ভ্যাপসা গরমের রাতে ঘুম আসতে চায় না। শরীরজুড়ে অস্বস্তি। মনে হয়, বরফঠান্ডা পানিতে গোসল করলেই বুঝি দ্রুত শরীর ঠান্ডা হবে এবং ঘুমও চলে আসবে। কিন্তু, আসলেই কি তাই? বিষয়টা মোটেও এমন নয়।
যুক্তরাজ্যের পোর্টসমাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মানব ও প্রয়োগিক শারীরবিদ্যার অধ্যাপক মাইক টিপটনের মতে, “খুব ঠান্ডা পানিতে গোসল করলে শরীরে হঠাৎ ঠান্ডার ধাক্কা লাগে। এতে অ্যাড্রেনালিন ও কর্টিসল নামের হরমোন তৈরি হয়, যা শরীরকে সজাগ ও সতর্ক রাখে। ফলে ঘুম আসার বদলে আরো সতর্ক বা চাঙা লাগতে পারে। ঘুমানোর আগে বরফঠান্ডা পানিতে গোসল না করাই ভালো। বরং শরীরকে ধীরে ধীরে ঠান্ডা করে ঘুমের প্রস্তুতি নেওয়া উচিত।”
ঘুমানোর আগে শরীর ঠান্ডা করতে বরং কুসুম গরম পানিতে গোসল বেশি কার্যকর। এতে ত্বকের দিকে রক্তপ্রবাহ বাড়ে এবং শরীরের অতিরিক্ত তাপ ধীরে ধীরে বের হয়ে যেতে পারে।
শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের অন্যতম প্রধান উপায় হলো রক্তসঞ্চালন। শরীর অতিরিক্ত গরম হয়ে গেলে ত্বকের কাছের রক্তনালিগুলো প্রসারিত হয়। তখন উষ্ণ রক্ত শরীরের ওপরের দিকে চলে আসে এবং তাপ বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে।
কিন্তু, খুব ঠান্ডা পানির ক্ষেত্রে ঘটে ঠিক উল্টোটা। শরীর নিজের তাপমাত্রা ধরে রাখতে রক্তসঞ্চালন কমিয়ে দেয় এবং ত্বকের দিকে রক্তপ্রবাহও বন্ধ করে দেয়। টিপটনের ভাষায়, “এতে শরীরের ভেতরের তাপ আটকে যায়।”
কিছু সময় পর অবশ্য সেই তাপ শরীর থেকে বের হবেই। তবে, শরীরের ভেতরের অংশ থেকে ত্বকে এবং সেখান থেকে বাতাসে তাপ পৌঁছাতে বেশি সময় লাগে।
তীব্র হিটস্ট্রোকের ক্ষেত্রে অবশ্য খুব ঠান্ডা পানি উপকারী। এমন পরিস্থিতিতে শরীরের রক্তসঞ্চালন ভেঙে পড়লে দ্রুত তাপ বের করে দেওয়ার জন্য কাউকে খুব ঠান্ডা পানিতে ডুবিয়ে রাখাই সবচেয়ে কার্যকর উপায় হতে পারে।
তবে, শুধু ঘুমানোর আগে শরীর ঠান্ডা করার জন্য বরফঠান্ডা পানি নয়, কুসুম গরম পানিতে গোসলই বেশি কার্যকর। এতে ত্বকের দিকে রক্তপ্রবাহ স্বাভাবিক থাকে এবং শরীরের তাপ ধীরে ধীরে বেরিয়ে যেতে পারে।
আদর্শ পানির তাপমাত্রা অবশ্য ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন হতে পারে। তবে, এটি সাধারণত ২০-এর মাঝামাঝি থেকে ২০-এর শেষের দিকের ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকার সম্ভাবনাই বেশি। অন্যদিকে, বরফঠান্ডা পানির তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে হতে পারে।



