
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে একটি হাউসবোট ও মালামালবাহী নৌকার ধাক্কাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় আমিন মিয়া (২৩) নামে এক নৌশ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মাহফুজ মিয়া (২৮) নামে আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার পর কেবিটি প্রেজেন্টস নোটিলাস হাউসবোটের মালিকসহ ৯ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
নিহত আমিন মিয়া কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব উপজেলার আগানগর ইউনিয়নের কলাপাড়া গ্রামের কালাম মিয়ার ছেলে। আহত মাহফুজ মিয়া কালাম মিয়ার সহোদর ভাই।
নিহতের স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, সোমবার (৮ জুন) রাত আনুমানিক ৩টার দিকে উপজেলার আনোয়ারপুর বাজার সংলগ্ন রক্তিনদীর পাড়ে কেবিটি প্রেজেন্টস নোটিলাস হাউসবোট ও ভৈরব থেকে আসা একটি মালামালবাহী নৌকার মধ্যে ধাক্কা লাগে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা এবং পরে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
এ সময় মালবাহী নৌকায় ঘুমিয়ে থাকা আমিন মিয়া চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে বাইরে বের হলে হাউসবোটের লোকজন তার ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়। হামলার একপর্যায়ে তিনি গুরুতর আহত হয়ে নদীতে পড়ে যান। একই ঘটনায় তার চাচা মাহফুজ মিয়াও গুরুতর আহত হন।
নিহতের বাবা কালাম মিয়া অভিযোগ করে বলেন, হাউসবোটের ১০ থেকে ১৫ জন লোক আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। আমার ছেলেকে মারধর করে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। পরে হাউসবোট মালিকের নির্দেশে আমাকে প্রায় তিন ঘণ্টা আটকে রেখে মিথ্যা স্বীকারোক্তি দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়। মুক্তি পাওয়ার পর আমি ছেলেকে খোঁজাখুঁজি করি, কিন্তু কোথাও পাইনি। পরে থানায় ও ফায়ার সার্ভিসে খবর দিলে মঙ্গলবার বিকেলে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এবং মাহফুজ মিয়াকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
তাহিরপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নাজমুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, একজন নৌশ্রমিক নিহত হওয়ার ঘটনায় নোটিলাস হাউসবোটের মালিক ফাহাদ বায়জিদ হিমুসহ ৯ জন স্টাফকে আটক করা হয়েছে। মামলার এজাহার প্রস্তুতের কাজ চলছে। নিহতের লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।