
মৌলভীবাজারে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনা ও নানা আয়োজনের মধ্যদিয়ে স্যাটেলাইট চ্যানেল এনটিভি ২৩ বছর পেরিয়ে ২৪ বছরের পদার্পন অনুষ্ঠান পালিত হয়েছে। শনিবার দুপুরে মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবে এনটিভি’র প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর কেক কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল।
এনটিভির স্টাফ করেসপনডেন্ট এস এম উমেদ আলীর সভাপতিত্বে ও সঞ্চালনায় অলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার মো: মনিরুল আলম, জেলা পরিষদ প্রশাসক মিজানুর রহমান মিজান, মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম ময়ূন, সদস্য সচিব আব্দুর রহিম রিপন, মৌলভীবাজার জেলা জামায়েত ইসলামীর সেক্রেটারী মো: ইয়ামির আলী, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম মৌলভীবাজার জেলা সভাপতি মাওলানা জামিল আহমদ আনসারি, মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবের আহবায়ক ও দৈনিক বাংলারদিন পত্রিকার সম্পাদক বকসি ইকবাল আহমদ, জেলা জজ আদালতের পিপি ও এম সাইফুর রহমান স্মৃতি পরিষদ সাবেক সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট ড. আব্দুল মতিন চৌধুরী, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) প্রতিনিধি ও বিএসএনবি চক্ষু হাসপাতালের সাধারণ সম্পাদক ছাদিক আহমদ, মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য ও দৈনিক স্বাধীনতার চেতনা পত্রিকার সম্পাদক বকসি মিসবাহ উর রহমান, আহবায়ক কমিটির সদস্য ফখরুল ইসলাম, মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবর সদস্য সচিব ও বাংলাভিশন প্রতিনিধি সৈয়দ হুমায়েদ আলী শাহীন, মৌলভীবাজার সদর উপজেলা বিএনপি সভাপতি মজিবুর রহমান মজনু, মৌলভীবাজার সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মারুফ আহমদ, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) যুগ্ম আহবায়ক ফাহাদ আলমসহ অন্যন্যরা।
এছাড়াও এনটিভির জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানান, জেলা জজ আদালতের স্পেশাল পিপি এডভোকেট নিয়ামুল হক, দৈনিক ইত্তেফাক ও নিউনেশন প্রতিনিধি নজরুল ইসলাম মুহিব, সংগ্রামের জেলা প্রতিনিধি মো: আজাদুর আজাদ, ৭১ টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি আহমেদ ফারুক মিল্লাত, নিউজ টুয়েন্ট্রিফোর প্রতিনিধি ও দৈনিক মৌমাছি কন্ঠের সম্পাদক ও প্রকাশক শেখ সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, দৈনিক মানবজমিনের স্টাফ রিপোর্টার মু.ইমাদ উদ দীন, চ্যানেল ওয়ানের জেলা প্রতিনিধি মো: শাহজান মিয়া, একুশে টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি বিকুল চক্রবর্তী, এখন টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি এম এ হামিদ, এটিএন নিউজ ও এটিএন বাংলার জেলা প্রতিনিধি সৈয়দ মহসীন পারভেজ, আরটিভির জেলা প্রতিনিধি চৌধুরী ভাস্কর হোম, এশিয়ান টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি মাহবুবুর রহমান রাহেল, মাই টিভির জেলা প্রতিনিধি সঞ্জয় দে, ডিবিসি নিউজের জেলা প্রতিনিধি এস আর অনি চৌধুরী, দৈনিক কালের কন্ঠের জেলা প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম, বৈশাখী টেলিভিশনের ইমন দেব চৌধুরী, রেডিও পল্লী কন্ঠের স্টেশন ম্যানেজার মেহদী হাসান, দৈনিক দিনকাল পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি সৈয়দ মমসাদ আহমদ, দৈনিক যায়যায় দিনের জেলা প্রতিনিধি আব্দুল ওয়াদুদ, আমাদের কন্ঠের জেলা প্রতিনিধি মশাহিদ আহমদ, এশিয়া বাণীর জেলা প্রতিনিধি ময়নুল হক চৌধুরী, পাতাকুঁড়ির দেশ পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার জনি বেগম, মৌমাছি কন্ঠের স্টাফ রিপোর্টার দুরুদ আহমদ, বাংলার দিনের জাহাঙ্গীর হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের টিটু আলম, মোশারফ হোসেন, খেলাফত মজলিশের খিজির মোহাম্মদ জুলফিকার, সামাজিক সংগঠন বুরহান উদ্দিন (র:) সোসাইটির চেয়ারম্যান এম মুহিবুর রহমান মুহিবসহ উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, সমাজকর্মী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, আইনজীবী, সাংবাদিকসহ নানা শ্রেণী পেশার মানুষ।
জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল এনটিভির জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, জুলাই আন্দোলন মাসে যখন আমি ঢাকায় ছিলাম, তখন মাঠপর্যায়ের প্রকৃত ও সত্য তথ্যগুলো সাধারণ মাধ্যমে পাওয়া যাচ্ছিল না। অধিকাংশ গণমাধ্যমে এক ধরনের কৃত্রিম বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ পরিবেশিত হচ্ছিল। সেই অবরুদ্ধ সময়ে আমার কাছে মনে হয়েছে, এনটিভি সহ দু’একটি গণমাধ্যম আমাদের প্রকৃত ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য পেতে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করেছে। তিনি এই সাহসী ও দায়িত্বশীল ভূমিকার জন্য এনটিভি পরিবারকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। এনটিভি দীর্ঘ সময় ধরে জনগণকে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করে আসছে এবং আমি আশা রাখি, আগামী দিনগুলোতেও এনটিভি তাদের এই পেশাদারিত্ব ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে।
যেহেতু এনটিভি আজ ২৪ বছরে পদার্পণ করছে, এটি নিঃসন্দেহে একটি দীর্ঘ পথচলা। এই দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় প্রতিষ্ঠানটি এখন একটি অত্যন্ত দায়িত্বশীল ও পরিপক্ক পর্যায়ে পৌঁছেছে। তাই তাদের প্রতি আমার অনুরোধ থাকবে আগামীতে তারা যেন আরও বেশি দায়িত্বশীলতার সাথে কাজ করেন। সেই সাথে তাদের অনুসরণ করে তরুণ ও জুনিয়র সাংবাদিকরা এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা পায়।
তিনি আরও বলেন স্বাভাবিকভাবেই, কর্মব্যস্ততার কারণে সকল সাংবাদিকবৃন্দকে একসাথে পাওয়া বেশ কঠিন একটি বিষয়। সেই হিসেবে আজকের এই আয়োজনটি আমাদের জন্য একটি চমৎকার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। এর মাধ্যমে আপনাদের সাথে একটি সুদৃঢ় ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হলো, যা ভবিষ্যতে আমাদের পারস্পরিক কাজের ক্ষেত্রকে আরও সহজ করে তুলবে।
নতুন প্রজন্মের শিশু-কিশোররাও উপস্থিত রয়েছে, যারা আগামী দিনে আরও বড় হয়ে দেশের হাল ধরবে। আজকের এই অনুষ্ঠানে ফলজ বৃক্ষ বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে, যা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এটি বর্তমান সরকারের একটি অন্যতম প্রধান ও দূরদর্শী কর্মসূচি, যার লক্ষ্য পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ করা। এটি নিঃসন্দেহে একটি অসাধারণ উদ্যোগ।
পুলিশ সুপার মো: মনিরুল ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, সময়ের সাথে আগামীর পথে এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল এনটিভি আজ ২৩ বছর পেরিয়ে ২৪ বছরে পদার্পণ করল।
প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই এই চ্যানেলটি বাংলাদেশে সুস্থ বিনোদন, শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান এবং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচারের মাধ্যমে মূলধারার গণমাধ্যমে একটি অনবদ্য স্থান করে নিয়েছে। এনটিভির এই গৌরবময় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে মৌলভীবাজার জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে আমি এর সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি। গণমাধ্যম মূলত সমাজের দর্পণ। সমাজে ঘটে যাওয়া নানা ঘটনা সঠিক, নিরপেক্ষ ও সুনীতি বজায় রেখে তুলে ধরাই এর মূল দায়িত্ব।
বর্তমানে মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নসহ সমাজের সকল অসঙ্গতির বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে। আজকের এই বিশেষ দিনে আমি আশা করব, এনটিভি-সহ অন্যান্য সকল গণমাধ্যম পুলিশের এই ইতিবাচক পদক্ষেপগুলোর সাথে একাত্মতা প্রকাশ করবে এবং প্রিয় মৌলভীবাজারসহ পূরো দেশ আরও সুন্দরভাবে এগিয়ে নিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।
