শাকিরার গান আর সুরের মূর্ছনায় পর্দা উঠলো ফুটবল বিশ্বকাপের

পর্দা উঠে গেলো ঐতিহাসিক এক ফুটবল বিশ্বকাপের। দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ- ফুটবল বিশ্বকাপের ২৩তম আসর নানা কারণে স্মরণীয়। এই প্রথম ৪৮ দলের বিশ্বকাপ। তিনটি দেশ আয়োজক, ১০৪টি ম্যাচ। অনেক কিছুই এবার প্রথম, নতুন। তবে সব নতুন আর প্রথমের ভিড়ে একজন পুরাতন রয়েছেন। যিনি পরিণত হয়েছেন ফুটবল বিশ্বকাপের পোস্টার গার্ল হিসেবে।

শাকিরা। মেক্সিকো সিটির ঐহিতাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে কলম্বিয়ান এই পপ সঙ্গীত শিল্পীর দাই দাই এবং লেটস গো গানের সুরের মুর্চনায় পর্দা উঠে গেলো ২৩তম বিশ্বকাপ ফুটবল আসরের।

 

বিশ্বকাপ ফুটবলের ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হলো মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক এই স্টেডিয়ামটিতে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আসর ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সঙ্গীত, নৃত্য আর বর্ণিল আয়োজনের মাধ্যমে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীকে স্বাগত জানানো হলো। আর সেই মহাযজ্ঞের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন লাতিন পপ তারকা শাকিরা।

শাকিরার কণ্ঠে বিশ্বকাপের সূচনা

বিশ্বকাপের নতুন অফিসিয়াল অ্যান্থেম ‘দাই দাই’ এবং ‘লেটস গো’ পরিবেশন করে আসরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন কলম্বিয়ান গায়িকা শাকিরা এবং নাইজেরিয়ান র‌্যাপার বার্না বয়। বিশাল সোনালি বিশ্বকাপ ট্রফির প্রতিরূপকে ঘিরে নৃত্যশিল্পীদের সঙ্গে মঞ্চ মাতালেন তারা।

কলম্বিয়ার জাতীয় দলের জার্সির রঙের আদলে তৈরি হলুদ-সাদা পোশাকে হাজির হওয়া শাকিরা যেন আবারও ফিরিয়ে আনলেন ২০১০ বিশ্বকাপের স্মৃতি। দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে তার গাওয়া ‘ওয়াকা ওয়াকা’ যেমন বিশ্বজুড়ে সাড়া ফেলেছিল, তেমনি এবারও ‘দাই দাই’ দিয়ে বিশ্বকাপের আবহ তৈরি করলেন তিনি।

আলোকসজ্জা, আতশবাজি এবং হাজারো দর্শকের উচ্ছ্বাসে মুখর আজতেকা স্টেডিয়াম মুহূর্তেই পরিণত হয় এক বিশাল উৎসবমঞ্চে। শাকিরার প্রাণবন্ত নৃত্য ও কণ্ঠে মুগ্ধ হয়ে ওঠে উপস্থিত দর্শকরা।

তারকাখচিত সাংস্কৃতিক আয়োজন

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শুধু শাকিরা ও বার্না বয় নন, অংশ নেন লাতিন আমেরিকার আরও কয়েকজন জনপ্রিয় শিল্পী। তাদের মধ্যে ছিলেন জে বালভিন, যিনি বর্তমানে লাতিন সঙ্গীতের অন্যতম বড় নাম। তার সঙ্গে পারফর্ম করেন কলম্বিয়ান গায়ক রায়ান কাস্ত্রো।

এছাড়া মেক্সিকোর কিংবদন্তি পপ-রক ব্যান্ড ‘মানা’ (Maná) তাদের জনপ্রিয় গান পরিবেশন করে দর্শকদের উষ্ণ করে তোলে। পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল ঐতিহ্যবাহী মেক্সিকান সংস্কৃতির নানা উপস্থাপনা।

বিশাল এক ট্রফির প্রতিরূপ মাঠের মাঝখান থেকে উঠে আসে। ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সজ্জিত শত শত নৃত্যশিল্পী মেক্সিকোর সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরেন রঙিন পরিবেশনায়।

 

বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ শুরুর আগে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি দেশের পতাকা প্রদর্শন করা হয়।

