বুধবার মৌলভীবাজার সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার প্রতীক্ষায় প্রবাসী ও পর্যটন অধ্যুষিত চায়ের রাজধানী খ্যাত মৌলভীবাজার। কাল বুধবার (১৭ জুন) প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই প্রথম আসছেন মৌলভীবাজার।
প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করে তাঁকে বরণ করতে গেল ক’য়দিন থেকে জেলা জুড়ে উৎসবের আমেজ বইছে। স্থান সংকুলান না হওয়ার কারণে রাজনগর ডিগ্রি কলেজ ক্যাম্পাস হতে জনসভার স্থান পরিবর্তনের পর মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় খেলার মাঠে প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও দ্রুতগতিতে চলছে মাঠ,গ্রেইট,জনসভাস্থল ও মঞ্চ প্রস্তুতির কাজ। অল্প সময়ের মধ্যে চূড়ান্ত প্রস্তুতির জন্য রাতদিন কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন দলীয় নেতাকর্মী এবং প্রশাসনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। জনসভাস্থলসহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ প্রধান সড়কের আশপাশ এলাকায় চলছে সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ। সড়কের দু’পাশে ব্যানার,ফেস্টুন,তোরণ নির্মাণ করছেন দলীয় নেতাকর্মীরা।
জেলা,উপজেলা,পৌর ও ইউনিয়ন কমিটির দলীয় নেতাকর্মীদের তত্ত্বাবধায়নে চলছে নিজ নিজ এলাকায় মাইকিং। প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় প্রধানের আগমনকে স্বাগত জানিয়ে মিছিল,মিটিং আর শ্লোগানে মুখরিত হচ্ছে জেলার প্রতিটি উপজেলা শহর ও হাট বাজার। প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির দলীয় প্রধানের আগমনে তাঁকে সরাসরি একনজর দেখতে অপেক্ষার প্রহর গুনছেন উৎফুল্ল ও প্রাণবন্ত নেতাকর্মীরা। উৎসাহ উদ্দীপনার কমতি নেই দলমত নির্বিশেষে নানা শ্রেণি ও পেশার মানুষেরও।
জেলার হাটে,ঘাটে,মাঠে সর্বত্রই এখন আলোচনা এই জেলায় প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে। চলছে প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির হিসাব নিকাশ। প্রধানমন্ত্রীর আগমনে এ জেলার বাসিন্দারা যেমন আনন্দিত। তেমনি দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগ থেকে উন্নয়ন বঞ্চিত হওয়ায় থাকছে কাঙ্খিত নানা উন্নয়ন প্রত্যাশার জোরালো দাবি। এ জেলার কৃতিসন্তান সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী মরহুম সাইফুর রহমান এর করা উন্নয়নের পর দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগেরও বেশি সময়র পেরিয়ে গেলেও জেলাবাসির কাঙ্খিত উন্নয়নের নেই কোনো বাস্তবায়ন। দীর্ঘ দিন থেকে উন্নয়ন বঞ্চনার শিকার জেলার কোথাও নেই দৃশ্যমান উন্নয়নের ছোঁয়া।
১৭ জুন বুধবার মৌলভীবাজার সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ ও শ্রীমঙ্গল ভিক্টোরিয়া স্কুল খেলার মাঠ। এই দু’টি স্থানেই হবে প্রধানমন্ত্রীর ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠান। ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচী সফল করতে প্রস্তুতি সভা,মাঠ পরিদর্শনসহ সকল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছে। চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি।
জানা যায়, ওই দিন প্রধানমন্ত্রী মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের ১৫২ জন ও শ্রীমঙ্গল উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ১৫৬ জনসহ ফ্যামিলি কার্ডের পাইলট প্রকল্পের তৃতীয় পর্যায়ের আওতায় ৩০৮ জন উপকারভোগীদের মাঝে কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ও বিতরণ করবেন। প্রথমে দুপুর ১টার দিকে শ্রীমঙ্গলের ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ ও জনসভা শেষে ২.৩০ টার দিকে মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ মাঠে অনুষ্ঠান যোগদান করে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করবেন ও বক্তব্য রাখবেন। বিকেল সাড়ে ৩ টার দিকে তিনি সদর উপজেলার গিয়াসনগর নিতেশ্বর এলাকায় প্রয়াত অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী মরহুম এম সাইফুর রহমানের স্মৃতি বিজড়িত দুসাই রিসোর্টে পৌঁছানোর পর ৪.৪৫ টার দিকে সেখানে রাজনৈতিক সভায় অংশগ্রহণ করবেন।
প্রধানমন্ত্রীর কাছে জেলাবাসীর দাবি ও প্রত্যাশা এ জেলার সড়ক ও রেলপথসহ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন,শমসেরনগর বিমানবন্দর চালু,মেডিকেল কলেজ,পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন,যানজট নিরসনে শ্রীমঙ্গল,মৌলভীবাজার,কুলাউড়া বাইপাস সড়ক, ঢাকার সাথে এ জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন,নদী,হাওর,কৃষক ও জীববৈচিত্র রক্ষায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ,এ জেলার সম্ভাবনাময়ী পর্যটন শিল্পকে এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণসহ নানা উন্নয়নের জোর দাবি তাদের।
বিএনপির চেয়ারম্যানের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় ২য় জনসভা হয়ে ইতিহাসের স্বাক্ষী হয় এ জেলার শেরপুরের আইনপুরের মাঠ। ২০০৪ সালের পর তারেক রহমান এর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এ জেলায় এই প্রথম কোনো অনুষ্ঠান ও সমাবেশ হচ্ছে। জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান, জেলা বিএনপির আহবায়ক ও সাবেক পৌর মেয়র ফয়জুল করিম ময়ূন ও সদস্য সচিব আব্দুর রহিম রিপন,সদস্য মো: ফখরুল ইসলাম,সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মুজিবুর রহমান মজনু,সাধারণ সম্পাদক মারুফ আহমেদ জানান, প্রধানমন্ত্রীর ফ্যামেলি কার্ড বিতরণ ও জনসভার স্থান নির্ধারনের পর প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও দ্রুততার সাথে সকল প্রস্তুতি প্রায় শেষ। প্রধানমন্ত্রী ও আমাদের দলের প্রধানকে বরণ করতে জেলাবাসী প্রতীক্ষায় রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘীরে আনন্দে উদ্বেলিত জেলাবাসী তাদের নানা উন্নয়নের দাবি তোলছেন। বিগত সাড়ে ১৫ বছর উন্নয়ন পিছিয়ে পড়া এ জেলারবাসী নানা উন্নয়নের দাবি অত্যন্ত যৌক্তিক।আমাদের প্রত্যাশা জনগণের দাবি প্রধানমন্ত্রী বাস্তবায়িত করবেন।
এদিকে মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবে মৌলভীবাজারের সামাজিক সংগঠন বোরহান উদ্দিন (র:) ইসলামিক সোসাইটি’র উদ্যোগে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে জেলারবাসীর পক্ষে ৫ দফা উন্নয়ন দাবি জানিয়েছেন। লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এম মুহিবুর রহমান মুহিব দাবিগুলো তুলে ধরেন। তা হলো মৌলভীবাজারে সরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপন,জেলার ছোট বড় হাওরগুলো সুরক্ষা,শমসেরনগর বিমানবন্দর চালু,পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, মৌলভীবাজার,কুলাউড়া,শ্রীমঙ্গল বাইপাস সড়ক নির্মাণ, ঢাকা সিলেট রেলের ডাবল লাইন ও ট্রেনের সংখ্যা বৃদ্ধি করা।