জেলা পরিষদ প্রশাসক মিজানুর রহমান মিজান তার বক্তব্যে বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের হাত থেকে দেশের মুক্তির আন্দোলনে এনটিভির ভূমিকা ছিল অত্যন্ত প্রশংসনীয়। বিশেষ করে জুলাই বিপ্লবের সময় এনটিভি বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সাহস যুগিয়েছে এবং আন্দোলনকে বেগবান করতে অনন্য অবদান রেখেছে। এনটিভির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই শুভক্ষণে আমি এর সকল কর্মকর্তা ও কলাকুশলীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, আপনাদের ক্ষুরধার লেখনী ও প্রচারণার মাধ্যমে সরকারের এই উন্নয়নমূলক কাজগুলো জনগণের সামনে উঠে আসবে। এর ফলে দেশের মানুষ জানতে পারবে যে— দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জুলাই বিপ্লবের ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ আজ সফলতার মুখ দেখছে। এনটিভির উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করি।
মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম ময়ূন এনটিভির জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, বিগত সময়ে আমাদের ওপর যেভাবে রাজনৈতিক নির্যাতন চালানো হয়েছে, ঠিক একইভাবে গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের ওপরও নানাভাবে নিপীড়ন করা হয়েছে— এটি আজ আমাদের সবার জানা। এই বৈরী পরিবেশের কারণে অনেকেই স্বাধীন ও নির্ভীকভাবে সত্য ঘটনা জনগণের সামনে তুলে ধরতে পারেননি।
২০০৮ সালের ১/১১ পরবর্তী সময় থেকে শুরু করে দীর্ঘ একটা সময় আমি নিজেও নানা প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়েছি। তখন আমার মতো সক্রিয়ভাবে রাজনীতির সাথে যুক্ত একজন ব্যক্তি একটি পত্রিকা প্রকাশ করবে, এমন পরিস্থিতি বা অনুকূল পরিবেশ ছিল না।
বিগত সময়ে যদি কোনো পত্রিকা কোনো কারণে বন্ধ হয়ে থাকে কিংবা যারা নানা প্রতিকূলতার কারণে তা প্রকাশ করতে পারেননি, ওই বিষয়টির স্বচ্ছতা যাচাই করে ইতিবাচক ভূমিকা গ্রহণ করার জন্য জেলা প্রশাসককে পুনরায় তাদের পত্রিকা প্রকাশের সুযোগ করে দেয়ার কথা জানান।
বর্তমান সরকার কোনোভাবেই সাংবাদিক বা গণমাধ্যম বিরোধী নয়। বরং সরকার সংবাদমাধ্যমের সহায়তায় মাঠপর্যায়ের প্রকৃত সত্য ঘটনা ও বাস্তব চিত্রটি জানতে আগ্রহী। আপনারা ইতিমধ্যেই লক্ষ্য করেছেন যে, দেশের অনেক ঘটনা পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পেরে আমাদের প্রধান উপদেষ্টা তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন। আমরা আন্তরিকভাবে প্রত্যাশা করি, সাংবাদিকরা যেন কোনো প্রকার ভয়-ভীতি বা সংশয় ছাড়াই সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে তাদের মতামত ও সত্য প্রকাশ করতে পারেন।
সদস্য সচিব আব্দুর রহিম রিপন তার বক্তব্যে বলেন, এনটিভির এই দীর্ঘ পথচলা সত্যিকার অর্থেই অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং ছিল, এই পথ মোটেও মসৃণ ছিল না। দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং তা সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে এনটিভির যে আপসহীন লড়াই, বাংলাদেশের গণমাধ্যমের ইতিহাসে তা সবসময় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস ও প্রত্যাশা করি যে, দেশে গণতন্ত্রের যেকোনো সংকট, সাধারণ মানুষের অধিকারের লড়াই এবং প্রতিটি কঠিন সময়ে এনটিভি যেভাবে অতীতে সবসময় এদেশের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে, আগামীতেও ঠিক একইভাবে বলিষ্ঠ ভূমিকা নিয়ে পাশে থাকবে।
