মৌলভীবাজার জেলা গোয়েন্দা শাখার বিশেষ অভিযানে চোরাই মোটরসাইকেলসহ মিল্টন সরকার (৪৯) নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সোমবার দিবাগত রাত ৪টার দিকে শ্রীমঙ্গল থানাধীন হবিগঞ্জ রোডস্থ নুর ফুডস এন্ড রেস্টুরেন্টের সামনে শ্রীমঙ্গল-হবিগঞ্জগামী মহাসড়কে চেকপোস্ট পরিচালনাকালে নাম্বার প্লেটবিহীন একটি মোটরসাইকেলকে থামানোর সংকেত দিলে চালক মোটরসাইকেলটি উল্টো দিকে ঘুরিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। এ সময়
মৌলভীবাজার জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই (নিরস্ত্র) মোহাম্মদ আজিজুল গাফফার সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্সের সহায়তায় তাকে আটক করেন।
আটকের পর মোটরসাইকেলের বৈধ কাগজপত্র প্রদর্শন করতে বলা হলে মিল্টন সরকার কোনো বৈধ কাগজপত্র প্রদর্শন করতে পারেননি। তার কথাবার্তা সন্দেহজনক হওয়ায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে উপস্থিত সাক্ষীদের সম্মুখে রাত ৪টা ১৫ মিনিটে নাম্বার প্লেটবিহীন নীল-কালো রংয়ের ইয়ামাহা ১৫৫ সিসি মোটরসাইকেলটি জব্দ করা হয়,যার আনুমানিক মূল্য ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়,গ্রেফতারকৃত আসামি একজন পেশাদার ও সংঘবদ্ধ চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য এবং এই চক্রের অন্যতম মূল হোতা। সে দীর্ঘদিন ধরে সিলেট, চট্টগ্রাম,কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মোটরসাইকেল চুরি করে তা অজ্ঞাতনামা চোরাকারবারীদের কাছে বিক্রি করে আসছিল। সে একেক সময় একেক নাম ব্যবহার করে। নিজেকে কখনো মিল্টন কুমার সাহা,কখনো মিল্টন সরকার,আবার কখনো মোঃ সোহেল হিসেবে পরিচয় দেয়।
জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ সুদীপ্ত শেখর ভট্টাচার্য্য জানান, গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে চট্টগ্রামে ২১টি, মৌলভীবাজারে ৫টিসহ ব্রাহ্মণবাড়ীয়া, নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীসহ বিভিন্ন থানায় মোট ২৮টি চুরি মামলা বর্তমানে বিজ্ঞ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
২০২৬ সালের ০২ জানুয়ারি এই মিল্টন সরকারকে দুটি চোরাই মোটরসাইকেল এবং চুরির কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতিসহ মৌলভীবাজার জেলা গোয়েন্দা পুলিশ কর্তৃক শ্রীমঙ্গল ভাড়াউড়া থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।



