চিকিৎসকের অবহেলার অভিযোগ

সিলেটে মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে নবজাতকের মৃত্যু

সিলেটে মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে নবজাতকের মৃত্যু

সিলেট নগরের আখালিয়া এলাকার মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে চিকিৎসকদের অবহেলায় এক নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় হাসপাতালটিতে এ ঘটনা ঘটে। সময়মতো সিজারিয়ান অপারেশন না করে স্বাভাবিক প্রসবের চেষ্টা চালানোর কারণে নবজাতকটির মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা। তবে অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

 

স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার বাসিন্দা অন্তঃসত্ত্বা নাজমা বেগমকে দুই দিন আগে সন্তান প্রসবের জন্য মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাঁর স্বামী ইদ্রিস আলী সুমন সৌদি আরবপ্রবাসী।

 

নবজাতকের স্বজনদের অভিযোগ, আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্ট অনুযায়ী শিশুটির ওজন সাড়ে তিন থেকে চার কেজি হওয়ায় তাঁরা শুরু থেকেই সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য চিকিৎসকদের অনুরোধ করেন। তবে বারবার তাগাদা দেওয়া সত্ত্বেও দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকেরা মা ও শিশু দুজনই সুস্থ আছেন এবং স্বাভাবিক প্রসব সম্ভব বলে জানান। এভাবে সময়ক্ষেপণের কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়ে বলে দাবি তাঁদের।

 

নবজাতকের দাদা ও দোয়ারাবাজারের টেংরা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ মো. জোবায়ের হোসাইন মজুমদার অভিযোগ করে বলেন, প্রসবের সময় শিশুটির মাথা বের হলেও কাঁধসহ শরীরের বাকি অংশ আটকে যায়। এ সময় চিকিৎসকদের অপরিকল্পিত টানাটানিতে শিশুটির মাথার পেছনে, গলায় ও পিঠে গুরুতর আঘাত লাগে। একপর্যায়ে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে শিশুটির মৃত্যু হয় বলে দাবি করেন তিনি।

 

জোবায়ের হোসাইন মজুমদারের অভিযোগ, পরিস্থিতি জটিল হওয়ার পর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে খবর দেওয়া হয়। তবে ততক্ষণে নবজাতকটি মারা যায়।

 

শিশুটির মৃত্যুর পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আচরণ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বজনরা। তাঁদের অভিযোগ, মৃত্যুর কারণ জানতে চাইলে চিকিৎসকেরা দুর্ব্যবহার করেন। পরে নিরাপত্তার অজুহাতে ধাক্কা দিয়ে তাঁদের হাসপাতালের কক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয়।

 

এ ঘটনায় নবজাতকের পরিবার চিকিৎসায় অবহেলা ও অনভিজ্ঞ চিকিৎসক দিয়ে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ তুলে জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে।

 

তবে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মাউন্ট এডোরা হাসপাতালের ব্যবস্থাপক শফিক আহমদ। তিনি বলেন, ‘শিশুটি পৃথিবীতে আসার আগেই মারা গিয়েছিল। নবজাতকের ঘাড় ভেতরে আটকে ছিল। তাই টেনে বের করার সময় শিশুটির মাথার পেছনে, গলার নিচে ও উরুতে আঘাত লাগে।’

 

তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় পরিবারের কোনো অভিযোগ থাকলে তারা সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক ল্যাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে পারেন। প্রয়োজনে তাঁরা আইনের আশ্রয়ও নিতে পারেন।

নামাজের সময়সূচি
  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৪:৩৩
  • ১১:৪৪
  • ৩:৫৬
  • ৫:৩৮
  • ৬:৫১
  • ৫:৪৫