মৌলভীবাজার জেলা জামায়েত ইসলামীর সেক্রেটারী মো: ইয়ামির আলী তার বক্তব্যে বলেন, প্রেসক্লাবের ভেতরে আজ যে চমৎকার সাজসজ্জা করা হয়েছে, তা দেখে দেয়ালে দেয়ালে যেন জুলাই অভ্যুত্থানের একেকটি খণ্ডচিত্র ভেসে উঠছে। এই ছবিগুলো আমাদের সেই রক্তাক্ত জুলাই বিপ্লবের গৌরবোজ্জ্বল স্মৃতিকে বারবার স্মরণ করিয়ে দেয়। এই ঐতিহাসিক পরিবর্তনের পেছনে যেমন গোটা জাতির অনবদ্য ভূমিকা রয়েছে, তেমনি জাতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে আমাদের গণমাধ্যমের অবদানও অনস্বীকার্য। এক্ষেত্রে আমি বিশেষভাবে মৌলভীবাজার এনটিভির কথা উল্লেখ করতে চাই। জুলাই আন্দোলনে তারা প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত থেকে, অনেক ত্যাগ স্বীকার করে রাজপথে আন্দোলনকারীদের পাশে ছিল। আন্দোলনের প্রতিটি মুহূর্তে এনটিভিকে আমরা সহযোদ্ধা হিসেবে পেয়েছি। এই সাহসী ভূমিকার জন্য আমি এনটিভি পরিবারকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
গণমাধ্যম হলো জাতির দর্পণ বা আয়না। আয়না যেমন কোনো পক্ষপাত না করে কেবল সত্যকেই প্রতিফলিত করে, গণমাধ্যমের কাজও ঠিক তাই, সামনে যা ধ্রুব সত্য, তা-ই সমাজের বুকে তুলে ধরা। আমি আশা করি, এনটিভি-সহ দেশের সমস্ত গণমাধ্যম আগামীতেও জাতির সামনে সর্বদা সত্য প্রকাশ করবে এবং যাবতীয় মিথ্যার বিরুদ্ধে সাহসের সাথে আপসহীন সংগ্রাম চালিয়ে যাবে।
জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম মৌলভীবাজার জেলা সভাপতি মাওলানা জামিল আহমদ আনসারি তার বক্তব্যে বলেন,
সাংবাদিক ভাইদের বস্তুনিষ্ঠ ও সত্যনিষ্ঠ সংবাদের মাধ্যমে সমাজ ও সাধারণ মানুষ ব্যাপকভাবে উপকৃত হয়। তবে অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে, বর্তমানে সমাজে সত্যের চেয়ে মিথ্যা ও গুজব অনেক দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। কোনো কোনো সময় একটিমাত্র মিথ্যা সংবাদের ওপর ভিত্তি করে একজন মানুষের সারাজীবনের সততা, ত্যাগ এবং সমস্ত অর্জন মুহূর্তের মধ্যেই ধূলিসাৎ হয়ে যেতে পারে।
এ বিষয়ে মহান আল্লাহ তাআলা আমাদের সতর্ক করে পবিত্র কুরআনে এরশাদ করেছেন: “হে মুমিনগণ! যদি কোনো পাপাচারী ব্যক্তি তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তবে তোমরা তা যাচাই করে দেখবে।” অর্থাৎ, যেকোনো সংবাদ পাওয়া মাত্রই তা যাচাই না করে সমাজে ছড়িয়ে দেওয়া যাবে না। প্রথমে তার সত্যতা ও নির্ভরযোগ্যতা অনুসন্ধান করতে হবে।
বর্তমানে ‘গুজব’ নামক একটি সামাজিক অপপ্রচার আমাদের সমাজে ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। এই গুজবের করাল গ্রাস থেকে সমাজকে রক্ষা করতে সাংবাদিক ভাইদের ভূমিকা অপরিসীম। একটি মিথ্যা সংবাদ বা গুজব শুধু একজন মানুষের জীবনই নয়, বরং একটি দল, সমাজ বা গোটা জাতির জীবনকে বিপর্যস্ত করে দিতে পারে। বিগত সময়ে এনটিভির এই দীর্ঘ পথচলা সত্যিকার অর্থেই অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং ছিল। এনটিভির যে আপসহীন লড়াই, বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবের আহবায়ক বকসি ইকবাল আহমদ তার বক্তব্যে বলেন, অতীতে যখন দেশে জঙ্গিবাদী তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছিল— বিশেষ করে শেরপুর এবং আমাদের এই সদর অঞ্চলের দুটি জঙ্গি তৎপরতার ঘটনা তখন এনটিভি অত্যন্ত দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছিল।
এনটিভির এই দীর্ঘ পথপরিক্রমায় যেমন অনেক বড় বড় সাফল্য রয়েছে, ঠিক তেমনি এর পেছনে ঝুঁকিও ছিল অনেক বেশি। বহু প্রতিকূলতা, বাধা-বিপত্তি এবং ঝুঁকির মুখে দাঁড়িয়েও এনটিভি কখনো বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশন থেকে পিছিয়ে যায়নি এবং এ বিষয়ে কোনো আপস করেনি।
এনটিভি’র ২৪ বছরের পদার্পন অনুষ্ঠানে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানান, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক সহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
শেষে প্রতিবছরের ন্যায় প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর এই আনন্দ দিনে প্রেসক্লাব ও প্রেসক্লাব প্রাঙ্গনে অতিথিরা শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মাঝে উন্নত জাতের ফলজ গাছের চারা বিতরণ করেন।



