সিলেটের গোয়াইনঘাটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন। প্রায় তিন ঘণ্টার টানা অভিযানে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ৬ জনকে আটক করা হয়। এর মধ্যে ৩ জনকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হলেও অপর ৩ জনকে ‘বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০’ অনুযায়ী মোট ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। একই সঙ্গে বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত দুটি নৌকা ঘটনাস্থলেই ভেঙে বিনষ্ট করা হয়।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টা থেকে রাত ৭টা পর্যন্ত উপজেলার নতুন ভাঙা হাওর, বিছানাকান্দি জিরো পয়েন্ট, গোরাগ্রাম এবং মনরতল বাজার এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন গোয়াইনঘাটের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাকারিয়া হোসেন।
অভিযান চলাকালে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মোট ৬ জনকে আটক করা হয়। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সাক্ষ্য ও জবানবন্দির ভিত্তিতে যাচাই-বাছাই করা হয়। এতে ৩ জনের সরাসরি বালু উত্তোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা না থাকায় ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত না হওয়ার শর্তে তাদের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়। পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
অপরদিকে, অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বাকি ৩ জনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং সর্বমোট ১,৫০,০০০ (এক লাখ পঞ্চাশ হাজার) টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
এ সময় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত ২টি নৌকা ঘটনাস্থলেই ভেঙে বিনষ্ট করে দেওয়া হয়। এতে অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও টাস্কফোর্সকে সহযোগিতার জন্য অভিযানে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
অভিযান শেষে গোয়াইনঘাটের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাকারিয়া হোসেন বলেন, সরকারি সম্পদ ও পরিবেশ রক্ষায় অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে। পরিবেশের ক্ষতি করে এবং আইন অমান্য করে যারা বালু বা মাটি উত্তোলন করবে, তাদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও বিজিবি, পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সহযোগিতায় টাস্কফোর্স অভিযান ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না।



