
মুক্ত গণমাধ্যম দিবস আজ। কিন্তু প্রশ্ন রয়ে যায় বাংলাদেশে গণমাধ্যম কি সত্যিই মুক্ত? ফ্যাসিবাদের সময় যেভাবে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করা হয়েছিল, তার ছায়া যেনো এখনো কাটেনি। খুনি হাসিনার আমলে যে দমন-পীড়নের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিলো, তারই ধারাবাহিকতা বর্তমান সময়েও দেখা যাচ্ছে। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বিভিন্ন টেলিভিশন থেকে সাংবাদিকদের বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো, এমনকি চাকরিচ্যুত করার মতো ঘটনা ঘটছে যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এর ফলাফল কখনোই শুভ হতে পারে না।
বিএনপি ক্ষমতায় আসার অল্প সময়ের মধ্যেই Ekhon TV এখন টেলিভিশনের চারজন মেধাবী ও সাহসী সাংবাদিক Mahmud Rakib মাহমুদ রাকিব, Mohammad Azharuzzaman আজহার লিমন, Md. Belayet Hossain বেলায়েত হোসাইন ও Muzahid Shuvo মুজাহিদ শুভ চাকরিচ্যুত হয়েছেন। তাদের অপরাধ ছিলো সামাজিক মাধ্যমে গণভোট, জুলাই সনদসহ জনগণের আকাঙ্ক্ষার কথা তুলে ধরা। আজ ৭৫ দিন পেরিয়ে গেলেও তারা এখনো তাদের চাকরি ফিরে পাননি। একটি জাতি হিসেবে এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক। এমন নির্ভীক সাংবাদিকদের পেশায় টিকে থাকা দেশের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
শুধু তাই নয়, দেশের বিভিন্ন স্থানে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনাও উদ্বেগজনক হারে বেড়েই চলেছে। প্রতিকার যেনো নেই বললেই চলে। বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিক নেতাদের ওপর ছাত্রদলের হামলায় প্রায় ১০ জন আহত হওয়ার পরও কোনো দৃশ্যমান বিচার হয়নি। এই চিত্রই তুলে ধরে কতটা অনিরাপদ হয়ে উঠেছে গণমাধ্যমকর্মীদের জীবন।
আরও হতাশাজনক হলো বিভিন্ন টেলিভিশনের টকশো উপস্থাপকরা, যাদের ভূমিকা হওয়া উচিত ছিলো সত্য তুলে ধরা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা, তারাও এ বিষয়ে নীরব। সরকারদলীয় অতিথিদের কাছে চাকরিচ্যুত সাংবাদিকদের বিষয়ে প্রশ্ন তোলার সাহস তারা দেখাচ্ছেন না। বরং অনেকেই যেনো তোষামোদে ব্যস্ত।
সংসদেও বিরোধী দলের সদস্যদের কাছ থেকে এ বিষয়ে জোরালো অবস্থান দেখা যাচ্ছে না। তথ্যমন্ত্রীকে কঠোরভাবে প্রশ্ন করা বা জবাবদিহির আওতায় আনার কোনো কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়ে না। অথচ এই সাংবাদিকরাই তাদের বক্তব্য জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কারণে আজ শাস্তি ভোগ করছেন।
আজ জাতীয় প্রেসক্লাবে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে, উপস্থিত ছিলেন দেশের বিশিষ্ট সাংবাদিকরা এবং তথ্যমন্ত্রীও। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, চাকরিচ্যুত সেই চার সাংবাদিক কিংবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকদের ওপর হামলার বিষয়ে কারো মুখে কোনো কথা শোনা যায়নি।
মুক্ত গণমাধ্যম দিবসে স্মরণ করছি সেইসব নির্যাতিত, বঞ্চিত ও নিপীড়িত সাংবাদিকদের, যারা সত্য বলার “অপরাধে” চাকরি হারিয়েছেন কিংবা হামলার শিকার হয়েছেন। আপনাদের প্রতি রইল গভীর সম্মান, নিরন্তর শুভকামনা এবং অগণন ভালোবাসা।
সুলায়মান আল মাহমুদ
কোষাধ্যক্ষ, বাংলা প্রেসক্লাব, মিশিগান