সিলেট বিএনপিতে গৃহদাহ প্রকাশ্য রূপ নিচ্ছে। মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ও তাঁর ‘বলয়ের’ নেতাদের সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুষ্ঠান বর্জন, সিলেট মহানগর বিএনপির অফিস উদ্বোধনে রেজাউল হাসান কয়েস লোদীর আমন্ত্রণ না পাওয়ার পর, এবার সিলেট বিএনপির রাষ্ট্রপতির নাগরিক সংবর্ধনা বর্জনের ঘোষণায় এই গৃহদাহ স্পষ্ট হচ্ছে।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সম্মানে সিলেট সিটি করপোরেশন আয়োজত আজকের (১৫ সেপ্টেম্বর) নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠান বয়কট করছে বিএনপি। বয়কটের তালিকায় রয়েছে সিলেট জেলা-মহানগর ও সুনামগঞ্জ বিএনপি। আমার সিলেটকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন। এই ঘটনায় সিলেট বিএনপির নেতাদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও গৃহদাহ স্পষ্ট হচ্ছে।
মঙ্গলবার ওলিকুল শিরোমণি হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরাণ (রহ.) এর মাজার জিয়ারতের উদ্দেশ্যে সিলেটে আসেন রাষ্ট্রপতি। সিলেট প্রবেশের পথে মহানগর বিএনপির নেতা কর্মীরা নগরীর ৭টি পয়েন্টে রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানায়। দুপুরে সিলেটে পৌঁছে রাষ্ট্রপতি হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন। সর্বশেষ কর্মসূচি হিসেবে সিলেট সিটি করপোরেশন আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা গ্রহণ করবেন রাষ্ট্রপতি। যেটি বিকেল ৩টা থেকে নগরভবনে চলছে।
এদিকে সিটি কর্পোরেশনের এই অনুষ্ঠান বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে সিলেট বিএনপি। সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন বয়কটের বিষয়টি নিশ্চিত করেন বলেন, আমরা রাষ্ট্রপতির বিভিন্ন কর্মসূচিতে ছিলাম, তবে সিটি করপোরেশনের নাগরিক সংবর্ধনায় আমরা যোগ দিচ্ছি না। তিনি বলেন, শুধু আমরা (সিলেট মহানগর বিএনপি) নই, ওই অনুষ্ঠানে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপিসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ অংশ নিচ্ছেন না।
অনুষ্ঠান বর্জনের কারণ সম্পর্কে এখন কোনো মন্তব্য করতে চাননি তিনি।
মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘যথাযথ প্রক্রিয়ায় নাগরিক কমিটি তৈরি করে সংবর্ধনা আয়োজন না করা ও অনুষ্ঠানের আয়োজকদের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে মহানগর বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনগুলো সিটি কর্পোরেশন আয়োজিত এই অনুষ্ঠান বয়কট করেছে।’
রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এটি সিলেটে প্রথম সফর।



