মধ্যপ্রাচ্য সংকট

আমরা কি আকসার শেষ প্রত্যক্ষদর্শী!

আমরা কি আকসার শেষ প্রত্যক্ষদর্শী!

পৃথিবীতে রক্তপাত আদিকাল থেকেই চলছে। ইতিহাসের বিচারে আমরা এখন বাস করছি ওয়ার সিভিলাইজেশনে। এই যুদ্ধই হয়ত পৃথিবীকে শেষ পরিণতির দিকে নিয়ে যাবে। মধ্যপ্রাচ্য, ইরান, ফিলিস্তিন, রাশিয়া-ইউক্রেন, পাকিস্তান-আফগানিস্তান— যেখানেই সংঘাত; সেখানেই যুক্ত রয়েছে মার্কিন-ইসরায়েল। রক্তপাতের যে বর্বর আখ্যান তারা তৈরি করেছে, এর নজির মেলা ভার। স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, মসজিদ-উপাসনালয় থেকে নিয়ে নিরপরাধ-নিরস্ত্র মানুষের বসতবাড়ি, আশ্রয়কেন্দ্রের তাঁবু পর্যন্ত তাদের বোমা-বারুদের নিশানায় ভস্ম হচ্ছে প্রতিনিয়ত। সাত দশক থেকে ফিলিস্তিনে চলছে জাতিগত নিধন। বিশ্বসম্প্রদায় সেটা থামাতে কার্যকর কোনো উদ্যোগ তো নেয়নি; পরিহাস হলো ‘আন্তর্জাতিক আইন’ ফিলিস্তিনি নিধনকে গণহত্যা বলতেও রাজি না।

এই কলাম পোর্টালে যাচ্ছে, তখন ইরানে মার্কিন-ইসরায়েল আগ্রাসনের মাসপূর্তি হচ্ছে। ২০২৫ সালের জুনেও তারা দেশটিতে হামলা চালিয়েছিলো। ১২ দিন পর সেই যাত্রায় ‘সাময়িক বিরতি’ দেওয়া হয়। এবার ২৮ ফেব্রুয়ারির ইরানে প্রথম আঘাত এসেছে মেয়ে শিশুদের একটি স্কুলে। মার্কিন-ইসরায়েলের বোমায় প্রাণ হারিয়েছে দেড় শতাধিক ফুলসম শিশু। দ্বিতীয় দিনের হামলায় হত্যা করা হয়েছে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে। তিনি এমনতিইে জীবনের শেষ প্রান্তে ছিলেন। ৮৬ বছর বয়সে হত্যার মাধ্যমে ইরানিদের অন্তরে তাঁকে বরং অমর করা হলো। জীবিতদের চেয়ে মৃত হিরোরা যেমন বেশি প্রভাবশালী হন, খামেনিও সেই সারির উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে থাকবেন।

ইরানিরা খামেনিকে মহান শহিদ হিসেবে স্মরণ করবে। তাঁর শাহাদতকে ইমাম হুসাইন রা. শাহাদাতের সঙ্গে তুলনা করবে। রমজানে রোজা অবস্থার শাহাদাতও প্রতিরোধের চেতনায় মহিমা ছড়াবে। ইসলামি বিপ্লবের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা ইরানিদের মনোজতে খামেনি আলো ছড়াবেন শাশ্বত সাহসের প্রতীক হয়ে। যিনি শত্রুদের নিশ্চিত নিশানায় থেকেও জনগণকে ফেলে পালিয়ে যাননি। বাংকারে আশ্রয় নেননি। মার্কিন-ইসরায়েলের উন্নত প্রযুক্তি ও ইন্টেলিজেন্সের বড়াই আছে। তাদের সেই অহমের মুখে চপেটাঘাত হলো খামেনিদের বীরোচিত শাহাদাত। শেখ আহমাদ ইয়াসিন থেকে মোল্লা ওমর, উসামা বিন লাদেন, ইসমাইল হানিয়াহ, ইয়াহইয়া সিনওয়ার, আবু উবায়দাহ, হাসান নাসরুল্লাহ— এরা প্রত্যেকে জানতেন শত্রুর বুলেট তাঁদের খুঁজে ফিরছে। মৃত্যু থেকে বাঁচতে একজনও ভূগর্ভস্থ গোপন স্থানে আশ্রয় নেননি। একজনও না! নিজেদের কার্যালয়ে বা সম্মুখ সারির লড়াইয়ে জীবন দিয়েছেন প্রত্যেকে।

