সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের হযরত ছাবাল শাহ (রহ.) মাজার প্রাঙ্গণে বৃহস্পতিবার গভীর রাত পর্যন্ত চলছিল গানের আসর। একের পর এক বাউল গান গেয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করেন কিশোরগঞ্জের ভৈরবের তরুণ শিল্পী পেহলি ভৈরবী। করতালি আর প্রশংসায় মুখর ছিল পুরো আয়োজন। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পরই সেই শিল্পীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে শোক নেমে আসে অনুষ্ঠানস্থলজুড়ে।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার কাশিকাপন এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ইউনিক পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে বেঙ্গল পরিবহনের আরেকটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান পেহলি ভৈরবী। তিনি কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার চণ্ডিবর গ্রামের বাবুল মিয়ার মেয়ে।
গানের অনুষ্ঠানে উপস্থিত এক দর্শক জানান, তিনি পুরো অনুষ্ঠানেই ছিলেন। পেহলি ভৈরবীর একাধিক গান ভিডিও ধারণ করেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারও করেন। তাঁর ভাষায়, “এর আগেও তিনি ছাবাল শাহ মাজারে এসে গান গেয়েছেন। দর্শকদের সঙ্গে তাঁর আন্তরিক সম্পর্ক ছিল।”
জানা গেছে, স্থানীয় শাহীন আহমদ তাঁর ‘বন্ধন স্টুডিও’ নামের ফেসবুক পেজে বৃহস্পতিবার রাতের অনুষ্ঠানে পেহলি ভৈরবীর পরিবেশিত একটি গান প্রকাশ করেছেন। সেই ভিডিও এখন শিল্পীর শেষ পরিবেশনার স্মৃতি হয়ে ঘুরছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি আনিছ আহমদ বলেন, ছাবাল শাহ মাজারে প্রায়ই গানের আসর বসে এবং দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে শিল্পীরা অংশ নেন। বৃহস্পতিবার রাতেও এমন একটি আয়োজন হয়েছিল। যদিও তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেননি, তবে বাড়ি থেকেই গানের শব্দ শুনতে পেয়েছেন।
দুর্ঘটনায় ইউনিক পরিবহনের বাসটি সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলে সাতজন নিহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও দুজনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন সিলেট নগরের সপ্তম রায় প্রীতম (২২), ঢাকার বিক্রমপুরের তিন বছর বয়সী জাইফা, কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরের সাইফুল ইসলাম এবং ভৈরবের বাউল শিল্পী পেহলি ভৈরবী।
শেরপুর হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান জানান, দুর্ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থল থেকে সাতটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। কিছু সময় যান চলাচল ব্যাহত হলেও পরে মহাসড়কে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে আসে।
সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. উমর রাশে মুনীর জানান, দুর্ঘটনায় আহত ১৬ জনকে হাসপাতালে আনা হয়। তাদের মধ্যে একজন মৃত অবস্থায় ছিলেন এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। একজন আইসিইউতে চিকিৎসাধীন এবং অপর একজনের জরুরি অস্ত্রোপচার করা হয়েছে।
জীবনের শেষ রাতে গান শুনিয়ে যে শিল্পী দর্শকদের হৃদয় ছুঁয়েছিলেন, পরদিন সকালেই তাঁর মৃত্যুর খবরে সেই সুর যেন পরিণত হয়েছে শোকের নীরবতায়।



