বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের (ছাত্রদল) নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। দলীয় সূত্রের দাবি, চলতি আগস্টের প্রথমার্ধেই নতুন কমিটি ঘোষণা হতে পারে। নতুন নেতৃত্ব বাছাইয়ে এবার স্বচ্ছতা, ত্যাগ, সাংগঠনিক দক্ষতা ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
দলীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে পরীক্ষিত এবং সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় নেতাদের মূল্যায়নের লক্ষ্যে বিএনপির হাইকমান্ড নতুন কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। অতীতের মতো লবিং বা সিন্ডিকেটের পরিবর্তে মাঠপর্যায়ের মূল্যায়ন ও বিভিন্ন তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে নেতৃত্ব নির্ধারণের প্রক্রিয়া চলছে।
বর্তমান সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন নাসিরের নেতৃত্বাধীন কমিটির মেয়াদ গত ১ মার্চ শেষ হয়েছে। এর পর থেকে নতুন কমিটি নিয়ে সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা চলছে। বিগত সময়ে বিভিন্ন ইউনিট কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে বঞ্চনার অভিযোগ, বিক্ষোভ এবং বিতর্কের ঘটনাও সামনে আসে।
সভাপতি পদে সবচেয়ে আলোচিত নামগুলোর মধ্যে রয়েছেন বর্তমান সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু আফসান মোহাম্মদ ইয়াহইয়া। এছাড়া সহ-সভাপতি এবিএম ইজাজুল কবির রুয়েল, সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান, মঞ্জুরুল আলম রিয়াদ, এইচ এম আবু জাফর, শাফি ইসলাম, খোরশেদ আলম সোহেল ও মোস্তাফিজুর রহমানের নামও আলোচনায় রয়েছে।
সাধারণ সম্পাদক পদে সম্ভাব্যদের তালিকায় রয়েছেন বর্তমান যুগ্ম সম্পাদক মমিনুল ইসলাম জিসান, সালেহ মো. আদনান, ফারুক হোসেন, শরিফ প্রধান শুভ, মো. তরিকুল ইসলাম তারিক, গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, নাহিদুজ্জামান শিপন, মিনহাজ আহমেদ প্রিন্সসহ আরও কয়েকজন নেতা।
দলীয় সূত্রের ভাষ্য, এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদেরও মূল্যায়ন করা হতে পারে। একই সঙ্গে ছাত্রদলের পাশাপাশি যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিএনপির অন্যান্য অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন পুনর্গঠনেরও পরিকল্পনা রয়েছে।
এ বিষয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, দেশ ও দলের প্রতি নিবেদিতপ্রাণ এবং ছাত্র অঙ্গন ও রাজপথে নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে—এমন নেতাদেরই নতুন কমিটিতে দায়িত্ব দেওয়া উচিত। অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষক প্রফেসর গোলাম হাফিজের মতে, প্রকৃত মেধাবী ও শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে সক্রিয় নেতাদের মূল্যায়নের মাধ্যমে ছাত্ররাজনীতির গুণগত মান আরও উন্নত হবে।