জিওপলিটিক্স না ধর্মযুদ্ধ
মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলমান সংঘাতকে অনেকেই শুধু জিওপলিটিক্স হিসেবে দেখতে চান। বাস্তবে সেটা শুধুই জিওপলিটিক্স নয়। এর সঙ্গে নিবিড় সংযোগ রয়েছে ধর্ম ও ধর্মীয় উপাদানের। পাওয়ার এক্সারসাইজ ও জিওপলিটিক্স পোশাক হলেও এই সংঘাতের স্পিরিটে শক্তভাবে রয়েছে ধর্ম। এবং সেটা ইসলামের সঙ্গে খ্রিস্টান-ইহুদি সভ্যতার দ্বন্দ্ব। এর কেন্দ্রে রয়েছে জেরুজালেম। জেরুজালেমে ইহুদি দখল প্রতিষ্ঠা করতেই রক্ত ঝরছে গোটা অঞ্চলে। জিওপলিটিক্স এখানে কাজ করছে জ্বালানি হিসেবে। হাদিসের ভাষ্যের ‘মালহামাতুল কুবরা’ ও বাইবেলের ‘আরমাগেডন’র প্রেক্ষিত রচনা হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে।

পশ্চিমা চিন্তক, রাজনীতিক, টক শো আলোচক থেকে রাষ্ট্রপ্রধান— সকলের মুখেই উচ্চারিত হয় ক্রুসেডের বয়ান। মুসলিম দেশগুলোয় আগ্রাসন চালানোর আগে ইসলামোফোবিয়া ছড়ানো তাদের পুরোনো অ্যাজেন্ডা। এভাবেই তারা জনমত তৈরি করে এসেছে। সম্প্রতি বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, মার্কিন ও ইসরায়েলের সেনাদের উদ্বুদ্ধ করতে ‘ক্রুসেডর জজবা’ ছড়াচ্ছেন কমান্ডারা। ২০০১ সালে আফগানিস্তানে আগ্রাসন চালানোর আগে ক্রুসেডের বয়ান উচ্চারিত হয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের কণ্ঠে। একাদশ শতাব্দীতে ব্যর্থ ক্রুসেডের মাধ্যমে জেরুজালেম দখলের যে স্বপ্নবোনা হয়েছিল, একবিংশ শতকে সেটি পূর্ণ করার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চলছে। এজন্যই ফিলিস্তিনের ভূমি দখল করে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে আগ্রাসী জায়োনিস্ট রাষ্ট্র ইসরায়েল।

পুরিম থেকে রোরিং লায়ন
এবার ইরানে হামলার প্রেক্ষিতেও রয়েছে ধর্মীয় উপাদান। ‘অপারেশন রোরিং লায়ন’ নামে আগ্রাসন চালাচ্ছে ইসরায়েল। এই নামও নেওয়া হয়েছে ওল্ড টেস্টামেন্ট (তোরাহ) থেকে। হামলার শুরুর দিনক্ষণেও রয়েছে গভীর ধর্মীয় সংযোগ। ২ মার্চ থেকে ইসরায়েলে পুরিম উৎসব পালনের ঠিক আগে হামলা চালানো হয় ইরানে। পুরিমের যোগসূত্রও সরাসরি ইরানের সঙ্গে। প্রাচীন পারস্যের রাজা অহশ্বেরশের মন্ত্রী হামান ইহুদিবিরোধী অভিযান শুরুর পরিকল্পনা নিয়েছিলেন। এর জন্য দিনক্ষণও ঠিক করা হয়েছিল। কিন্তু সেই পরিকল্পনা ভেস্তে দিয়েছিলেন রাজার ইহুদি স্ত্রী এস্থার। এর ফলে রক্ষা পেয়েছিলো পারস্যের ইহুদিরা। খামেনিকে ইসরায়েলিরা প্রাচীনকালের হামানের সঙ্গে তুলনা করে। এমনকি কযধসবহবর নামের ইংরেজি বানান থেকে প্রথম ও শেষের দুই অক্ষর বাদ দিয়ে তারা ‘হামান’ও আবিষ্কার করে ফেলেছে! তাই এবার পুরিম শুরুর ঠিক আগের দিন তাঁকে হত্যা করে উৎসবের আমেজ বাড়াতে চেয়েছে ইসরায়েল।

শুধু রোরিং লায়নই নয়, আয়রন ড্রোম থেকে নিয়ে ইসরায়েলের সিংহভাগ সমরাস্ত্র ও সামরিক আগ্রাসনের নাম নেওয়া হয় ইহুদি ধর্মগ্রন্থের উৎস থেকে। এর মাধ্যমে তারা জারি রাখতে চায় ‘মাসিহ আদ্-দাজ্জাল’-এর আগমন, প্রতিশ্রুত ভূমি পুনরুদ্ধার ও থার্ড টেম্পল নির্মাণের চেতনা।

মার্কিন-ইসরায়েল আগ্রাসন : ক্রুসেডের পদধ্বনি
উসমানি সাম্রাজ্যের পতন ঘটিয়ে ব্রিটেনের সহায়তায় ইসরায়েল প্রতিষ্ঠা হলেও এখন জায়োনিজমের অন্ধ রক্ষাকবচের ভূমিকায় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইসরায়েলকে রক্ষায় পুরো দুনিয়াকে ত্যাগ করতে সে রাজি। ইসরায়েল মানবাধিকার ভূলুণ্ঠিত করুক, নির্বিচার গণহত্যা চালাক, যে-কোনো দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করুক— যুক্তরাষ্ট্র তবুও ইসরায়েলকেই রক্ষা করে যাবে। দেশটির ক্ষমতায় ডেমোক্র্যাটিক বা রিপাবলিকান; যে দলই বসুক, তাতে এর ব্যত্যয় হবে না। আমেরিকার বর্তমান ট্রাম্প রেজিমের প্রভাবশালী অবস্থানে রয়েছেন ইসরায়েলের প্রেমে একচোখা ক্রুসেডের প্রবক্তা রাজনীতিক ও কুশীলবরা।

ধর্মপরিচয়ে ট্রাম্প খ্রিস্টান হলেও তার নীতি ও প্রায়োরিটি পুরোপুরি জায়োনিস্ট প্রভাবিত। ট্রাম্পকে ইহুদিরা ‘মাসিহা’ হিসেবে গণ্য করে। সাইরাসের মতো মহান হিসেবে মর্যাদা দেয়। ট্রাম্পের হাত ধরেই তারা গ্রেটার ইসরায়েল প্রতিষ্ঠা করতে চায়। কথিত ‘প্রতিশ্রুত ভূমি’ ও মাসিহার জন্য নির্মাণ করতে চায় থার্ড টেম্পল। বিতর্ক ও সমালোচনার মুখেও জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী ঘোষণা ও আব্রাহাম অ্যাকর্ডস সে প্রকল্প বাস্তবায়নেরই প্রথম ভিত।

মার্কিন রাষ্ট্রযন্ত্রকে অষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে আছে ইহুদিরা। ‘জায়োনিস্ট বেবিকে’ তুষ্ট করতে তার পায়ে পুরো দুনিয়া লুটিয়ে দিতেও কুণ্ঠিত নন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়নে ট্রাম্পের ঘরে জামাই হিসেবে আগেই ডুকেছেন কট্টর জায়োনিস্ট জ্যারেড কুশনার। ইহুদি অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়নে কুশনার ছড়ি ঘুরাচ্ছেন সর্বত্র। এছাড়াও ট্রাম্প প্রশাসনে কট্টর ক্রুসেডার হিসেবে আছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ও ইসরায়েলে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি। এদের মধ্যে সবচেয়ে সমালোচিত নাম পিট হেগসেথ। টিভি উপস্থাপক থেকে রাজনীতিতে এসে প্রতিরক্ষা সচিবের মতো স্পর্শকাতর পদ বাগিয়ে নেওয়া হেগসেথের মনস্তত্ত্ব বুঝতে তার একটি বইয়ের নামই যথেষ্ট। বিতর্কিত সেই বইয়ের নাম ‘আমেরিকান ক্রুসেড’। ২০২০ সালে প্রকাশিত বইয়ে গণতন্ত্র ও বামপন্থীদের তুলোধুনার পাশাপাশি ইসলামকে পরাজিত করতে আমেরিকান ক্রুসেডের ডাক দিয়েছেন তিনি।


