দেশের বাজারে টানা তিন দফা বাড়ার পর এবার স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমানো হয়েছে। এতে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ টাকা।
শুক্রবার সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন দাম ঘোষণা করে বাজুস। সকাল ১০টা থেকে নতুন এ দাম কার্যকর হয়েছে।
বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম কমেছে। এ কারণে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিভিন্ন মানের স্বর্ণের নতুন দাম
নতুন দর অনুযায়ী, ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২৪ হাজার ৬৫ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯২ হাজার ৩৯৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৭ হাজার ১৭২ টাকা করা হয়েছে।
পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই দাম কার্যকর থাকবে বলে জানিয়েছে বাজুস। তবে অলঙ্কারের নকশা অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য হবে।
বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্বর্ণালঙ্কার ও রৌপ্যালঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় গ্রাহকের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট নেওয়া যাবে না। এ ছাড়া নির্ধারিত ভ্যাট, মজুরি ও পাথরের মূল্য বাদ দিয়ে অলঙ্কার এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রে বাজুসের আগের নিয়ম বহাল থাকবে।
এক দিন আগেই বেড়েছিল দাম
এর আগে সর্বশেষ গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সেদিন ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ১৩৩ টাকা বাড়ানো হয়। ফলে ভ্যাটসহ প্রতি ভরির দাম দাঁড়িয়েছিল ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭৭৯ টাকা।
সেদিন ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ২৬ হাজার ১৬৫ টাকা। ১৮ ক্যারেটের দাম ছিল ১ লাখ ৯৪ হাজার ২৬০ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ছিল ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৩০ টাকা। ওই দামও সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছিল।
১০৩ বার সমন্বয় এ বছর
চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ১০৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছে বাজুস। এর মধ্যে ৫১ দফা দাম বাড়ানো হয়েছে। সমানসংখ্যক ৫১ দফা দাম কমানো হয়েছে। আর এক দফা ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে।
গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়। কমানো হয়েছিল ২৯ বার।



