সকালে নদীতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিলো খামারের শত শত হাঁস। কয়েক ঘণ্টা পর খবর আসে একসঙ্গে মারা গেছে বেশ কিছু হাঁস। ঘটনাস্থলে গিয়ে ৭০টি হাঁসের মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখে হতবাক হয়ে যান শাহাবুদ্দিন নামে এক খামারি। তার অভিযোগ নদীর পাড়ের একটি জমিতে ছড়িয়ে রাখা ধান খাওয়ার পরই হাঁসগুলো মারা গেছে। ওই ধানে বিষ মেশানো থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন তিনি।
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার বরমচাল ইউনিয়নের পূর্ব সিঙ্গুর এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় খামারটির আরও দুই শতাধিক হাঁস অসুস্থ হয়ে পড়েছে বলে দাবি করেছেন খামার মালিক শাহাবুদ্দিন (৩৫)। রবিবার ঘটনাটি ঘটলেও সোমবার বিষয়টি জানাজানি হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় বাসিন্দা শাহাবুদ্দিনের খামারে ‘ক্যাম্পবেল’ জাতের ৩১০টি হাঁস ছিলো। স্থানীয়ভাবে এসব হাঁস ‘টেপি হাঁস’ নামে পরিচিত। খামারের অধিকাংশ হাঁসই ডিম দিতো। প্রতিদিনের মতো রবিবার সকালেও হাঁসগুলোকে বাড়ির পাশের হাতপারি গাঙে ছেড়ে দেন তিনি।
খামারী শাহাবুদ্দিন বলেন, দুপুরের দিকে প্রতিবেশীদের কাছ থেকে হাঁস মারা যাওয়ার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যান। সেখানে গিয়ে তিনি ৭০টি হাঁসকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। একই এলাকায় স্থানীয় আরও ছয়টি হাঁসের মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে জীবিত হাঁসগুলো বাড়িতে নিয়ে আসেন তিনি।
খামারি আরো জানান, নদীর তীরবর্তী একটি জমিতে কিছু ধান ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখা ছিলো। মৃত হাঁসগুলোর পেটের ভেতর ওই ধান পাওয়া গেছে বলে দাবি তার। এ কারণে তার ধারণা, ধানের সঙ্গে কোনো বিষাক্ত পদার্থ মেশানো থাকতে পারে এবং তা খাওয়ার কারণেই হাঁসগুলোর মৃত্যু হয়েছে। তিনি আরও জানান, অসুস্থ হয়ে পড়া বাকি হাঁসগুলোর চিকিৎসা শুরু করা হয়েছে। একজন প্রাণিচিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী তাদের ওষুধ খাওয়ানো হচ্ছে। এতগুলো হাঁস মারা যাওয়ায় তিনি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে জানান। এ বিষয়ে তিনি কুলাউড়া থানায় অভিযোগ দিবেন বলে জানিয়েছেন।
বরমচাল ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো: ময়নুল হক সোনা মিয়া ঘটনাটিকে অমানবিক উল্লেখ করে বলেন, জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় কুলাউড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে খামার মালিককে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।



