চারদলীয় জোট সরকারের সময়ের পর সিলেট শিক্ষা বোর্ডে এসএসসিতে সর্বনিম্ন পাসের হার এবার। ১৮ বছর পর পাসের হার ৬০ শতাংশের নিচে নেমেছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে সিলেট শিক্ষাবোর্ডের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিন।
এ বছর সিলেট বোর্ডে পাসের হার ৫৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ। গত বছর এই হার ছিল ৬৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ। এবার বোর্ডের অধীনে ৮৯ হাজার ৭৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে ৫১ হাজার ৯৫৭ জন। তাদের মধ্যে ১৯ হাজার ৮৮৯ জন ছেলে ও ৩২ হাজার ৬৮ জন মেয়ে।
পাসের হার কমলেও জিপিএ-৫ বেড়েছে। এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৮৩৬ জন। গত বছর পেয়েছিল ৩ হাজার ৬১৪ জন। অর্থাৎ এবার জিপিএ-৫ বেড়েছে ২২২টি। জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের মধ্যে ১ হাজার ৭৪৫ জন ছেলে ও ২ হাজার ৯১ জন মেয়ে। এবার শতভাগ পাস করেছে সিলেটের ৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।
পাসের হার কমে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বলেন, ‘এ বছরের পরীক্ষার্থীদের দুই বছরে দুই সিলেবাসে পড়তে হয়েছে। যে কারণে পাসের হারে একটা প্রভাব পড়েছে। এছাড়া প্রতি বছরের মতো এবারও গণিত ও ইংরেজি বিষয়ে ফেল করায় গড় ফলাফল খারাপ হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার পরীক্ষা অনেকটা কড়াকড়িভাবে নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো ছিল।
শিক্ষা বোর্ডের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০১ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত সিলেট বোর্ডে পাসের হার ছিল ৫২ শতাংশের মধ্যে। ২০০১ সালে পাসের হার ছিল ৩৯ দশমিক ০৩ শতাংশ ও জিপিএ-৫ পেয়েছিল ২ জন, ২০০২ সালে ৪১ দশমিক ৯৭ শতাংশ ও জিপিএ-৫ ১৮ জন, ২০০৩ সালে ৪৫ দশমিক ১৬ শতাংশ ও জিপিএ-৫ ১০ জন, ২০০৪ সালে ৫২ দশমিক ৪৯ শতাংশ ও জিপিএ-৫ ৩৪৮ জন এবং ২০০৫ সালে ৪৮ দশমিক ৪৭ শতাংশ ও জিপিএ-৫ ৪৭৩ জন। ওই সময় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
২০০৯ সালে পাসের হার এক লাফে বেড়ে ৭৮ দশমিক ৭১ শতাংশে ওঠে। জিপিএ-৫ এর সংখ্যা দাঁড়ায় ১ হাজার ৮৯৬।
এরপরের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২২ সালে পাসের হার ছিল ৭৮ দশমিক ৮২ শতাংশ ও জিপিএ-৫ ৭ হাজার ৫৬৫টি, ২০২৩ সালে পাসের হার ৭৬ দশমিক ০৬ শতাংশ ও জিপিএ-৫ ৫ হাজার ৪৫২টি, ২০২৪ সালে পাসের হার ৭৩ দশমিক ৩৫ শতাংশ ও জিপিএ-৫ ৫ হাজার ৪৭১টি।
আমারসিলেট/হা



