রেড কার্ডের বিশ্বকাপে স্বাগতম!

কথায় আছে দিনের শুরুটাই বলে দেবে দিন কেমন যাবে। ২০২৬ বিশ্বকাপের সূচনাও বলে দিচ্ছে এবারের বিশ্বকাপ কেমন হবে! শুরুতেই লাল রঙের আগুনে ম্যাচ। ট্যাকল, পাল্টা ট্যাকল, গোল বাঁচাতে মরিয়া চেষ্টা আর একের পর এক লাল কার্ড! শাকিরার সুরের জাদু, নাচ, গান, মেক্সিকান ওয়েব ছাপিয়ে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচের রঙ তাই লাল! মেক্সিকো- দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচে আজতেকা স্টেডিয়ামের আশি হাজার দর্শক আর বিশ্বজুড়ে কোটি মানুষের চোখ ছিল দুই দলের খেলোয়াড়, কোচদের দিকে। প্রত্যাশামতো গোলও হলো দুটি, যাতে বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের ইতিহাসে মেক্সিকোর উদ্বোধনী অভিশাপ থেকে মুক্তি! কিন্তু ব্রাজিলিয়ান রেফারীর আগুনে মূর্তির সামনে নাচ, গান, গোল, ইতিহাস এসব মনে রাখে কে! সবকিছুকে পেছনে ফেলে তাই বিশ্বকাপের উদ্বোধনী মঞ্চের সব আলো উইলটন সাম্পাইয়োর দিকে। তাঁর ব্যাক পকেট থেকে যেভাবে তিনবার বেরিয়েছে লাল কার্ড, তাতে বলাই যায় রেড কার্ডের বিশ্বকাপে আপনাকে স্বাগতম!

ম্যাচের ৯ মিনিটে পরিকল্পিত এক আক্রমণ থেকে গোল করে মেক্সিকোকে উদ্বোধনী অভিশাপ থেকে বের হওয়ার পথ খুলে দেন হুলিয়ান কিনিয়োনেস। প্রথমার্ধে দুই দলের কেউই আর জালের ঠিকানা করতে পারেনি। শেষ ৪৫ মিনিট দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য হয়ে ওঠে চ্যালেঞ্জ। আগ্রাসী মেক্সিকোকে আটকাতে হবে আবার গোল শোধ করে জয়ের পথ খুজতে হবে। এই চ্যালেঞ্জটা নিতে গিয়েই এলোমেলো হয়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা। ৫০ মিনিটে নিজেদের বক্সে মেক্সিকোর এক খেলোয়াড়কে ফেলে দিয়ে লাল কার্ড দেখেন দক্ষিণ আফ্রিকান মিডফিল্ডার স্ফেফেলো সিথোনে। ৬৭ মিনিটে ডানপ্রান্ত থেকে আসা অসাধারণ এক ক্রসে দর্শনীয় হেডে মেক্সিকোকে ২-০ তে এগিয়ে নেন রাউল হিমিনেজ। তবে কে জানতো বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচের নাটক তখনো বাকি। ৮৪ মিনিটে ভালো একটা আক্রমণ গড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। মিডফিল্ডার থেম্বা জেওয়ানে বক্সে ঢোকার পথে বাঁধা দেন মেক্সিকোর এক খেলোয়াড়। বাঁধা ডিঙাতে গিয়ে হাত দিয়ে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের মুখে আঘাত করেন জেওয়ানে। রিভিউ দেখে দক্ষিণ আফ্রিকান মিডফিল্ডারকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারী। রেড কার্ডের নাটকীয়তা তখনো শেষ হয়নি! ম্যাচের যোগ করা সময়ে বাজে ট্যাকল করে লাল কার্ড দেখেন মেক্সিকো ডিফেন্ডার সেজার মন্তেস! বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে তিন লাল কার্ড এই প্রথম। এর আগে ১৯৯০ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা- ক্যামেরুন উদ্বোধনী ম্যাচে দুই লাল কার্ড দেখেছিল ফুটবল বিশ্ব। ম্যারাডোনা আর আর্জেন্টিনাকে আটকাতে গিয়ে সেই ম্যাচে লাল কার্ড দেখেন ক্যামেরুনের আন্দ্রে কানা বিয়িক ও বেনজামিন ম্যাসিং। ২০২২ ও ২০১৮ বিশ্বকাপে লাল কার্ড ছিল ৪টি করে। তবে এক বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ২৮টি লাল কার্ডের রেকর্ড ২০০৬ আসরে। সেবার গ্রুপ পর্বে ইতালি-যুক্তরাষ্ট্র ও ক্রোয়েশিয়া-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে তিনটি করে লাল কার্ড দেখা যায়। তবে সব ছাপিয়ে যায় ২০০৬ বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে নেদারল্যান্ডস- পর্তুগাল ম্যাচ। ব্যাটল অব ন্যুরেমবার্গ খ্যাত এই ম্যাচে ৪টি লাল কার্ড দেখান রেফারী, বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ লাল কার্ডের রেকর্ড এটি। এবার বিশ্বকাপে ৩২ থেকে বেড়ে দলের সংখ্যা হয়েছে ৪৮। স্বাভাবিকভাবে ম্যাচও তাই বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৪টি। প্রথম ম্যাচে ব্রাজিলিয়ান রেফারীর অগ্নিমূর্তিতে তিন লাল কার্ড! বাকি এখনো ১০৩ ম্যাচ। এই বিশ্বকাপ গোলের পাশাপাশি লাল কার্ডেরও হতে যাচ্ছে!

নামাজের সময়সূচি
  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৩:৩৮
  • ১১:৫৫
  • ৪:৩০
  • ৬:৪১
  • ৮:০৭
  • ৫:০৪