হোটেল সেক্টরে সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরি বাস্তবায়ন এবং ৮ ঘন্টা কর্মদিবস, নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র প্রদানসহ শ্রমআইন বাস্তবায়ন, স্বল্পমূল্যে রেশন চালুসহ বিভিন্ন দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে মৌলভীবাজার হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা সংগঠনের চৌমুহনাস্থ কার্যালয়ে জমায়েত হয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে চৌমুহনা এলাকায় সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হন।
সমাবেশে হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি তারেশ চন্দ্র দাসের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সহ-সভাপতি মোঃ সোহেল মিয়া, হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো: শাহিন মিয়া, প্রচার সম্পাদক রুহুল আমি রোহিত, হোটেল শ্রমিকনেতা খোকন মিয়া প্রমূখ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির কারণে অন্যান্য শ্রমজীবী মানুষের মতো হোটেল-রেস্তোরাঁ শ্রমিকরাও অত্যন্ত দুর্ভিষহ জীবনযাপন করছেন। তার ওপর সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি, জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি ও গাড়িভাড়া বাড়ায় নিত্যপণ্যের বাজারের আগুনে সাধারণ শ্রমিকরা পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম কষ্টে দিন কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন। মালিকপক্ষ প্রতিনিয়ত খাদ্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে নিজেদের মুনাফা বাড়ালেও শ্রমিকদের নামমাত্র মজুরি দিয়ে যাচ্ছেন।
বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, গত বছরের ৫ মে হোটেল ও রেস্তোরাঁ সেক্টরে সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরির চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের এক বছরেরও বেশি সময় পার হলেও অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। অথচ শ্রমআইনের ২৮৯ ধারা অনুযায়ী, গেজেট না মানলে সংশ্লিষ্ট মালিকের ১ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর শ্রমমন্ত্রী ৩০ জুন ২০২৬-এর মধ্যে নিম্নতম মজুরি বাস্তবায়নের ডেডলাইন ঘোষণা করলেও তা এখনও আলোর মুখ দেখেনি।
সমাবেশ থেকে মতিঝিলের ‘হিরাঝিল রেস্টুরেন্টে’ আন্দোলনরত শ্রমিকদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হয়। শ্রমিকনেতারা অভিযোগ করেন, মতিঝিলের হিরাঝিল রেস্টুরেন্টের শ্রমিকরা চুক্তি অনুযায়ী মজুরি ও সুযোগ-সুবিধার দাবি জানালে, গত ২০ সেপ্টেম্বর রাতে বহিরাগত সন্ত্রাসীদের দিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালিয়ে প্রতিষ্ঠান থেকে বের করে দেওয়া হয়। নেতারা অবিলম্বে হিরাঝিল রেস্টুরেন্টে হামলায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, চুক্তি বাস্তবায়ন এবং চাকরিচ্যুত সব শ্রমিককে পুনর্বাসনের জোর দাবি জানান।



