
ওলিকুল শিরোমণি হযরত শাহজালাল (র.)-এর মাজার শরিফ এলাকাকে কেন্দ্র করে একটি মেগা উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করতে যাচ্ছে নবগঠিত ‘সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ (সিউক)। এই বৃহৎ প্রকল্পের মধ্য দিয়েই সিলেটে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের উন্নয়নমূলক কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে সংস্থাটি।
গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন সিউক-এর নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী। তিনি জানান, সিলেটে সিউক এখনো নতুন এবং দৃশ্যমান কোনো কাজ শুরু করেনি। তাই পবিত্র মাজার শরিফের আধুনিকায়ন ও উন্নয়ন দিয়েই তারা এই সংস্থার কার্যক্রমের সূচনা করতে চান। এই পরিকল্পনা নিয়ে ইতিমধ্যে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর সঙ্গেও তাঁর আলোচনা হয়েছে।
সম্প্রতি সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় দরগাহের আয়-ব্যয় এবং উন্নয়ন সংক্রান্ত তথ্য তলব করে। এর পরেই দরগাহর সার্বিক বিষয়ে প্রশাসনিক তদারকি শুরু হয়। জেলা প্রশাসক সরওয়ার আলমের কাছে এ সংক্রান্ত চিঠি আসার পর তিনি দরগাহ কর্তৃপক্ষের কাছে দানবাক্সের আয় ও ব্যয়ের হিসাব চান।
সঠিকভাবে হিসাব না পাওয়ায় জেলা প্রশাসকের নির্দেশে দানবাক্সের নিরাপত্তা ও হিসাবের স্বচ্ছতা রক্ষায় ওয়াক্ফ এস্টেটের দুই কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং দানবাক্সে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তালা দেওয়া হয়েছে।
দরগাহ, মসজিদ ও মাদ্রাসার সামগ্রিক উন্নয়ন ও চলমান পরিস্থিতি নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক সরওয়ার আলমের আহ্বানে অনুষ্ঠিত এই সভায় দরগাহ মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা মাসুক উদ্দিন, দরগাহ ও মসজিদ কমিটির সদস্যবৃন্দ, সিউক চেয়ারম্যান কয়েস লোদী এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে জেলা প্রশাসক দরগাহ নিয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করে বলেন: “দরগাহ’র আয়ের একটি টাকাও সরকার নিতে চায় না এবং ভবিষ্যতেও নেবে না। তবে আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা থাকা এবং সেই অর্থ উন্নয়ন খাতে ব্যয় হওয়া জরুরি। দরগাহ এলাকাকে একটি আধুনিক কমপ্লেক্সে রূপান্তর করতে সরকার মেগা প্রকল্প হাতে নিতে চায়।”
সভায় মসজিদ কমিটির সিনিয়র সদস্য জুবায়ের আহমদ চৌধুরী নতুন মসজিদ ভবন ও আধুনিক শৌচাগার নির্মাণের দাবি তোলেন। অন্যদিকে, মাজার কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরা দানবাক্সসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের প্রতি আপত্তি জানিয়ে বলেন, প্রায় ৭০০ বছর ধরে মাজার যেভাবে পরিচালিত হয়ে আসছে, সেভাবেই চলা উচিত। তারা প্রশাসনকে এ বিষয়ে আরও নমনীয় হওয়ার আহ্বান জানান।
বৈঠকে উপস্থিত থাকা সিউক চেয়ারম্যান কয়েস লোদীকে এই উন্নয়ন প্রস্তাবনাগুলোর আলোকে একটি মেগা প্রকল্প তৈরির অনুরোধ জানানো হয়। কয়েস লোদী প্রস্তাবটি সানন্দে গ্রহণ করে জানান, সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের পর এবার তারা দরগাহ এলাকায় একটি আধুনিক ও আধ্যাত্মিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে চান। খুব দ্রুতই এ বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘মাস্টারপ্ল্যান’ তৈরি করে মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।