শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন ও সরকারের নিষ্ক্রিয়তার প্রতিবাদে ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। আজ মঙ্গলবার দেশটির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দাঙ্গা পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কয়েকটি স্থানে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বল বলা হয়, মার্সেই, নঁত ও লিয়ঁতে আজ মঙ্গলবার সকালে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করেন। তাদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘তারা আসলে আমাদের নিয়ে ভাবে না’ এবং ‘বাঁচো অথবা পড়াশোনা করো’। স্ট্রাসবুর্গ, লিয়ঁ ও রেনে বিক্ষোভ সহিংস হয়ে উঠলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে পুলিশের দিকে বিভিন্ন বস্তু নিক্ষেপ করেন।
প্রায় দুই সপ্তাহ আগে প্যারিসের দরিদ্র উপশহরগুলোতে এ আন্দোলনের সূচনা হয়। পরে তা দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সংকট, অতিরিক্ত শিক্ষার্থী, অপর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা এবং জরাজীর্ণ ভবনসহ নানা সমস্যা রয়েছে।
হাইস্কুল শিক্ষার্থী ইউনিয়নের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ২ হাজার হাইস্কুলে ব্লকেড চলছে।
গতকাল সোমবার উত্তর ফ্রান্সে পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের সময় ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরের হাত উড়ে যায়। ফরাসি সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্ষোভের সময় পুলিশি গ্রেনেড তুলে নেওয়ার পর ওই কিশোর আহত হয়।
ফরাসি প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো বিবেচনার নির্দেশ দিয়েছেন। এর মধ্যে শিক্ষক সংকট মোকাবিলা, দুপুরের বিরতি বাড়ানো, স্কুলের সময়সূচিতে পরিবর্তন এবং পুরোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংস্কারের বিষয় রয়েছে।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে ৬ হাজার ১০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের অধিকাংশের বয়স ১৮ বছরের নিচে। বিচার মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ১ হাজার ৮০০ জনের বেশি ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা হতে পারে, যাঁদের মধ্যে ১ হাজার ৪৮৩ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক। প্রধানমন্ত্রী লেকর্নুর তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভে অন্তত ২১৫ কিশোর ও ৭১৫ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।



