প্রশাসনের অভিযান থাকলে ওসিলেটের জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট এলাকায় সুরমা নদী থেকে ইজারা বহির্ভূত যায়গা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ হচ্ছে না। এভাবে বালি উত্তোলন করায় পরিবেশও মারাত্মক হুমকির মুখে। বিষয়টিকে কেন্দ্র করে এলাকায় বেশ কিছুদিন থেকে উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রশাসন থেকে ইজারদারকে সতর্ক করা হলেও তারা তা তোয়াক্কাই করছেনা। টাষ্ক ফোর্স নামিয়ে, মোবাইল কোর্ট করেও কাজ হচ্ছে না। গ্রামবাসীর প্রশ্ন এটা কি কোন পাতানো খেলা? ভিডিও সহ প্রমাণ দিয়েও প্রশাসনকে বুঝানো যাচ্ছে না-লুটের কথা।
বুঝানো যাচ্ছেনা ২৫ টি গ্রামবাসীর অসহাত্বের কথা।
গ্রামবাসী বলেন, হয় আমাদেও রাস্থায় নামতে হবে , না হয় নদীতে ডুবে মরতে হবে। এ ছাড়া কোন বিকল্প নেই।
এদিকে সর্বশেষ গত শুক্রবার অসহায় গ্রামবাসীর আবেদনের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় জকিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঐ দিন বিকালে বারোহাল ইউনিয়নের নয়াগাও মৌজার সুরমা নদী বালু মহালে মোবাইল কোর্ট পরিচলনা করেন।
জকিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুজিত কুমার চন্দ বলেন, ‘আমি সরেজমিনে ঘটনা স্থলে গিয়ে দেখি বালি উত্তোলনে ব্যবহৃত ড্রেজারগুলো সীমানার মধ্যেই রয়েছে। তবে আমি তাদের সতর্ক করে এসেছি তাদের।
তিনি জানান, সীমানার বাহিরে অর্থাত ইজারা বহির্ভূত যায়গা থেকে বালি উত্তোলনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে এর আগেও ঐ ইজারদরকে জেলা প্রশাসক সো‘কোজ করে সতর্ক করেছেন।
তিনি বলেন, ইজারার শর্ত ভঙ্গ করে সীমানার বাহিরে গিয়ে বালু উত্তোলন করলে জেলা প্রশাসক চাইলে ইজারা বাতিল করে দিতে পারেন।
এদিকে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার পর গতকাল শনিবার এলাকার প্রতিবাদী কয়েকজন নদীতে পাহারা বসিয়েছে।
সূত্র মতে, জনৈক ব্যক্তি এক কোটি ৬৪ লাখ টাকা ইজারা মূল্যে সুরমা নদীর দক্ষিণের অংশে জকিগঞ্জ নয়াগ্রাম এলাকার একটি বালু মহাল ইজারা নেন। কিন্তু ইজারাদারের লোকজন ইজারা বহির্ভূত কানাইঘাটের কায়স্থগ্রাম সহ আরো কয়েকটি এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ বালি উঠাচ্ছেন। ফলে কানাইঘাট ও জকিগঞ্জে সুরমার তীরে বহু স্থাপনা নদী ভাঙ্গনে পড়েছে।
প্রতিকার চেয়ে গত ৬ জুন জেলা প্রশাককে লিখিত ভাবে অবহিত করলে জেলা প্রশাসক সংস্লিষ্ট কানাইঘাট ও জকিগঞ্জ উপজেলার টিএনও-কে জরুরী ভাবে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন।
উপজেলা প্রশাসন আবারো ‘লালপতাকা’ টানিয়ে ইজারাকৃত ভূমি চিহ্নিত করে ইজারাদাকে সতর্ক করেন। কিন্তু তারা তা মানছেন না।
