উপাচার্যের সঙ্গে শিক্ষকদের সাক্ষাৎ

​সিট বণ্টনে দুই প্রভোস্টের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগের প্রতিবাদ

​সিট বণ্টনে দুই প্রভোস্টের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগের প্রতিবাদ

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) হলের সিট বণ্টনসহ বিভিন্ন বিষয়ে সম্প্রতি প্রকাশিত অভিযোগের প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল সিনিয়র শিক্ষক।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) প্রায় ১৫ জন শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. খায়রুল ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁদের অবস্থান, পর্যবেক্ষণ ও প্রতিবাদের বিষয়টি তুলে ধরেন।

শিক্ষকরা বলেন, তাঁরা তাঁদের দায়িত্ব পালনকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নীতিমালা, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং নির্ধারিত প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁদের দায়িত্ব পালনকালে হলের সিট বণ্টনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়মের সঙ্গে তাঁরা জড়িত ছিলেন না। ফলে কোনো শিক্ষককে ব্যক্তিগতভাবে জড়িয়ে কোনো অভিযোগ বা বক্তব্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট বিষয়টি যথাযথভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

হলের সিট বণ্টন নিয়ে সাবেক দুই প্রভোস্টের বক্তব্য

হলের সিট বণ্টন নিয়ে প্রকাশিত অভিযোগের বিষয়ে সাবেক প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. জামাল উদ্দিন ও অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সেলিম তাঁদের অবস্থান তুলে ধরে বলেন, তাঁদের দায়িত্ব পালনকালে হলের সিট বণ্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট অনুমোদিত নীতিমালা এবং তৎকালীন নির্ধারিত হল সিট বণ্টন কমিটির মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে।

তাঁরা ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪ থেকে ২৯ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত হলের প্রভোস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁরা জানান, সিট বণ্টন প্রক্রিয়ায় তৎকালীন ছাত্রকল্যাণ উপদেষ্টা, যিনি সিট বণ্টন কমিটির সভাপতির দায়িত্বেও ছিলেন, বর্তমান প্রক্টর এবং সংশ্লিষ্ট হলগুলোর তৎকালীন প্রভোস্টগণ সম্পৃক্ত ছিলেন।

তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রতিটি বিভাগের জন্য নির্ধারিত কোটা অনুযায়ী আবেদনকারী শিক্ষার্থীদের তালিকা সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় প্রধানদের কাছে পাঠানো হতো। বিভাগীয় প্রধানগণ তাঁদের বিভাগের নির্ধারিত মেধা ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থী কোটার ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের তালিকা সিট বণ্টন কমিটির সভাপতির কাছে পাঠাতেন। এরপর সেই তালিকা ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সিট অনুমোদন এবং শিক্ষার্থীদের হলে ভর্তি করা হয়েছে।

সাবেক দুই প্রভোস্ট বলেন, সিট বণ্টনে তাঁদের কোনো ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ, ব্যক্তিগত স্বার্থ কিংবা কোনো নির্দিষ্ট শিক্ষার্থীকে ব্যক্তিগতভাবে হলে ওঠানোর সুযোগ বা ভূমিকা ছিল না। তাঁরা আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট সময়ের সিট বণ্টনের নথিপত্র, বিভাগীয় তালিকা এবং প্রশাসনিক অনুমোদনের প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করলেই বিষয়টি স্পষ্ট হবে।

সাক্ষাৎকালে শিক্ষকরা বলেন, তাঁদের মূল উদ্দেশ্য কাউকে আক্রমণ করা নয়; বরং সাম্প্রতিক প্রকাশিত অভিযোগের বিষয়ে তাঁদের অবস্থান ও পর্যবেক্ষণ স্পষ্ট করা। তাঁরা দায়িত্ব পালনকালে সততা, নিষ্ঠা ও প্রাতিষ্ঠানিক বিধিবিধান অনুসরণ করেছেন এবং কোনো ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন না—এ বিষয়টি তাঁরা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন।

তাঁরা বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা পত্রিকায় প্রকাশ্য বক্তব্যের মাধ্যমে প্রমাণ ছাড়া কোনো শিক্ষককে ব্যক্তিগতভাবে অভিযুক্ত করা অনাকাঙ্ক্ষিত এবং এতে একজন শিক্ষকের পেশাগত মর্যাদা ও সামাজিক সম্মান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

শিক্ষকরা আরও বলেন, তাঁরা সমালোচনার বিরোধী নন। কোনো অনিয়মের সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ থাকলে তা যথাযথ প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় তদন্ত ও যাচাই করা হোক। তবে অভিযোগের পাশাপাশি তথ্য-প্রমাণও থাকতে হবে এবং প্রকৃত সত্য নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট নথি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়াকে গুরুত্ব দিতে হবে।

উপাচার্যের কাছে শিক্ষকদের প্রত্যাশা

শিক্ষকরা উপাচার্যের কাছে তাঁদের বক্তব্য তুলে ধরে বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনার অনুরোধ জানান। পাশাপাশি কোনো শিক্ষককে ব্যক্তিগতভাবে অভিযুক্ত করার ক্ষেত্রে যথাযথ তথ্য-প্রমাণ নিশ্চিত করা এবং শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদা ও সম্মান রক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তাঁরা।

বর্তমানে যেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিট বন্টন নীতিমালা অনুযায়ী হলের সিট বণ্টন হয়, সেটি নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বানও জানান তাঁরা।

 

উপাচার্যের আশ্বাস

শিক্ষকদের বক্তব্য শোনার পর উপাচার্য অধ্যাপক ড. খায়রুল ইসলাম তাঁদের আশ্বস্ত করেন যে, বিষয়টি তিনি গুরুত্বের সঙ্গে দেখবেন। শিক্ষকদের সম্মান ও মর্যাদা যাতে ক্ষুণ্ন না হয়, সে বিষয়েও তিনি গুরুত্ব দেবেন বলে জানান।

নামাজের সময়সূচি
  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৪:৩৩
  • ১১:৪৪
  • ৩:৫৬
  • ৫:৩৮
  • ৬:৫১
  • ৫:৪৫