পরিবেশ সংরক্ষণে শিশুদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের সৃজনশীল চিন্তার বিকাশের লক্ষ্যে আয়োজিত রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান আজ বখতিয়ার বিবি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সিলেট সুপ্রিম রোটারি ক্লাবের উদ্যোগে “পরিবেশ রক্ষায় আমার করণীয়” শীর্ষক এ রচনা প্রতিযোগিতায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে। প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করে ফাতিমা জান্নাত। যুগ্মভাবে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে বৃষ্টি দাশ ও আলো আক্তার এবং যুগ্মভাবে তৃতীয় স্থান অর্জন করে মারিয়া ও অহনা চক্রবর্তী। এ ছাড়া প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে আরও ১৫ জন শিক্ষার্থীকে বিশেষ পুরস্কার প্রদান করা হয়।
বিজয়ী ও বিশেষ পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের হাতে শিশুতোষ বই ও বিভিন্ন উপহারসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। এ উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও আনন্দের সৃষ্টি করে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জেসমিন সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রোটারি ইন্টারন্যাশনাল ডিস্ট্রিক্ট ডি-৬৫ বাংলাদেশের ডেপুটি কান্ট্রি কোঅর্ডিনেটর পিডিজি এম আতাউর রহমান পীর। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট সুপ্রিম রোটারি ক্লাবের সভাপতি ডা. মোস্তফা আহমদ আজাদ মাদানী। অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ, রোটারিয়ান এবং শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। উপস্থাপনায় ছিলেন শিক্ষক অজন্তা দত্ত। প্রধান অতিথির বক্তব্যে পিডিজি এম আতাউর রহমান পীর বলেন, পরিবেশ রক্ষা কেবল কোনো প্রতিষ্ঠান বা সরকারের দায়িত্ব নয়; এটি আমাদের প্রত্যেকের নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব।
আজকের শিশুরাই আগামী দিনের নাগরিক। তাই শৈশব থেকেই তাদের মধ্যে পরিবেশের প্রতি ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ ও সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের বেশি করে গাছ লাগানো, গাছের যত্ন নেওয়া, প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, পানি ও বিদ্যুতের অপচয় রোধ এবং নিজেদের ঘর, বিদ্যালয় ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, একটি ছোট গাছ লাগানো যেমন ভবিষ্যতের জন্য বড় অবদান, তেমনি একজন শিশুর মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা সৃষ্টি করা একটি সুন্দর ও নিরাপদ পৃথিবী গড়ার বিনিয়োগ। রচনা প্রতিযোগিতার মতো সৃজনশীল আয়োজন শিক্ষার্থীদের শুধু লেখার দক্ষতাই বাড়ায় না, বরং তাদের চিন্তাশক্তি, দায়িত্ববোধ ও সামাজিক মূল্যবোধও সমৃদ্ধ করে। সভাপতির বক্তব্যে প্রধান শিক্ষক জেসমিন সুলতানা বলেন, শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানের পাশাপাশি বাস্তব জীবনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে সচেতন করে তোলা বিদ্যালয়ের অন্যতম দায়িত্ব। পরিবেশ রক্ষা বর্তমান বিশ্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। তাই শিক্ষার্থীদের পরিবেশবান্ধব আচরণে অভ্যস্ত করতে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত কার্যকর। তিনি শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের প্রশংসা করে বলেন, পুরস্কার পাওয়া যেমন আনন্দের, তেমনি প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়াটিও একটি বড় অর্জন। তিনি রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন ও শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার জন্য সিলেট সুপ্রিম রোটারি ক্লাবকে ধন্যবাদ জানান। সিলেট সুপ্রিম রোটারি ক্লাবের সভাপতি ডা. মোস্তফা আজাদ বলেন, সমাজের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সচেতন ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে রোটারি সবসময় বিভিন্ন মানবিক, সামাজিক ও শিক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। পরিবেশ সংরক্ষণ একটি বৈশ্বিক দায়িত্ব এবং এই দায়িত্ব পালনের সূচনা হতে পারে বিদ্যালয় থেকেই। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার জন্য পুরস্কারের পাশাপাশি বই উপহার দেওয়ার মাধ্যমে তাদের পাঠাভ্যাস ও জ্ঞানচর্চার প্রতিও উৎসাহিত করা হচ্ছে। ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। পরে প্রধান অতিথি ও অতিথিবৃন্দ বিজয়ী এবং বিশেষ পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। ১৫ জন বিশেষ পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীর হাতেও শিশুতোষ বই ও বিভিন্ন উপহারসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। পুরস্কার পেয়ে শিক্ষার্থীরা আনন্দ ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে এবং পরিবেশ রক্ষায় নিজেদের ভূমিকা রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে। অনুষ্ঠানটি শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও আয়োজকদের মধ্যে পরিবেশ রক্ষার বিষয়ে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করে। আয়োজকরা মনে করেন, আজকের সচেতন শিশুই আগামী দিনের সবুজ, সুন্দর ও বাসযোগ্য পৃথিবীর নির্মাতা।



