
গতকাল রোববার (১০ মে) অত্যন্ত ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করেছেন প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তাঁর দিনটি শুরু হয় জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে। সরকারের প্রভাবশালী পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান গতকালই যুক্তরাষ্ট্রে এসে পৌঁছেছেন। মন্ত্রী আরিফুল হক তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
আজ সোমবার বিকেলে আরিফুল হক চৌধুরী বাংলাদেশের উদ্দেশে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করবেন। গতকাল বিকেলে তিনি নিউইয়র্ক মহানগর উত্তর বিএনপি আয়োজিত এক সংবর্ধনা সভায় যোগ দেন। সভার সামগ্রিক পরিবেশে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন। দলীয় সভা শেষে মহানগর উত্তর সভাপতি আহবাব চৌধুরী খোকনের অনুরোধে তাঁর বাসায় যান। মূলত মন্ত্রীর সম্মানে সেখানে এক মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়েছিল। তবে ম্যানহাটনস্থ বাংলাদেশ মিশনে মধ্যাহ্নভোজ সম্পন্ন করায় তিনি সরাসরি ব্রঙ্কসের গোল্ডেন প্লেইসে দলীয় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দিতে চলে যান।
ব্রঙ্কস থেকে তিনি কুইন্সে আসেন ‘টিবিএন টোয়েন্টিফোর’-এর বিশেষ লাইভ অনুষ্ঠান “টিবিএন স্পেশাল”-এ অংশ নিতে। কৃতজ্ঞতা জানাই সাংবাদিকবান্ধব জনপ্রতিনিধি ও গণমানুষের নেতা আরিফ ভাইকে—আমার একান্ত অনুরোধ রক্ষা করে তিনি টিবিএন অফিসে আসায়। টিবিএন পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয় এবং এ সময় তিনি প্রতিষ্ঠানের মালিকপক্ষের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন।

লাইভ অনুষ্ঠান শেষে মন্ত্রী বাংলাদেশ সোসাইটির আয়োজিত মতবিনিময় সভায় যোগ দেন। এটি ছিল তাঁর সফরের সবচেয়ে বড় আয়োজন। সেখানে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করার পর তিনি নিউজার্সির উদ্দেশে রওনা হন। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র সফরে এসে তিনি নিউজার্সিতে তাঁর বন্ধু আব্দুর রব ভাইয়ের বাসায় উঠেছেন।
শনিবার রাতে আমি এবং আমার বন্ধু আহবাব নিউজার্সিতে রব ভাইয়ের বাসায় উপস্থিত হই। সেখানে শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ আরিফ ভাইয়ের দলীয় নেতাকর্মী, তাঁর বোনের পরিবার এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধু জিল্লু ভাইয়ের স্ত্রী উপস্থিত ছিলেন। আমাদের যাওয়ার মূল উদ্দেশ্য ছিল তাঁর সফরের পরবর্তী কর্মসূচি বা সিডিউল চূড়ান্ত করা। আর তখনই খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ হলো একজন এমপি ও মন্ত্রী হিসেবে আরিফ ভাই ঠিক কী ধরনের বিপত্তির মধ্যে সময় পার করছেন।
আমরা পৌঁছানোর আগেই যুবদলের একটি প্রতিনিধি দল তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষ করেছে। এরপর শুরু হলো একের পর এক সাক্ষাৎ, ফটোসেশন, সেলফি, নানাবিধ তদবির, নালিশ, জমিজমার সমস্যা সমাধান, দাবিনামা আর আড্ডা। কে কখন তাঁকে কোথায় নিয়ে যাবে, তা নিয়ে এক বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা ও শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। কারণ, তিনি কাউকে ফিরিয়ে দিতে পারছেন না। একটি জেলার প্রবাসী সংগঠনকে সময় দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় তারা স্থানীয় এমপির মাধ্যমে ফোন করিয়ে চাপ সৃষ্টি করেছে। যারা সরাসরি সময় নিতে পারেননি, তারা বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করে তাঁর কাছে পৌঁছেছেন।
একদিকে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচনী এলাকার মানুষের প্রত্যাশা পূরণ, অন্যদিকে মন্ত্রী হিসেবে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন—এই দুইয়ের মাঝে সমন্বয় করা ছিল কঠিন চ্যালেঞ্জ। এর ওপর রয়েছে দলের চাহিদা ও সময় দেওয়া। বন্ধুবান্ধবের বিশাল তালিকা আর আত্মীয়স্বজনের খোঁজখবর নেওয়ার দায়বদ্ধতা তো আছেই। খাওয়া, ঘুম এবং নিয়মিত ৭-৮টি ঔষধ সেবনের মাঝে এই ব্যস্ততা সত্যিই এক বিরাট ধকল।
এমনকি রোববার তাঁর এক নিকট আত্মীয় টিবিএন অফিসের সামনে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে তাঁর দেখা পেতে সমর্থ হন। নিউজার্সি থেকে ম্যানহাটন, সেখান থেকে ব্রঙ্কস, তারপর কুইন্স হয়ে পুনরায় নিউজার্সি—এই দীর্ঘ যাতায়াত যে কতটা কষ্টসাধ্য, তা যারা এখানে গাড়ি চালান তারাই কেবল অনুধাবন করতে পারেন। অসহনীয় ট্রাফিক জ্যাম আর দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার ক্লান্তি সহ্য করেও তিনি সবার সঙ্গে হাসিমুখে দেখা করেছেন।
এক সপ্তাহের একটি অনবদ্য সফর শেষ করে আজ সোমবার আরিফুল হক চৌধুরী দেশে ফিরছেন। গণমানুষের নেতা এবং প্রবাসীদের আপনজন আরিফ ভাইয়ের জন্য রইল নিরন্তর শুভকামনা। আপনি সুস্থ থাকুন, দেশ ও মানুষের কল্যাণে নিবেদিত থাকুন সবসময়।