
রেফারী যখন খেলা শেষের বাঁশি বাজান স্টেডিয়ামের টিভি স্ক্রিনে তখন হলুদ জার্সি পরা এক কিশোরের কান্না। কিশোর থেকে ক্যামেরার লেন্স ঘুরিয়ে অন্যদিকে গেলেও সেই একই দৃশ্য- কান্না! জার্মানীর জালে বল জড়ালো ইকুয়েডর, জয় নিশ্চিত হলো, আবার সেই দেশেরই মানুষের চোখে জল! এই জল আবেগের, অবিশ্বাসের, স্বপ্নের চেয়েও বড় কিছু পাওয়ার। ২-১ গোলের জয়ে জার্মান ইঞ্জিন আটকে দিল ইকুয়েডর! বলুন তো কাল রাতে এই ম্যাচ শুরু হওয়ার আগে ইকুয়েডরের পক্ষে বাজি ধরার মতো কেউ কি ছিল? অবশ্যই না। জার্মানি নাম শুনলেই যেখানে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনার মতো দলও নার্ভাস থাকে সেখানে দক্ষিণ আমেরিকার ইকুয়েডর। যারা ফুটবলের ছোট শক্তি। মাঝেমধ্যে বড় দলগুলোকে কাঁপিয়ে দেয়া ছাড়া পরাজয়ই যাদের নিয়তি। সেই ইকুয়েডর কাল ভয়ডরহীন ফুটবল খেললো, পিছিয়ে পড়েও ২-১ গোলে জার্মানীকে হারালো আর এই জয়ে ২০ বছর পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নিল!
লেরয় সানে, মুসিয়ালাদের শরীরি ভাষায় অবিশ্বাসের ছাপ। নিউজার্সি স্টেডিয়ামের গ্যালারীতে থাকা জার্মান দর্শকরা হতবাক। কি থেকে কি হয়ে গেল। বেঞ্চে থাকা একাদশ নামালেও তো ইকুয়েডরের সাথে হারার কথা নয় জার্মানির। কিন্তু ফুটবল মাঝে মাঝে এমন সব অঘটন উপহার দেয় বলেই তো রাত জেগে ফুটবলেই নিজেকে সপে দেয় মানুষ। ম্যাচের শুরুতেই লেরয় সানের গোলে জার্মানির এগিয়ে যাওয়া। নবম মিনিটে সেই গোলের জবাব দেয় ইকুয়েডর। বক্সের বাইরে থেকে নিখুঁত এক নিশানায় ম্যানুয়েল নয়্যারকে পরাস্ত করে জার্মানীর জালে বল জড়ান নিলসন আনহুলো। প্রথম হাফ ১-১ সমতায় শেষ হলে দ্বিতীয়ার্ধে গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে জার্মানি। একের পর এক আক্রমণে গোলের বেশকটি সুযোগ তৈরি হয়। কিন্তু সেসব আটকে দেন ইকুয়েডর গোলরক্ষক আর তাঁদের রক্ষণ দেয়াল। গোল না পাওয়ার হতাশার মাঝেই ৭৭ মিনিটে গোল খেয়ে বসে জার্মানি! বক্সের ভেতর কিংবা বাইরে থেকে ম্যানুয়েল নয়্যারকে ফাঁকি দেয়া কঠিন এক কাজ। কর্ণার থেকে উড়ে আসা বলে পা লাগিয়ে সেই কঠিন কাজটাই করেন গঞ্জালো প্লাতা!
ইকুয়েডর ২- জার্মানি ১! বাকি সময় অনেক চেষ্টা করেও আর খেলায় ফিরতে পারেনি জার্মানি। গত দুই ম্যাচে গোল না পাওয়া ইকুয়েডর এই জয়ে চার পয়েন্ট নিয়ে সেরা তৃতীয় দল হয়েই উঠলো নকআউট পর্বে। ২০০৬ বিশ্বকাপ থেকে ২০২৬, বিশ বছর পর বিশ্বকাপের নকআউট নিশ্চিত করলো ইকুয়েডর। গ্রুপ ই থেকে জার্মানি, ইকুয়েডরের সঙ্গে আইভরিকোষ্টও নকআউট পর্বের টিকিট পেল। আফ্রিকার দেশটি তো আরো মাথা উঁচু করেই গেল শেষ ৩২ এ। কুরাসাওকে ২-০ গোলে হারিয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ রানারআপ আইভরিকোষ্ট। ২০২৬ বিশ্বকাপ তো তাঁদের কাছে ফুটবল ইতিহাসের বিশেষ কিছু। এবারই যে প্রথম বিশ্বকাপের নকআউটে যেতে পারলো আইভরিকোষ্ট। এর আগে তিনবার বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেললেও প্রত্যেকবারই গ্রুপ থেকে বিদায় নিতে হয়েছে দিদিয়ের দ্রগবার দেশকে।