
৪ঠা জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস। আজ থেকে ২৫০ বছর আগে এইদিনে বৃটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করে দেশটি। ২৫০ বছর পূর্তির এই ঐতিহাসিক ক্ষণে দেশটিতে কোনো উল্লাস নেই, বরং নাগরিকদের মস্তিষ্কে ভর করেছে এক গভীর মনস্তাত্ত্বিক ক্লান্তি ও ক্ষোভ। ঠিক ৫০ বছর আগে ১৯৭৬ সালে যখন দেশটির ২০০ বছর পূর্তি উদ্যাপিত হয়েছিল, তখন রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেট প্রতিবেশীরা সমস্ত রাজনৈতিক বৈরিতা ভুলে এক হয়ে বিশাল এক ব্লক পার্টিতে মেতে উঠেছিল। উৎসবের সেই অনাবিল আনন্দ স্থায়ী হয়েছিল ভোররাত অবধি। কিন্তু আজ, ২০২৬ সালে এসে দেশটির আড়াইশ’ বছর পূর্তির এই মাহেন্দ্রক্ষণটি পরাশক্তিটির জন্য একাধারে বিপুল সামরিক-অর্থনৈতিক শক্তি প্রদর্শন এবং গভীর অভ্যন্তরীণ শঙ্কার এক অদ্ভুত সন্ধিক্ষণে এসে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান রাজনৈতিক মেরূকরণ আর সামাজিক অবক্ষয় অনেক মার্কিন নাগরিককে এতটাই হতাশ করেছে যে, তারা আর কোনো উৎসবে শামিল হতে চান না।
নাগরিক অসন্তোষ ও মার্কিন স্বপ্নের অবক্ষয়: যুক্তরাষ্ট্রে পিউ রিসার্চ সেন্টারের সাম্প্রতিক এক দীর্ঘমেয়াদি সমীক্ষায় উঠে এসেছে এক ভয়াবহ চিত্র। প্রায় ৭০ ভাগ মার্কিন নাগরিক দেশের বর্তমান সামগ্রিক পরিস্থিতি এবং দেশ যে অভিমুখে যাচ্ছে, তা নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। শুধু তাই নয়, প্রায় ৬০ ভাগ মানুষের দৃঢ় বিশ্বাস যে, এই দেশের সেরা এবং সোনালী দিনগুলো আসলে বহু আগেই অতীতে হারিয়ে গেছে, যা আর কখনো ফিরে আসবে না। গ্যালাপ-এর জরিপ অনুযায়ী, মাত্র অর্ধেক নাগরিক এখন নিজেদের মার্কিন হিসেবে ‘অত্যন্ত গর্বিত’ বা ‘বেশ গর্বিত’ বলে দাবি করেন, যা গত ২৫ বছরের ইতিহাসে সর্বনিম্ন রেকর্ড। অন্য একটি স্বাধীন জরিপ সংস্থা জানিয়েছে, প্রতি চারজন মার্কিন নাগরিকের মধ্যে তিনজনেরই স্পষ্ট মত দেশটি আজ যে বিশৃঙ্খল রূপ ধারণ করেছে, তা যদি এর প্রতিষ্ঠাতা বা জনকেরা বা ফাউন্ডারিং ফাদার্স বেঁচে উঠে দেখতেন, তবে তারা চরম হতাশ ও লজ্জিত হতেন। এই সামগ্রিক সামাজিক ও রাজনৈতিক হতাশার পেছনে রয়েছে এক গভীর অর্থনৈতিক ক্ষত। ‘দ্য স্টেট অব দ্য নেশন’ প্রজেক্টের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের একটি অঙ্গরাজ্যও বর্তমানে আয় বৈষম্য হ্রাস, দীর্ঘমেয়াদি বেকারত্ব দূরীকরণ কিংবা প্রতি ঘণ্টার মজুরি বৃদ্ধির সূচকে ইতিবাচক উন্নতি করতে পারেনি।