২০১৮ সালে ইসরায়েল সফরের সময় এক আলোচনায় পিট হেগসেথ ইহুদিদের স্বপ্ন দেখাচ্ছেন :- ‘১৯৬৭ সাল একটি মিরাকল, জেরুজালেমকে রাজধানী ঘোষণা একটি মিরাকল। থার্ড টেম্পল নির্মাণের মিরাকল বাস্তব হওয়াও খুব দূরে নয়।’


হেগসেথ : মার্কিন প্রতিরক্ষায় দাজ্জালি সেনা
হেগসেথের শরীরের ট্যাটুতে উগ্র ক্রুসেডের স্লোগানের পাশাপাশি আরবিতে যে শব্দ লেখা রয়েছে, সেটি শুনলে অনেকের চোখ কপালে উঠতে পারে। মুসলিমদের প্রত্যেকে জানেন, পৃথিবীর শেষ সময়ে দাজ্জালের আবির্ভাব হবে, তার কপালে স্পষ্টভাবে কাফির লেখা থাকবে। হেগসেথ ঠিক সেটাই করেছেন। তার শরীরে আরবিতে কাফির ট্যাটু আঁকিয়েছেন। সেই ছবি আবার তার এক্স অ্যাকাউন্টে পোস্ট করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট করেছেন, ইহুদিরা যে মাসিহার (দাজ্জালের) অপেক্ষায় রয়েছে, তিনি সগৌরবেই সেই কাফিরকে সেলিব্রেট করছেন। স্বাগত জানাচ্ছেন। শুধু স্বাগত জানানোতেই ক্ষ্যান্ত নন তিনি। দাজ্জালের পথ বিনির্মাণেও তিনি মরিয়া।
২০১৮ সালে ইসরায়েল সফরের সময় এক আলোচনায় পিট হেগসেথ ইহুদিদের স্বপ্ন দেখাচ্ছেন :- ‘১৯৬৭ সাল একটি মিরাকল, জেরুজালেমকে রাজধানী ঘোষণা একটি মিরাকল। থার্ড টেম্পল নির্মাণের মিরাকল বাস্তব হওয়াও খুব দূরে নয়।’

থার্ড টেম্পল নিয়ে ইহুদিদের স্বপ্ন ও উত্তেজনা গোপন কোনো বিষয় নয়। এটা কোনো ষড়যন্ত্র তত্ত্বও নয়। জায়োনিস্টরা থার্ড টেম্পল নির্মাণে সকল কৌশল ও শক্তি নিয়োজিত রেখেছে। এ জন্যই জেরুজালেম এবং আরও নির্দিষ্ট করে বললে বায়তুল মাকদিস কম্পাউন্ড তাদের তাদের একচ্ছত্র দখলে নেওয়া জরুরি। এই দখলের পথে যারাই বাধা হবে বা হবার সম্ভাবনা থাকবে এমন ছোট-বড় সকল শক্তি ও গোষ্ঠীকে তারা ধুলোয় মিশিয়ে দিতে চাইবে। ৭ অক্টোবরের পর থেকে গাজায় সেটা করেছে। ইরাক, সিরিয়া, লিবিয়াকে আগেই ধ্বংস করা হয়েছে। এখন চলছে ইরান ধ্বংসের পালা।

