
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন এবং বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল নিউইয়র্ক এর যৌথ উদ্যোগে গত ১০ এপ্রিল সন্ধ্যায় কনস্যুলেট জেনারেল প্রাঙ্গণে একটি অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বসহ প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির বিশিষ্ট সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসভিত্তিক একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান তাঁর বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ বুদ্ধিজীবী এবং বীরাঙ্গনাদের অবদানের কথা স্মরণ করেন। তিনি স্বাধীনতার মূল চেতনা হিসেবে একটি গণতান্ত্রিক, দারিদ্র্য ও বৈষম্যমুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক ও আধুনিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি নতুন প্রজন্মকে সঙ্গে নিয়ে একটি গতিশীল ও আত্মপ্রত্যয়ী জাতি গঠনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোর বিভিন্ন ঘটনা বিশেষ করে ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থান একটি বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গঠনের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করেছে, যেখানে সুশাসন ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ আরও সুদৃঢ় হয়েছে এবং শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের একটি দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন। তিনি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের বহুমাত্রিক সম্পর্ক জোরদারে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদানের কথাও উল্লেখ করেন এবং ভবিষ্যতে এই ভূমিকা আরও শক্তিশালী হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের শুভেচ্ছা জানান। তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং ২৬ মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণার ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন। তিনি স্বাধীনতার জন্য জীবন উৎসর্গকারী শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং আন্দোলন পরিচালনাকারী নেতৃবৃন্দ, মুক্তিযোদ্ধা, মা ও বোনদের আত্মত্যাগের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদানের প্রশংসা করেন এবং দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় তাদের ভূমিকা আরও জোরদার হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশি শিল্পীদের সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। পরে অতিথিদের জন্য ঐতিহ্যবাহী দেশীয় খাবারের আয়োজন করা হয়।