filter: 0; fileterIntensity: 0.0; filterMask: 0; brp_mask:0;
brp_del_th:null;
brp_del_sen:null;
delta:null;
module: video;hw-remosaic: false;touch: (-1.0, -1.0);sceneMode: 0;cct_value: 0;AI_Scene: (-1, -1);aec_lux: 0.0;aec_lux_index: 0;albedo: ;confidence: ;motionLevel: -1;weatherinfo: null;temperature: 45;
ঈদের ছুটির মতো আনন্দ নিয়েই সিলেট থেকে গ্রামের বাড়ি ফিরছিল পাঁচ সদস্যের একটি পরিবার। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার সেই যাত্রাই তাদের জীবনে ডেকে আনল চরম ট্র্যাজেডি। ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে তিন বছরের শিশু জাইফা। আর গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তার বাবা জাহাঙ্গীর আলম ও মা নুরুন নাহার। ছোট বোনকে হারিয়ে নির্বাক হয়ে গেছে জাইফার বড় বোন জান্নাতুল ও ভাই মোহাম্মদ।
জাহাঙ্গীর আলম ঢাকার বিক্রমপুরের বাসিন্দা হলেও দীর্ঘদিন ধরে সিলেট নগরের দক্ষিণ সুরমার চণ্ডিপুল এলাকায় পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন। সেখানে তিনি গাড়ির টায়ারের ব্যবসা করেন। শুক্রবার সকালে স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে ইউনিক পরিবহনের একটি বাসে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। কিন্তু সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ওসমানীনগর উপজেলার কাশিকাপন এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ইউনিক পরিবহনের বাসটির সঙ্গে বেঙ্গল পরিবহনের আরেকটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে তাদের সেই যাত্রা থেমে যায়।
দুপুরে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, অচেতন অবস্থায় শয্যায় পড়ে আছেন জাহাঙ্গীর আলম। তার পাশে দাঁড়িয়ে চোখের জল ফেলছে ১৬ বছর বয়সী মেয়ে জান্নাতুল ও সাত বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে জান্নাতুল বলে, “আমরা সবাই একসঙ্গে গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছিলাম। আমি আর ভাই বাসের বাম পাশে বসেছিলাম। বাবা-মা ছোট বোন জাইফাকে নিয়ে ডান পাশে ছিলেন। হঠাৎ মনে হলো বাসটি প্রচণ্ড ধাক্কা খেল। এরপর কী হয়েছে, কিছুই মনে নেই।”
প্রতিবেশী সামিয়া বেগম বলেন, “জাহাঙ্গীর আলম দীর্ঘদিন ধরে চণ্ডিপুল এলাকায় ব্যবসা করছেন। পরিবারের সবাইকে নিয়ে আনন্দের সঙ্গে বাড়ি যাচ্ছিলেন। কে জানত, সেই যাত্রাই তাদের জীবনের সবচেয়ে বড় দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়াবে।”
দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই সাতজন নিহত হন। পরে আহতদের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও দুজনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে রয়েছে তিন বছর বয়সী জাইফা এবং সিলেট নগরের সোবহানীঘাট এলাকার সপ্তম রায় প্রীতম (২২)। এছাড়া অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন। তাদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শেরপুর হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান জানান, সংঘর্ষের পর ঘটনাস্থল থেকে সাতটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দুর্ঘটনার কারণে কিছু সময় মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
ওসমানীনগর ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ মো. অপু মিয়া বলেন, দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে হতাহতদের উদ্ধার করেন এবং মরদেহগুলো শেরপুর হাইওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
হাসপাতালের শয্যায় অচেতন বাবা, চিকিৎসাধীন মা আর পাশে নীরবে দাঁড়িয়ে থাকা দুই সন্তানের চোখে এখন একটাই প্রশ্ন—যে ছোট্ট জাইফাকে নিয়ে তারা গ্রামের বাড়ি যাচ্ছিল, সে আর কোনো দিন তাদের সঙ্গে ফিরবে না।