ক্ষমতার পায়ে পিষ্ট নৈতিকতা
রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতা, সার্বভৌমত্ব ও মানবাধিকারের জন্য আন্তর্জাতিক বিধিবিধান রয়েছে। কমন নীতি-নৈতিকতা, সভ্যতা-ভব্যতা মেনে চলার রীতি রয়েছে প্রাচীনকাল থেকেই। কিন্তু ‘আধুনিক’ প্রযুক্তির পৃথিবীতে নীতি-নৈতিকতা খাবারের উচ্ছিষ্টের মতো ফেলনা হয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক রীতি-নীতিকে ডাস্টবিনে ছুড়ে ফেলেছেন ট্রাম্প। ফেরাউনের মতো পৃথিবীর ঈশ্বর ভাবতে শুরু করেছেন নিজেকে। যাকে খুশি মারছেন, ধরছেন এমনকি তুলে নিচ্ছেন। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তার বাসভবন থেকে কিডন্যাপ করে হাতকড়া পরিয়ে নিয়েছেন মার্কিন মুল্লুকে। একটা পিঁপড়াকে তুলে নিলে যেমন কারো কিছু আসে-যায় না, মাদুরোকে তুলে নেওয়ার পর তেমনই প্রতিক্রিয়াহীন দেখা গেলো গোটা বিশ্বকে। এরপর থেকেই স্পষ্ট ছিলো একই পরিণতির মুখে পড়তে যাচ্ছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি। খামেনিকেও তুলে নিতে পারেন এমন জল্পনাও ছিলো তুঙ্গে। ট্রাম্প বাহিনী সেই কোশেশ নিশ্চয় করেছে। কিন্তু মাদুরোর মতো খামেনি সহজ টার্গেট হওয়ার সম্ভাবনা না থাকায় দূর থেকে বোমা মেরে তাকে হত্যা নিরাপদ পথ বেছে নিয়েছে মার্কিন-ইসরায়েলের খুনি বাহিনী। মাদুরোকে তুলে নেওয়ার ৫৬ দিনের মাথায় হত্যা করা হলো একটি স্বাধীন দেশের সর্বোচ্চ নেতাকে। এর মাধ্যমে ট্রাম্প এটাই প্রতিষ্ঠা করলেন এখন যে কেউ যে-কোনো দেশের সরকার প্রধানকে, প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রীকে মেরে ফেলতে পারে।

আমাদের চোখের সামনেই ধ্বসে যাবে আকসা!
কোনো কিছুই যখন নিয়ম মেনে হচ্ছে না, নীতি-নৈতিকতার তোয়াক্কা করা হচ্ছে না। তাই পৃথিবীকে প্রতিমুহূর্তে বড়সড় প্রলয় দেখার অপেক্ষায় থাকতে হবে। বিশ্ব মুসলিমের অন্তরে এখনো রক্তক্ষরণ ঘটায় বাবরি মসজিদ। যদিও এই মসজিদের সঙ্গে ইসলামি নিদর্শন ও বিশ্বাসের বাড়তি কোনো যোগসূত্র নেই। তবুও প্রাচীন মসজিদের দুঃখজনক শাহাদাত এখনো হৃদয় ভারাক্রান্ত করে। মুসলিমদের জন্য হয়তো প্রলয় হিসেবে অপেক্ষা করছে মসজিদে আকসা ও ডোম অফ দ্য রকের ‘অনিবার্য’ পরিণতি। ইসলামি ঐতিহ্যে-বিশ্বাসের এ দুটো নিদর্শনকে ইহুদিরা ধসিয়ে দিতে চায়। শুধু চায় বললে, কম বলা হয়। আকসা ও ডোমকে বাবরি মসজিদের মতো ধসিয়ে দিতে পুরোপুরি প্রস্তুত জায়োনিস্টরা। কবে, কখন, কীভাবে হবে— সেটা আগাম বলার সুযোগ নেই। গাজায় লাইভ গণহত্যার নিরব সাক্ষী ছিলাম আমরা। হয়তো আমাদের সময়েই লাইভ সম্প্রচার হবে বোমায় আকসা ধ্বসে যাওয়ার অপমানজনক করুণ দৃশ্য। মুসলিম বিশ্ব সেই দৃশ্য কীভাবে সহ্য করবে, কি প্রতিক্রিয়া হবে— সেটা নিয়ে কিছু বলাটা ‘বাগাড়ম্বর’। এমন কিছু হয়ে গেলে যেকোনো প্রতিক্রিয়াই অসার। অক্ষমের অশ্রুবিসর্জন ও হাপিত্যেশ সেরেফ মূল্যহীন।

