সিলেটের ভোলাগঞ্জে কালের কণ্ঠের সাংবাদিক কবির আহমদ ও তাঁর সঙ্গে থাকা গণমাধ্যমকর্মী ও পর্যটকদের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় সাংবাদিক, পর্যটকসহ তিনজন আহত হলে ঘটনাটি সিলেটসহ দেশজুড়ে আলোচিত হয়।
এ ঘটনায় ১০ আগস্ট তিনজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে কোম্পানীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের কালের কণ্ঠের মাল্টিমিডিয়ার সিলেট বিভাগীয় ইনচার্জ কবির আহমদ
কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশ মামলাটি রেকর্ড করেছেন (মামলার নং- ৫)।
এর আগে শুক্রবার (৭ আগস্ট) সন্ধ্যায় ভোলাগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির সামনে সিলেট-ভোলাগঞ্জ মহাসড়কে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভোলাগঞ্জে সংবাদ সংগ্রহ শেষে শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে একটি হাই-এস গাড়িতে করে সিলেট শহরের উদ্দেশে রওনা হন কবির আহমদ, সঙ্গে ছিলেন গাজীপুর থেকে আসা গণমাধ্যমকর্মী ও কয়েকজন পর্যটক। ভোলাগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির সামনে সিলেট-ভোলাগঞ্জ মহাসড়কে পৌঁছালে পেছন থেকে একটি প্রাইভেট কার তাঁদের গাড়িতে জোরে ধাক্কা দেয়। এতে হাই-এস গাড়িটির পেছনের অংশের কাচ ভেঙে যায়। প্রায় এক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এরপর গাড়ি থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গে কবির আহমদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার বাদীর অভিযোগ, দেড় বছর আগে সাদা পাথর লুটের সংবাদ প্রকাশের জেরে ক্ষুব্ধ হয়ে কয়েকজন তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর করেন। এ সময় লোহার রেঞ্চ, ধারালো দা ও লোহার পাইপ দিয়ে তাঁকে আঘাত করা হয়। এতে তাঁর বুকে, নাক ও মুখে গুরুতর জখম হয়। হামলাকারীরা এলোপাতাড়ি মারধর করলে শরীরের বিভিন্ন স্থানেও কেটে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, হামলার একপর্যায়ে কবির আহমদের সঙ্গে থাকা Sony 4K Handycam ক্যামেরা ও Samsung S25 Ultra মুঠোফোন নিয়ে নেওয়া হয়। এসব যন্ত্রে ভোলাগঞ্জে সংগ্রহ করা ভিডিও ফুটেজ, ছবি ও বিভিন্ন ব্যক্তির সাক্ষাৎকারের রেকর্ড ছিল বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে কবির আহমদকে জোর করে একটি প্রাইভেট কারে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা গণমাধ্যমকর্মী, পর্যটক ও স্থানীয় পথচারীরা বাধা দেন। তাঁদের বাধার মুখে গুরুতর আহত অবস্থায় কবির আহমদকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা আরও দুই পর্যটক আহত হন।
ঘটনার সময় কোম্পানীগঞ্জ থানার এসআই জাহিদসহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, পুলিশ হামলাকারীদের ব্যবহৃত প্রাইভেট কার ও একজনকে আটক করলেও পরে আসামির স্বজনেরা মব সৃষ্টি করে পুলিশের কাছ থেকে গাড়িটি ও ওই ব্যক্তিকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
পরে আহতদের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর কবির আহমদের শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ঘটনার খবর পেয়ে ৮ আগস্ট আহত সাংবাদিক এম এ জি ওসমানী হাসপাতালের দেখতে যান প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীসহ, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
কেন ক্ষুব্ধ ছিলেন হামলাকারীরা
মামলার বাদী সাংবাদিক কবির আহমদের ভাষ্য, প্রায় দেড় বছর আগে ভোলাগঞ্জের সাদা পাথর লুটপাটের ঘটনায় তিনি সংবাদ প্রকাশ করেন। ওই সংবাদে কয়েকজনের নাম ও ছবি প্রকাশ করা হয়। দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমেও এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়।
কবির আহমদের অভিযোগ, ওই সংবাদ প্রকাশের পর হামলাকারী ইকবাল হোসেনের বাবা দুলাল মিয়া ওরফে দুলা মেম্বারকে ইসলামপুর পশ্চিম ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য পদ থেকে স্থানীয় সরকার বিভাগ বহিষ্কার করে। এরপর থেকেই তাঁকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল এবং হামলার সুযোগ খোঁজা হচ্ছিল বলে দাবি করেন তিনি।
মামলায় এ ঘটনাকে পূর্বপরিকল্পিত হামলা উল্লেখ করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিক কবির আহমদ।
অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উছমান গণি বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।



