
যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মধ্যে নাহিদা সুলতানা বৃষ্টিও (২৭) নিহত হয়েছেন বলে পুলিশের সূত্রে নিশ্চিত করেছেন তার ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত। তবে এখনও তার লাশ উদ্ধার হয়নি।
শনিবার (২৫ এপ্রিল ২০২৬) সকালে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে জাহিদ হাসান প্রান্ত এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ তাকে ফোন করে মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে। পুলিশ জানিয়েছে, সন্দেহভাজনের বাসায় রক্তমাখা অবস্থায় উদ্ধার করা মানবদেহের একটি অংশের সঙ্গে নাহিদার ডিএনএ মিলেছে। তবে তার পূর্ণাঙ্গ মরদেহ এখনো উদ্ধার হয়নি এবং তা পাওয়া যাবে কি না, তা নিশ্চিত নয়।
নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রি অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৩তম ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী ছিলেন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা (ইউএসএফ)-এ কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডক্টরাল গবেষণা করছিলেন।
এর আগে গত শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) ইউএসএফ-এর আরেক শিক্ষার্থী জামিল লিমনের (২৭) ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার মরদেহ পাওয়া যায় ফ্লোরিডার ট্যাম্পায় হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের কাছে। জামিল লিমন ইউএসএফ-এর জিওগ্রাফি, এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড পলিসি বিভাগে পিএইচডি করছিলেন।
দুজনেই ১৬ এপ্রিল নিখোঁজ হন। জামিলকে সর্বশেষ দেখা যায় সকাল ৯টার দিকে তার অফ-ক্যাম্পাস আবাসিকে এবং নাহিদাকে সকাল ১০টার দিকে ক্যাম্পাসের ন্যাচারাল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস বিল্ডিংয়ে।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে জামিল লিমনের রুমমেট হিশাম সালেহ আবুঘরবেহ (২৬) নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের অফিস। তাকে বিভিন্ন অভিযোগে (ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স, ব্যাটারি, ফলস ইমপ্রিজনমেন্ট, এভিডেন্স টেম্পারিংসহ) চার্জ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ বর্তমানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।
নাহিদা ও জামিলের মৃত্যুর খবরে পরিবার ও যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটিতে গভীর শোক নেমে এসেছে। পরিবারের সদস্যরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
নাহিদা বৃষ্টির মৃত্যু ডিএনএ পরীক্ষায় নিশ্চিত হলেও তার পূর্ণ মরদেহ এখনো উদ্ধার হয়নি। পুলিশ তদন্ত অব্যাহত রেখেছে। জামিল লিমনের মৃত্যুর কারণ হিসেবে মাথায় আঘাতজনিত হোমিসাইড উল্লেখ করা হয়েছে। দুজনের মধ্যে একসময় সম্পর্ক ছিল বলে পরিবারের সূত্রে জানা গেছে।
এ ঘটনায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট কর্তৃপক্ষও যোগাযোগ রাখছে।