সিলেটের পাম্পে দীর্ঘ লাইন, মিলছে না গ্যাস

গ্যাসের ভাণ্ডার খ্যাত সিলেট অঞ্চলেও দেখা দিয়েছে গ্যাস সঙ্কট। আবাসিকে এখনো স্বস্তি রয়েছে। তবে এরইমধ্যে পাম্পে গ্যাস সঙ্কট দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরের পর থেকে একে একে অধিকাংশ পাম্পই বন্ধ হয়ে গেছে। এসব পাম্পে শত শত গাড়ি দাঁড়িয়ে থেকেও গ্যাস পায়নি। এক পাম্প থেকে আরেক পাম্পে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন চালকেরা। তবুও মিলছে না স্বস্তি। এই অবস্থায় অস্বস্তি বিরাজ করছে সিলেটের পরিবহন সেক্টরে।

তবে জালালাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এলএনজি প্ল্যান্টে সমস্যার কারণে এ সঙ্কট দেখা দিয়েছে। আগামী দু’এক দিনের মধ্যে সঙ্কট কেটে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সিলেট জেলায় ৫৪টির মতো সিএনজি গ্যাস পাম্প রয়েছে।

মালিকেরা জানিয়েছেন, আগে থেকেই লিমিট দিয়ে রেখেছে জালালাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ। এই লিমিটের কারণে প্রতি মাসের শেষ সপ্তাহে সিলেট অঞ্চলে পরিবহনে গ্যাসের জন্য দুর্ভোগ পোহাতে হয়। গত এক সপ্তাহ আগে এভাবে হঠাৎ করেই গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে দেয়া হয়েছিলো। এতে পাম্প মালিক এসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ জালালাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনায় বসলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়।

সিএনজি ও পেট্রোল পাম্প এসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় নেতা জুবায়ের আহমদ চৌধুরী জানিয়েছেন, লিমিট দেয়ার কারণে এমনিতেই সিলেটে চাহিদার দুই তৃতীয়াংশ গ্যাস মিলে। মাসের শেষ দিকে এসে অনেক পাম্প বন্ধ রাখতে হয়। গত বুধবার জালালাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ চিঠি দিয়ে লিমিটের ৫০ শতাংশ গ্যাস কম দেয়ার কথা জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সেটি কার্যকর করেছে।

তিনি বলেন, ‘এটি কোনোভাবে সহ্য করার মতো নয়।’ এতে অস্থিরতা ও ক্ষোভ বাড়ছে বলে জানান তিনি।
সিএনজি পেট্রলপাম্প ওনার্স এসোসিয়েশনের সিলেট বিভাগীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ব্যারিস্টার রিয়াসদ আজিম আদনাদ জানিয়েছেন, সিলেটে প্রায় ৫৪টি গ্যাস পাম্প রয়েছে। এর মধ্যে গতকাল দুপুরের পর থেকে এক এক করে বেশিরভাগ পাম্পই বন্ধ হয়ে গেছে। গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ার কারণে যানবাহনে সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেন, ‘জালালাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ চাপ বাড়িয়ে দিলেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।’ ফের পুরোদমে বিক্রি করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।

এদিকে গ্যাস চাপ কম থাকার বিষয়ে ১০ আগস্ট সিলেটে বিজ্ঞপ্তি জারি করে রেখেছে জালালাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ। কোম্পানির ওয়েবসাইটে দেয়া ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এনএলজি টার্মিনাল এফএসআরইউ ত্রুটির কারণে জাতীয় পর্যায়ে অস্বাভাবিক হারে গ্যাসে সরবরাহ অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে হ্রাস পেয়েছে। ফলে সারা দেশের মতো সিলেট অঞ্চলেও স্বল্প চাপ বিরাজ করছে।

জালালাবাদ গ্যাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আতিকুর রহমান মানবজমিনকে জানিয়েছেন, এনএলজি টার্মিনালে সমস্যার কারণে সিলেট অঞ্চলে স্বল্প চাপ পরিলক্ষিত হচ্ছে। আমরা আশা করছি আগামী দু’এক দিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে। এই সময়ে সবাইকে ধৈর্য ধরার জানান তিনি।
পাম্প মালিকেরা জানিয়েছেন, সিলেটের যে গ্যাস রয়েছে, সেটির চাহিদা বেশি থাকায় জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়েছে। এতে করে সিলেট অঞ্চলে গ্যাসের সঙ্কট দেখা দিয়েছে। এজন্য তারা জালালাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষকে দায়ী করেন। এদিকে গতকাল বিকেলে নগরের কয়েকটি গ্যাস পাম্প ঘুরে দেখা গেছে কিছু কিছু পাম্পে চাপ কমের মধ্যে গ্যাস বিক্রি করছে। নগরের সুবহানীঘাটে হক পাম্পের দু’টি মেশিনের মধ্যে একটিতে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণে এ পাম্পে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন যানবাহনের চালকরা। তামাবিল রুটের ৫টি পাম্পের মধ্যে চারটিতেই গ্যাস পাওয়া যায়নি। তবে গ্যাস পাওয়ায় আশায় চালকরা প্রতিটি পাম্পে গাড়ি লাইনে রেখেছেন।

চালক মজির উদ্দিন জানান, গ্যাস না থাকলে গাড়ি চলবে না। এজন্য গাড়ি পাম্পে রেখে অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে। গ্যাস না থাকায় গাড়ি নিয়ে রাস্তায় বের হওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান তিনি।

সিলেট জেলা পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি হাজী ময়নুল হোসেন জানান, গ্যাস না থাকায় সিলেটে সড়কে গাড়ি কমে আসছে। চালকরা গাড়ি বন্ধ করে দিচ্ছেন। এ অবস্থা থেকে সহসাই উত্তরণ না হলে সিলেটের সড়কে যানবাহন সঙ্কট দেখা দেবে। দূরপাল্লার যানবাহনও চলাচল কমে আসতে পারে বলে জানান তিনি।

নামাজের সময়সূচি
  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৪:০৪
  • ১২:০২
  • ৪:৩৫
  • ৬:৩৬
  • ৭:৫৫
  • ৫:২৩