাওলানা হাবিবুর রহমান। তাঁর এই দুঃখ প্রকাশকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও রাজনৈতিক দায়িত্বশীলতার প্রশ্নে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে এক যৌথ বিবৃতিতে সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী এমপি, মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদি এবং সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী এ প্রতিক্রিয়া জানান।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, “সিলেটের একজন বয়োজ্যেষ্ঠ ও প্রবীণ নেতার কাছ থেকে বিএনপি সম্পর্কে এমন অসংলগ্ন ও অনভিপ্রেত বক্তব্য কোনোভাবেই প্রত্যাশিত ছিল না। তাঁর ওই অশালীন মন্তব্যে দলীয় নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের সাধারণ জনগণ অত্যন্ত মর্মাহত ও ক্ষুব্ধ হয়েছেন।”

সম্প্রতি সিলেটে জ্বালানি তেল-গ্যাস ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে সিলেট মহানগর জামায়াত এক বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে। উক্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখার সময় মাওলানা হাবিবুর রহমান বিএনপি সম্পর্কে কিছু মন্তব্য করেন, যা রাজনৈতিক মহলে ‘অসংলগ্ন’ ও ‘কুরুচিপূর্ণ’ হিসেবে গণ্য হয়। প্রবীণ এই নেতার মুখে এমন বক্তব্য শুনে সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়।

বক্তব্যটি নিয়ে বিতর্ক ও তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হওয়ার পর মাওলানা হাবিবুর রহমান নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে একটি পোস্টের মাধ্যমে দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি সেখানে উল্লেখ করেন যে, বক্তব্য দেওয়ার সময় তাঁর ‘শব্দচয়ন ভুল হয়েছিল’।

জামায়াত আমীরের দুঃখ প্রকাশের পর জেলা ও মহানগর বিএনপি নেতৃবৃন্দ একে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করলেও বক্তব্যের ভাষা ও নোংরা মানসিকতা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন। সিলেটের রাজনৈতিক সম্প্রীতি, ভাষার মার্জিত রূপ এবং অতীত ঐতিহ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে নেতৃবৃন্দ বলেন, “সিলেটের রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য বরাবরই সৌজন্য, শালীনতা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ওপর প্রতিষ্ঠিত। রাজনীতিতে মতপার্থক্য ও আদর্শিক বিরোধ থাকতেই পারে, কিন্তু দায়িত্বশীল নেতাদের বক্তব্যে সবসময় শালীনতার প্রতিফলন থাকা প্রয়োজন। এই অঞ্চলের রাজনৈতিক ভাষা কোনো কালেই এমন ছিল না। কিন্তু সিলেট-১ আসনের পরাজিত প্রবীণ রাজনীতিবিদের বক্তব্যের ভাষা এতটাই কুরুচিপূর্ণ, যা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। এর মাধ্যমে তিনি সিলেটের চিরচেনা রাজনৈতিক সৌজন্যতাবোধ ও ঐতিহ্যকে ক্ষুণ্ণ করেছেন।”

বিএনপি নেতৃবৃন্দ তাঁদের বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করেন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, রাজনৈতিক সহনশীলতা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের চর্চায় দেশের রাজনীতিকে এগিয়ে নিতে পারে। ব্যক্তিগত আক্রোশ বা বিদ্বেষমূলক বক্তব্য কেবল সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে।
নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুধুমাত্র ‘শব্দচয়ন ভুল হয়েছে’ বলে দুঃখ প্রকাশ করলেই এই ধরনের কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যের দায় এড়ানো যায় না। এ ধরনের নেতিবাচক ও সংকীর্ণ মানসিকতার কারণেই দেশের সচেতন জনগণ তাঁদের অতীতে বারবার প্রত্যাখ্যান করেছে। নির্বাচনে বারবার প্রত্যাখ্যাত হয়ে তাঁর সমস্ত আক্রোশ এখন জনগণের ওপর গিয়ে পড়েছে।”

গণতন্ত্রে জনগণই চূড়ান্ত বিচারক উল্লেখ করে সিসিক প্রশাসক ও জেলা-মহানগর বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ বলেন, জনগণ অতীতেও দায়িত্বশীল ও গণমুখী নেতৃত্বের পক্ষে রায় দিয়েছে এবং রাজনৈতিক প্রজ্ঞার পরিচয় দিয়েছে। তাই জনবিচ্ছিন্ন ও অশালীন বক্তব্য কখনোই মানুষের সমর্থন পায় না। সিলেটের ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও সম্প্রীতি ধরে রাখতে ভবিষ্যতে সকল রাজনৈতিক পক্ষকে আরও সংযত, সতর্ক ও দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানান তাঁরা।

বার্তা প্রেরক:
মাহবুব আলম
সহ দফতর সম্পাদক
সিলেট জেলা বিএনপি।

নামাজের সময়সূচি
  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৩:৩৯
  • ১১:৫৪
  • ৪:২৯
  • ৬:৪০
  • ৮:০৫
  • ৫:০৪