রহস্য উদঘাটন পুলিশের

ট্রিপল মার্ডারের নেপথ্যে কসাইয়ের সঙ্গে গৃহকর্মীর ‘প্রেম-প্রণয়’

ট্রিপল মার্ডারের নেপথ্যে কসাইয়ের সঙ্গে গৃহকর্মীর ‘প্রেম-প্রণয়’ গৃহকর্মীর প্রেমিক বাবুলকে আটক করে পুলিশ। ছবি : আমার সিলেট

সিলেটে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রবীণ ব্যবসায়ী দম্পতিসহ গৃহকর্মীকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার চাঞ্চল্যকর হত্যার রহস্য উন্মোচনের দাবি করেছে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি)।

পুলিশ ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে সন্দেহভাজন প্রধান ঘাতককে আটক করেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে গৃহকর্মীর সঙ্গে তার প্রেম ও অনৈতিক সম্পর্কের জেরে সংঘটিত বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কাহিনী।

বুধবার বিকেলে নগরীর রায়নগর এলাকা থেকেই ঘাতক বাবুল মিয়াকে (৪০) আটক করে পুলিশ। বাবুল রায়নগরের রাজবাড়ী এলাকার আক্তার মিয়া কলোনির মৃত নূর মিয়ার ছেলে। সে পেশায় রংমিস্ত্রি হলেও পাশাপাশি কসাইয়ের কাজ করত।

যেভাবে ঘটে নৃশংস হত্যাকাণ্ড

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম জানান, রায় নগরের মিতালী ১১১ নম্বর বাড়িতে বাবুল আগে রংমিস্ত্রির কাজ করার সুবাদে যাতায়াত ছিল। সেই সূত্রে ওই বাসার তরুণী গৃহকর্মী তাহমিনার (১৮) সঙ্গে তার অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

পুলিশ কমিশনার জানান, বুধবার সকাল প্রায় ৯টার দিকে বাবুল ওই বাড়িতে প্রবেশ করে। গৃহকর্মী তাহমিনা তাকে মূল দরজা খুলে দিয়ে ভেতরে ঢুকায় এবং দরজা আবার বন্ধ করে দেয়। এরপর বাবুল ও তাহমিনা একটি কক্ষে প্রবেশ করে। সেখানে তাদের মধ্যে অনৈতিক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন নিয়ে বাকবিতণ্ডা ও ঝগড়া শুরু হয়। কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে বাবুল কসাইয়ের কাজে ব্যবহৃত ধারালো ছুরি দিয়ে তাহমিনাকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে।

তাহমিনার চিৎকার শুনে তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন গৃহকর্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬)। ঘাতক বাবুল তখন সুরাইয়া বেগমকেও ধারালো ছুরি দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে হত্যা করে। দুজনের আকস্মিক চিৎকার ও শব্দ শুনে এগিয়ে আসেন বয়োবৃদ্ধ গৃহকর্তা আব্দুস সাত্তার (৯০)। রক্তচক্ষু ঘাতক বাবুল প্রমাণ লোপাট করতে আব্দুস সাত্তারকেও একই ছুরি দিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে। রক্তভেজা তাণ্ডব চালিয়ে ঘাতক বাবুল বাসার বারান্দা দিয়ে লাফিয়ে পালিয়ে যায়।

আলামত উদ্ধার ও আইনি প্রক্রিয়া

পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম আরও জানান, “ঘটনার পর দ্রুত অভিযান চালিয়ে বাবুলকে আটক করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পাশের একটি ঝোপঝাড় থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা ছুরি ও অন্যান্য আলামত উদ্ধারে পুলিশি অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।”

এর আগে বুধবার সকালে রায় নগরের ‘মিতালী ১১১’ নম্বর বাসা থেকে তিনটি ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে সিআইডি ও এসএমপি পুলিশ। নিহতরা হলেন— বাসার মালিক বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার (৯০), তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) এবং তাঁদের গৃহকর্মী তাহমিনা (১৮)।

উল্লেখ্য, নিহত আব্দুস সাত্তার সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সদস্য ছিলেন। এই দম্পতির চার সন্তানের মধ্যে দুই সন্তান যুক্তরাজ্যে এবং দুই সন্তান যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। সিলেটে রায় নগরের নিজেদের এই নিজ বাসভবনেই বৃদ্ধ দম্পতি বসবাস করতেন।

নামাজের সময়সূচি
  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৪:০৪
  • ১২:০২
  • ৪:৩৫
  • ৬:৩৬
  • ৭:৫৫
  • ৫:২৩