তিন দেশে তিন উদ্বোধনী অনুষ্ঠান

বিশ্বকাপ ২০২৬ ইতিহাসের প্রথম আসর, যা তিনটি দেশে- মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায়- একযোগে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তাই মেক্সিকোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর আরও দুটি পৃথক উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায়।

বিজ্ঞাপন

পুরো আয়োজনের নেপথ্যে রয়েছেন ইতালির খ্যাতিমান ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর মার্কো বালিচ। কাতার ২০২২ বিশ্বকাপ এবং মিলানো-কোর্তিনা শীতকালীন অলিম্পিকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান পরিচালনার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তার।

বালিচ জানিয়েছেন, তিন দেশের সংস্কৃতিকে আলাদাভাবে তুলে ধরলেও অনুষ্ঠানগুলোর মূল বার্তা একটাই—ফুটবল মানুষের মধ্যে ঐক্য, সম্প্রীতি ও আনন্দের সেতুবন্ধন তৈরি করে।

Shakira

 

মেক্সিকোর অনুষ্ঠানে ব্যবহার করা হয়েছে ঐতিহ্যবাহী ‘পাপেল পিকাদো’ শিল্পকর্ম। কানাডার অনুষ্ঠানে থাকবে দেশটির বহুসাংস্কৃতিক পরিচয় তুলে ধরা মোজাইক নকশা। আর যুক্তরাষ্ট্রের অংশে থাকবে ধাতব ঝলমলে বিশ্বকাপ ট্রফির প্রতিরূপ।

রাজনৈতিক বিভাজনের বিপরীতে ফুটবলের ঐক্যের বার্তা

মার্কো বালিচ বলেন, ‘এটি শুধু ফুটবল বা ফিফার উদযাপন নয়, এটি মানুষের একসঙ্গে আসার উৎসব। এমন এক সময়ে বিশ্বকাপ হচ্ছে, যখন রাজনৈতিকভাবে নানা বিতর্ক ও বিভাজন রয়েছে। কিন্তু ফুটবল মানুষকে একত্রিত করে, আনন্দ দেয়।’

তার মতে, তিনটি দেশ একসঙ্গে এত বড় একটি টুর্নামেন্ট আয়োজন করছে- এটিই বিশ্ববাসীর কাছে একটি ইতিবাচক বার্তা।

দর্শকদের উন্মাদনা

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের অনেক আগ থেকেই আজতেকা স্টেডিয়ামে ভিড় করতে শুরু করেন হাজার হাজার সমর্থক। মেক্সিকোর সমর্থকদের মুখে ছিল ‘ভিভা মেক্সিকো’ এবং ‘ওলে, ওলে, ওলে’ ধ্বনি।

রঙিন পোশাক ও পতাকা হাতে তারা উৎসবে যোগ দেন। দক্ষিণ আফ্রিকার সমর্থকরাও পিছিয়ে ছিলেন না। দুই দেশের ভক্তরা একসঙ্গে গান গেয়ে ও নাচে অংশ নিয়ে ফুটবলের বৈশ্বিক মিলনমেলার সৌন্দর্য তুলে ধরেন।

এরপর মাঠে ফুটবল যুদ্ধ

বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে নজর চলে যায় মাঠের খেলায়। বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় শুরু হচ্ছে বিশ্বকাপ ২০২৬-এর উদ্বোধনী ম্যাচ, যেখানে স্বাগতিক মেক্সিকোর প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকা।

৪৮ দলের অংশগ্রহণে আয়োজিত এবারের বিশ্বকাপ হবে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আসর। মোট ১০৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে প্রায় ৪০ দিনের এই মহাযজ্ঞে। ১৯ জুলাই নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে ফাইনাল।

ফুটবল, সঙ্গীত, সংস্কৃতি এবং বিশ্বের নানা প্রান্তের মানুষের মিলনে বিশ্বকাপ ২০২৬-এর যাত্রা শুরু হলো এক স্মরণীয় আয়োজনের মধ্য দিয়ে। আর সেই যাত্রার প্রথম আলো জ্বালালেন শাকিরা।

নামাজের সময়সূচি
  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৩:৩৮
  • ১১:৫৫
  • ৪:৩০
  • ৬:৪১
  • ৮:০৭
  • ৫:০৪