ইরান আগ্রাসন : আকসা ধ্বংসের প্ল্যান?
আকসা ও ডোমকে ধসিয়ে দিতে জায়োনিস্টরা প্রতিজ্ঞ— এতে কোনো সন্দেহ নেই। যেকোনোভাবে সেটি তারা বাস্তব করতে চায়। কিন্তু এখানেও খেলতে চায় বড়ধরণের খেলা। মধ্যপ্রাচ্যের সকল রাষ্ট্রকে মার্কিন-ইসরায়েল নিজেদের বগল বাদা করে রেখেছে ইরান জুজু দেখিয়ে। সব আরব দেশে ঘাঁটি বানিয়ে তারা বসে আছে। মধ্যপ্রাচ্যের আয়েসি আমির-উমারাদের তারা বাচ্চাদের মতো বুঝিয়ে রেখেছে, ‘শিয়া ইরান’ সুন্নিদের নিঃশেষ করে দিতে চায়। ‘কিউট বেবি’ বাদশাহরা এই বোঝ লজেন্সের মতো দশকের পর দশক থেকে চুষে যাচ্ছে। প্রতিরক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পদতলে নিজেদের সমর্পণ করে রেখেছে। এই অঞ্চলে একমাত্র মুসলিম রাষ্ট্র ইরানই যুক্তরাষ্ট্রের দাসত্ব গ্রহণ করেনি। ইরানকে বশে আনতে ৪৬ বছর থেকে নিষেধাজ্ঞার জালে আটকে রেখেছে। এতেও সফল না হওয়ায় ইরানের অহমকে ধুলোয় মিশিয়ে দিতে মরিয়া আমেরিকা-ইসরায়েল। ইরান তাই এখন অস্তিত্বের অসম লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছে।

নিজেদের রক্ষায় ইরান মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটি ও কৌশলগত স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে। এমন হামলা হতে পারে সেটা যুক্তরাষ্ট্র আগেই আঁচ করেছিলো। একারণে ইরানের নিশানায় থাকা সকল ঘাঁটি থেকে ৯০ শতাংশ সেনা সরিয়ে নিয়েছিলো। মার্কিন ঘাঁটিতে জবাবি হামলার পাশাপাশি ইরানি মিসাইল ও ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানছে ইসরায়েলজুড়ে। বাদ যাচ্ছে না জেরুজালেমও। আর এটাকেই আকসা ও ডোম ধ্বংসের প্ল্যান বাস্তবায়নের সুযোগ হিসেবে নিতে চাচ্ছে জায়োনিস্ট ইসরায়েল। তারা চাচ্ছে ইরান থেকে আসা কোনো মিসাইল ভুল করে হলেও আকসায় হিট করুক। কার্যত এমনটা হয়ে গেলে ইরান শুধু যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের শত্রু থাকবে না। শিয়া-সুন্নী বিরোধ আগ্রাসী অবস্থায় পৌঁছবে। ইরানজুজুকে কার্যকর ও প্রমাণিত অস্ত্র করা যাবে। এমনটা যদি না ঘটে, একই কাণ্ড ইসরায়েল নিজেই ঘটিয়ে ইরানের উপর দায় চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টাও করতে পারে। দু’ভাবেই লাভবান হবে শুধু ইসরায়েল। শত্রুতার নতুন বীজ বপন হবে মধ্যপ্রাচ্যে। শত্রুপক্ষ পরিকল্পনায় রয়েছে এগিয়ে। চোখ বন্ধ রেখে প্রলয় ঠেকানো যাবে না?

নামাজের সময়সূচি
  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৩:৩৯
  • ১১:৫৪
  • ৪:২৯
  • ৬:৪০
  • ৮:০৫
  • ৫:০৪