তারা সাধারণ মানুষের চোখ ফকি দিয়ে কখনো ভোর ৩ টা থেকে সকাল ৯ টা। আবার কখনো দিনের যেকোন সময় ইজারা বহিভূত যায়গা থেকে বালি উত্তোলন করে। আর কোন অভিযানের খবর পেলেই তারা ড্রেজার বন্ধ করে চুপচাপ বসে থাকে ইজারাকৃত যাগায়। পরবর্তীতে আবারো গ্রামবাসীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসন টাষ্ক ফোর্স নামায় গভীর রাতে। তখন বড় বড় নৌকা ও ড্রেজার থেকে লোকজন নদী সাঁতরিয়ে পালিয়ে যায়। এরপর লোকজন আস্বস্থ হন। কিন্তু দুএকদিনের মধ্যেই সেই পুরনো অবস্থা। গ্রামবাসীর আর্তনাদ বাড়তেই থাকে। অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে তারা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে ৫ মন্ত্রী বরাবরে আবেদন করেন। তার পর বন্ধ হয়নি বালু লুট।
এলাকাবাসী জানান, অভিযানের আগে ‘পোষা লোকজনে’র মাধ্যমে খবর পৌছে যায়। গ্রামের প্রতিবাদী তরুণ যুবক মারুফ আহমদ বলেন, ‘এ সংক্রান্ত ভিডিও রেকর্ড প্রশাসনকে সরবরাহ করেছি অনেকবার। তবুও কিছু হচ্ছে না। প্রমাণ থাকার পরও ড্রেজার, নৌকা জব্দ হয়না। তহশীলদারের টানানো ‘লাল ফ্লেগ’ অতিক্রম করে ইজারা বহির্ভূত যায়গায় থেকে বালি উত্তোল হচ্ছেই। বর্তমানে সরকারী ‘লাল ফ্লেগ’ও উধাও। ড্রেজারের শব্দে ঘুমাতে পারিনা। নদী তীর ভেঙ্গে বসত ভিটা চলে যাচ্ছে। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে যাওয়ারও যায়গা নেই।’ মারুফ বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছেন।
‘তারা আমাকে শেষ করে দিতে চায়,’ বলেন মারুফ। কিন্তু আমিতো কথা বলছি, আইন বহির্ভূত কাজ ও লুটের বিরুদ্ধে।’
স্থানীয়রা জানান, ঐ স্থান থেকে দৈনিক কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে অবৈধ বালু উত্তোলন করে নিচ্ছে।
ক্রমাগত বালু উত্তোলনের ফলে কানাইঘাট ও জকিগঞ্জে সুরমার নদী তীরে মোট ২৫ টির বেশী গ্রাম সহ বিভিন্ন স্থাপনা নদী গর্ভে চলে যাচ্ছে।এর মধ্যে জকিগঞ্জের শরিফাবাদ, কোনাগ্রাম, নয়া গ্রাম, চক গ্রাম, বুরহানপুর, বারইগ্রাম, ফইল গ্রাম,দিঘীরপার, কাকুরা, সিঙ্গারপার, গোলাঘাট, দত্তগ্রাম,গোদার বাজার, ডালাহানি গ্রাম এবং কানাইঘাটের ভাটজি গ্রাম, উমরগঞ্জ, বাঘার বাজার, দক্ষিণ বড়দেশ, কাইস্থগ্রাম, চন্দ্রপুর, চলিতাবাড়ী, পাত্র, ঝিঙ্গাবাড়ী উল্লেখযোগ্য। জকিগঞ্জের শাহগলির চক গ্রামের বাসিন্দারা জানালেন, পরিবেশ ধংশী ‘চারটি হাইড্রোলিক ড্রেজার ও বড় বড় নৌকা দিয়ে দৈনিক অন্তত: কোটি টাকার বালু উঠানো হচ্ছে। বিষয়টিকে কেন্দ্র করে বেশ কিছুদিন থেকে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেকোন সময় অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গ্রামবাসী বলছেন, তারা এই বিষয়ে প্রশাসনের কঠোর আইনী ব্যবস্থা চান।
আমারসিলেট/হা



