এটা মোটরসাইকেল না, যেন চলন্ত বোমা। বিকট শব্দে কান ফেটে যায়, বুক কেঁপে ওঠে। সিলেটের আম্বরখানা, জিন্দাবাজার, কুমারপাড়া, রায়নগরসহ বিভিন্ন এলাকা ও গলিতে— সন্ধ্যা হলেই শুরু হয় এদের রেস।

এরা কারা? ১৫-২০ বা এর বেশি বয়সের কিছু উচ্ছৃঙ্খল কিশোর-তরুণ। বাপের টাকায় বাইক কিনে সাইলেন্সার খুলে, হর্নে হাইড্রোলিক লাগিয়ে নিজেকে হিরো ভাবে। এদের কাছে রাস্তা মানে স্টান্টের মাঠ, মানুষ মানে দর্শক।

এটা কি ফ্যাশন, না সন্ত্রাস?

একজন হার্টের রোগী, একজন ঘুমন্ত শিশু, একজন বৃদ্ধ মানুষ — এই বিকট শব্দে তাদের কী অবস্থা হয়, ভেবেছেন কখনো?

স্কুল-কলেজের সামনে মেয়েদের দেখলে ইচ্ছে করে শব্দ বাড়িয়ে দেয় — এটা ইভটিজিং নয়?

এছাড়া রাত ১০টা-১টায় আবাসিক এলাকায় এই শব্দ — এটা কি নাগরিক অধিকার লঙ্ঘন নয়?

পুলিশ মাঝে মাঝে ধরে, ২ দিন পর আবার একই চিত্র। কারণ জরিমানা ৫০০ টাকা, আর সাইলেন্সার খুলতে লাগে ২০০ টাকা।

আমরা প্রশাসনের কাছে দাবি জানাই — এই বিকট শব্দের বাইকগুলো জব্দ করুন, সাইলেন্সার খোলা গ্যারেজগুলোকে জরিমানা করুন, আর অভিভাবকদের বলি — আপনার সন্তানের হাতে বাইক তুলে দেওয়ার আগে ভাবুন, আপনি কি তাকে বাইক দিচ্ছেন, নাকি অন্যের অভিশাপ কিনে দিচ্ছেন?

রাস্তা কারো বাপের নয়, শব্দ দিয়ে বীরত্ব দেখানো যায় না।

আসলে, কোম্পানি যখন একটি মোটরবাইক তৈরি করে, তখন তারা ইঞ্জিনের ধোঁয়া বের হওয়ার পাইপের ভেতর ফিল্টার এবং শব্দ কমানোর জন্য ‘ব্যাফেল’ বা সাইলেন্সার যুক্ত করে দেয়। কিন্তু অনেকে বেশি গতি, ভিন্ন লুক কিংবা বিকট ও গম্ভীর আওয়াজ পাওয়ার জন্য এই আসল পাইপটি বদলে ফেলে। বাইকের পাইপ মূলত দুইভাবে মডিফাই করা হয়:আংশিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বাইকের ইঞ্জিনের দিকের অংশ ঠিক রেখে শুধু পেছনের সাইলেন্সার বক্স বা মাফলারটি বদলে ফেলা হয়। এর ফলে বাইকের আওয়াজ অনেক জোরে বা কর্কশ হয়।

সম্পূর্ণ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ইঞ্জিনের মুখ থেকে শুরু করে একদম শেষ প্রান্ত পর্যন্ত পুরো পাইপটিই বদলে নতুন কাস্টম পাইপ লাগানো হয়। এটি সাধারণত রেসিং বাইকে পারফরম্যান্স বাড়ানোর জন্য করা হলেও, সাধারণ রাস্তায় এর তীব্র শব্দ মারাত্মক দূষণ তৈরি করে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *